আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ
কেপ ভার্দে অধিনায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ!

বিশ্বকাপের নকআউটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আসরের সবচেয়ে পুঁচকে দেশ কেপ ভার্দে। ঐতিহাসিক এই মহারণের আগে দলটি পড়েছে এক মহাসংকটে। কেপ ভার্দে অধিনায়ক রায়ান মেন্দেসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে তদন্ত শুরু হওয়ার খবর দিয়েছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো স্পোর্ত।
খবরে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল গত মার্চ মাসে ওশেনিয়া অঞ্চলে কেপ ভার্দের প্রীতি ম্যাচ খেলার সময়। নিউজিল্যান্ডে বসবাসরত এক ব্রাজিলিয়ান দোভাষী মেন্দেসের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। ওই নারী ফিফা উইন্ডোতে নিউজিল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশনের মাধ্যমে কেপ ভার্দে দলের সঙ্গে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২৭ মার্চ অকল্যান্ডে চিলির বিপক্ষে কেপ ভার্দের প্রীতি ম্যাচ শেষের পর হোটেলের একটি কক্ষে কাজ করতে যান ওই নারী। সেখানে খেলোয়াড়দের একটি পার্টি চলছিল। একপর্যায়ে অসুস্থ বোধ করায় তিনি নিজের কক্ষে ফিরে যান। কিন্তু ৩৬ বছর বয়সী কেপ ভার্দে অধিনায়ক জোরপূর্বক তার কক্ষে প্রবেশ করেন এবং তাকে ধর্ষণ করেন বলে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে দাবি করেছেন ওই দোভাষী।
১০ এপ্রিল অকল্যান্ডের একটি থানায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ডায়েরি করা হয়। নিউজিল্যান্ডের পুলিশ তদন্ত শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। চিকিৎসকদের করা ফরেনসিক রিপোর্টেও ওই নারীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা মামলার প্রমাণ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু প্র্যাগনেল জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর মে মাসেই তারা বিশ্ব ফুটবলের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন। ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং যেকোনো ধরনের অপকর্মের অভিযোগ তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখে। তবে স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়া চলায় এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সংস্থাটি।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেছেন, ঘটনার পর কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের কাছে সাহায্য চাইলেও তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাননি। তুরস্কের ক্লাব ইগদির এফকেয় খেলা অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রায়ান মেন্দেসের বিরুদ্ধে এই তদন্ত বিশ্বকাপ দলে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে এসেই নকআউট পর্বে জায়গা করে রূপকথা লিখেছিল আফ্রিকার এই দ্বীপ দেশটি। সেই ইতিহাসে কালিমা লেপন করতে এই একটি ঘটনাই যথেষ্ট।






