বিশ্বকাপ
মরক্কোর সঙ্গে প্রথমার্ধ যেন ৭-১ এর দুঃস্বপ্নের মতো!

সংগৃহীত ছবি
কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকে নিয়ে সমর্থকদের ছিল অনেক স্বপ্ন। বড় ধাক্কাটা তারা খেয়েছেন মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই। শুধু পয়েন্ট হারানো নয়, ব্রাজিলের খেলার ধরন হতাশ করেছে কোটি ভক্তকে। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবো তো একধাপ এগিয়ে বলছে, মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধ যেন জার্মানির কাছে ৭-১ এ গোলে হারার দুঃস্বপ্নের মতো!
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিল ছিল ছন্নছাড়া। মরক্কোর কাছে প্রথম গোল হজম করে আনচেলত্তির দল। ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত গোলে সমতা ফিরলেও প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে লেগেছে অচেনা এক দল।
২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে প্রথমার্ধে ৫ গোল হজম করেছিল ব্রাজিল। মরক্কোর সঙ্গে এত গোল অবশ্য খায়নি ব্রাজিল। তবে খেলার ধরন, প্রতিপক্ষের আক্রমণের মুখে বেহাল দশা, সবদিক মিলিয়ে সেই ম্যাচের সঙ্গে মরক্কোর ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটের মিলই পেয়েছেন গ্লোবোর কলামিস্ট ফার্নান্দো কালাস।
১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর মরক্কো মাত্র দ্বিতীয় দল, যারা ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যেই ব্রাজিলের গোলমুখে ৫টি শট নিতে পেরেছে! ব্রাজিল রক্ষণভাগকে ওই সময় লেগেছে রীতিমতো দিশাহারা।
কালাস ‘গ্লোবো’তে লিখেছেন, ‘জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের হারের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে ৪৫ মিনিট কেটেছে মরক্কোর বিপক্ষে আজকের প্রথমার্ধে। এরপর ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, তবে তা বদলি খেলোয়াড়দের হাত ধরে। ইবানেজ, ইগর থিয়াগো ও কাসেমিরো খুবই জঘন্য খেলেছেন। আমার ধারণা, ইবানেজ, থিয়াগোকে পরের ম্যাচে দেখা যাবে না।’
দলের অন্যতম সুপারস্টার রাফিনিয়াও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। এই বার্সা তারকা ‘অটো চয়েস’ থাকবে কি না, প্রশ্ন তুলেছেন কালাস।
গ্লোবোর আরেক কলামিস্ট গুস্তাভো পোলির দাবি, কোচ কার্লো আনচেলত্তি এখনো সেরা একাদশই খুঁজে পাননি। তিনি লিখেছেন, ‘প্রথমার্ধের একাদশ একদমই কাজে আসেনি। ইবানেজ, থিয়াগোর প্রথম একাদশে থাকা উচিত নয়। বল পায়ে না থাকলেও থিয়াগো প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন, এই কারণেই তাকে নামানো হয়েছিল। কিন্তু তার মুভমেন্টে ঘাটতি ছিল এবং একমাত্র পাওয়া সুযোগটিও তিনি নষ্ট করেছেন।’
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের খেলায় উন্নতির পেছনে ফ্যাবিনহো, পাকেতার ভূমিকা তুলে ধরে পোলি বলেন, ‘ফ্যাবিনহো মাঠে এসে মাঝমাঠে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনেন। কাসেমিরোর চেয়ে অনেক ভালো খেলেছেন। দানিলো আসায় উইংয়ের ধারও অনেক বেড়েছে। পাকেতা শুরুটা খুব বাজে করলেও সময়ের সঙ্গে খেলায় ফিরেছেন। রাফিনিয়া প্রচুর দৌড়েছেন, কিন্তু খুব বেশি অবদান রাখতে পারেননি। আনচেলত্তি স্পষ্টতই তার চূড়ান্ত শুরুর একাদশ এখনো খুঁজে পাননি।’
ব্রাজিলের পরের ম্যাচ ২০ জুন, হাইতির বিপক্ষে।


