বিশ্বকাপের মঞ্চে বন্ধুত্বের গল্প

জুড বেলিংহাম ও মরগ্যান রজার্স
‘বন্ধু চল, বলটা দে, রাখব হাত তোর কাঁধে। গল্পেরা ওই ঘাসে, তোর টিমে, তোর পাশে’— ওপেনটি বায়োস্কোপ ছবিতে অনুপম রায়ের গাওয়া আর অনিন্দ চট্টোপাধ্যায়ের কথায় বহুবার শোনা গানটা কী অদ্ভুতভাবেই না জুড়ে গেল হাজার মাইল দূরের জুড বেলিংহাম আর মরগ্যান রজার্সের জীবনে। ফুটবল গোল, পৃথিবীও গোল। তাই তো ফুটবলে মুছে যায় দেশ, কাল, সীমানার মানচিত্র। শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচ লিখে চলে জীবনের গল্প।
জুড বেলিংহাম আর মরগ্যান রজার্স, ইংল্যান্ডের স্টারব্রিজ শহরের ফুটবলে মেতে থাকা দুই কিশোর। দুজনেরই রক্তে আছে জ্যামাইকার রেগে সুর। খেলার মাঠেই দুজনের পরিচয়, সেখান থেকে বন্ধুত্ব। একসঙ্গে খেলেছেন বয়সভিত্তিক দলে। দুজনে খেলেনও একই পজিশনে। তবে বেলিংহামের ক্যারিয়ারটা যেভাবে তরতর করে এগিয়েছে, রজার্সের জীবনের যাত্রাটা ততটা সহজ ছিল না। বেলিংহাম বয়সভিত্তিক দলেই ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হয়েছেন। এরপর বার্মিংহাম থেকে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড হয়ে গেছেন রিয়াল মাদ্রিদে। অন্যদিকে রজার্সকে ম্যানচেস্টার সিটি সই করালেও একটি ম্যাচও খেলতে পারেনি সিটিজেনদের হয়ে। ধারে প্রিমিয়ার লিগের নিচের ধাপের কয়েকটা ক্লাবে খেলে এখন খেলছেন অ্যাস্টন ভিলায়।
রজার্স জানতেন, বেলিংহাম দলে থাকলে শুরুর একাদশে তার জায়গা হবে না। পাঁচটা ম্যাচেই ইংল্যান্ডের হয়ে মাঠে নেমেছেন রজার্স, তবে সেটি শেষ দিকেই বেশি। নরওয়ের বিপক্ষে নেমেছিলেন ৮৮ মিনিটে। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে তার দূর থেকে নেওয়া জোরাল শট লুফে নিতে ব্যর্থ নরওয়ের গোলকিপার নাইল্যান্ড, আলগা হয়ে মুঠো থেকে ছিটকে যাওয়া বলটা জালে পাঠাতে একদমই ভুল করেননি বন্ধু বেলিংহাম। এ যেন বিশ্বকাপের মাঠে বন্ধুত্বের এক অদ্ভুত নিদর্শন গড়লেন দুজনে।
ইংল্যান্ডের পশ্চিম মিডল্যান্ডস অঞ্চলের বাসিন্দা দুজন, তাদের ছোটবেলার দুই ক্লাব ওয়েস্ত ব্রমউইচ অ্যালবিওন আর বার্মিংহাম একে অন্যের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও তা তাদের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলেনি। বরং ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৫ ও ১৭ দলে দুজনের একসঙ্গে সুযোগ পাওয়া ও বেড়ে ওঠায় সম্পর্কটা হয়েছে গাঢ়। বেলিংহাম এক বছরের ছোট হলেও তিনিই উপদেশ বেশি দেন মরগ্যানকে। আবার ২০২৪ সালে মরগ্যান যখন প্রথমবার ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজনের কৈশোরে একসঙ্গে খেলার ছবি প্রকাশ করে লিখেছিলেন, ‘লিভিং ইট।’ সেই রসায়নটাই কাজ করল নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও এ রসায়নটা চাইবেন ইংলিশ সমর্থকরা।




