মেসিদের সামনে ভোজিনহা প্রাচীর

সংগৃহীত ছবি
গ্রুপের তিন ম্যাচেই তুঙ্গস্পর্শী আত্মবিশ্বাসের ছটা মিলেছে আর্জেন্টিনার খেলায়। লিওনেল মেসির ঝলক আর লিওনেল স্কালোনির বিচক্ষণতায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা পেয়েছে উড়ন্ত সূচণা। তাতে ভাসতে ভাসতে তারা পৌঁছে গেছে নকআউট পর্বে। এখন সময় এসেছে নড়চড়ে বসার। মাটিতে পা রাখার। নক-আউট পর্বে যে তাদের সামনে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিস্ময় কেপ ভার্দে।
অসম লড়াই মনে হতে পারে। অনেকে হয়তো ভাবছেন, ঐতিহ্য, সাফল্য, সামর্থ্যে যোজন এগিয়ে থাকা মেসির আর্জেন্টিনার কাছে পাত্তাই পাবে না ‘পুচকে’ কেপ ভার্দে। তবে দলটিকে দুর্বল ভাবতে নারাজ অস্ট্রেলিয়া, টটেনহ্যাম ও সেল্টিকের সাবেক কোচ আঞ্জে পোস্তেকোগ্লু। তার কথায়, ‘ফুটবল কীভাবে পৃথিবীর প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর প্রভাব কতটা গভীরে— এর প্রমাণ কেপ ভার্দে। রূপকথার গল্পকে সমৃদ্ধ করার পথে এখন তারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে। কী অসাধারণ গল্পই না লিখে ফেলছে সাহসী ফুটবলাররা!’
বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে কেপ ভার্দে নাম লিখিয়েছে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে। আফ্রিকার দ্বীপদেশটি অভিষেক রাঙায় সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিয়ে। এরপর আরেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে থমকে দেয়। শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র করে তিন পয়েন্ট নিয়ে তারা হয় এইচ গ্রুপ রানার্স-আপ। এখন তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের চ্যালেঞ্জ জানানোর অপেক্ষায়। আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনিরও মনে করেন কেপ ভার্দে হয়ে উঠতে পারে তাদের কঠিণতম প্রতিপক্ষ।
বেঞ্চের শক্তি পরখ করতে জর্ডানের বিপক্ষে একাদশে ৯টি পরিবর্তন এনেছিলেন স্কালোনি। সুযোগ পেয়ে সাইড বেঞ্চাররা পেয়েছেন লেটারমার্ক, ৩-১ গোলের জয় এনে দিয়েছে। অবশ্য এই জয়েও দীর্ঘদিন পর বদলী নামা মেসির আছে বড় ভূমিকা। জিওভানি লো সেলসোর অসাধারণ ফ্রি-কিকে এগিয়ে যাওয়ার পর লাউতারো মার্তিনেস ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙেন নিখঁুত স্পটকিকে। মেসি নেমে ৮০ মিনিটে ট্রেডমার্ক ফ্রি-কিকে করেন এই বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ গোল।
জর্ডান ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কেপ ভার্দে নিয়ে বলতে গিয়ে বেশ সতর্ক থাকলেন স্কালোনি, ‘তারা একটি ভালো দল। তারা গ্রুপের তিনটি প্রতিপক্ষকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল। তারা আমাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলবে। তারা ইতিমধ্যে অন্যতম ফেভারিট স্পেন, উরুগুয়ে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে এমনটা করেছে। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
কেপ ভার্দের রক্ষণ দূর্গের সেনাপতি গোলকিপার ভোজিনহা। ৪০ বছরের গোলকিপার স্পেনকে রুখে দিতে নিশ্চিত সাতটি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেন। উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষেও বুক চিতিয়ে খেলেছেন। এখন তাকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী আক্রমণভাগের সামনে পড়তে হচ্ছে। দলটির কোচ বুবিস্তা অসাধ্য সাধণের পর আর কোন কিছুকেই অসম্ভব মানছেন না, ‘আমাদের কাছে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দেশকে পুরো বিশ্বের সামনে তুলে ধরা। সেটা আমরা করে দেখিয়েছি।’ ৪ জুলাই মেসির বিপক্ষে খেলার সুযোগটাই বুবিস্তার কাছে বড় প্রাপ্তি, ‘ম্যাচের ফলাফল যাই হোক, এই ধরনের একটি পর্বে আর্জেন্টিনা এবং মেসির বিপক্ষে খেলতে পারাটা আমাদের জন্য ভীষণ গর্বের।’
মেসির বিশালত্বের প্রমাণ দিতে গিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আজ (রবিবার) মেসি ৯০ মিনিটই খেলতে পারত। প্রতিপক্ষকে কোনো অসম্মান না করেই বলছি, সে তার কিংবদন্তি মর্যাদাকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে পারত। কিন্তু সে তার সতীর্থদের খেলার সুযোগ করে দেওয়া এবং সামনে কী আসছে সেদিকে মনোযোগ দেওয়াটাকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছে। সবাই যে সংখ্যা বা রেকর্ডের কথা বলে, সেসবে সে মজে থাকে না। এটি আরও প্রমাণ করে যে জাতীয় দল, দলগত ঐক্য এবং সতীর্থরা তার কাছে সবার ওপরে।’




