মেসিতে মোহিত বিশ্ব

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
লিওনেল মেসি বিশ্বকাপে নামলেন এবং হৃদয় জিতে নিলেন। শুধু আর্জেন্টিনার সমর্থকের নয়, গোটা ফুটবল দুনিয়ার। ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সে বিশ্বকাপ শুরু করলেন হ্যাটট্রিক দিয়ে। চারদিকে এখন চলছে মেসির প্রশংসা।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে কানসাস সিটিতে মেসির হ্যাটট্রিকের ঠিক আগের ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন আর্লিং হলান্ড। জোড়া গোল করে নরওয়েকে জেতানোর পর দেখতে বসেছিলেন মেসির খেলা। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের হ্যাটট্রিকের পর হলান্ড স্ন্যাপচ্যাটে লিখেছেন, ‘মেসি সত্যিই একটা পাগল!’
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও তো পেলে-ম্যারাডোনাকে ছাপিয়ে মেসিকেই মেনে নিলেন সর্বকালের সেরা। স্প্যানিশ দৈনিক ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’য় তিনি বলেছেন, ‘মেসি যখনই ফুটবল মাঠে পা রাখে, তার চারপাশের সবকিছুই একেকটি ঐতিহাসিক এবং দৃষ্টিনন্দন মুহূর্তে রূপ নেয়। এই সত্যটি মেনে নেওয়ার সময় এসেছে যে, মেসিই সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। সে প্রতি মৌসুমেই নিজের সেরা পারফরম্যান্স ধরে রাখছে। এমনকি এই বিশ্বকাপেও। এটি এমন এক অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক রাত, যা চিরকালের জন্য ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’
বার্সেলোনায় একসময় মেসির সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভয় ছড়িয়েছেন ইব্রাহিমোভিচ। সুইডিশ তারকার বক্তব্য, ‘ফুটবলে দ্বিতীয় কোনো মেসি আসবে না। কারণ ও আসলেই বিশেষ কিছু, একদম ঈশ্বর প্রদত্ত প্রতিভা। মনে হয় ফুটবল খেলাটাই তৈরি করা হয়েছে মেসির জন্য। সে যা স্পর্শ করে, সেটিই সোনা হয়ে যায়। আর তার পাশে এমন একটা দল আছে, যারা মাঠে ওর জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত। আরেকটি বিশ্বকাপ জিতলে তার মর্যাদায় নতুন কিছু যোগ হবে না। সে এমনিতেই সবকিছুর ঊর্ধ্বে। এটি হবে তার ট্রফি ক্যাবিনেটে স্রেফ আরেকটি ট্রফি যুক্ত হওয়া। আমরা তার সঙ্গে খেলেছি এবং জানি সে কী জিনিস। সে যতদিন খেলবে, আমাদের উচিত স্রেফ চোখ জুড়িয়ে তা উপভোগ করা।’
প্রতিপক্ষ আলজেরিয়ার দিকে তাকানো যাক। তাদের কোচ-খেলোয়াড়রাও প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন মেসিকে। কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ বলেছেন, ‘ক্লাস চিরস্থায়ী।’
আফ্রিকার দেশটির ডিফেন্ডার ইব্রাহিম মাজাকে ম্যাচ শেষে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, মেসিকে থামানো এত কঠিন কেন? তিনি হাসতে হাসতে বলেছেন, ‘মেসি থিংস’।
মজার এই বক্তব্যটিই হেডিং করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান। সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, ৩৮ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের মঞ্চ আলোকিত করে চলেছেন মেসি।
বাইরের এত এত প্রশংসার ভিড়ে আর্জেন্টিনার কথা বলাই হয়নি। কোচ লিওনেল স্কালোনি তো কেঁদেই ফেলেছেন। আবেগে আপ্লুত আর্জেন্টাইন কোচ বলেছেন, ‘আমি বাকরুদ্ধ। ম্যাচ শেষে লিওকে জড়িয়ে ধরলাম, একটা চুমু দিলাম আর বললাম, আমি ওকে কতটা ভালোবাসি। এর বাইরে নতুন করে বলার মতো কোনো ভাষা আমার জানা নেই।’
আর্জেন্টিনা দলে মেসি প্রসঙ্গ এলে রোদ্রিগো দে পলের নামও চলে আসে। তাকে ডাকা হয় মেসির বডিগার্ড নামে। এই মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘লিও দলে থাকা মানে বাড়তি সুবিধা। ও যেভাবে পুরো দলকে নেতৃত্ব দেয় এবং সামনে এগিয়ে নেয়, তা অবিশ্বাস্য। ও কখনো ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে ভাবেই না। সবসময় দলকে অগ্রাধিকার দেয়।’
মেসির খেলা দেখতে স্ত্রী ব্রিটনিকে নিয়ে গ্যালারিতে ছিলেন আমেরিকান ফুটবলের কিংবদন্তি প্যাট্রিক মাহোমস। মেসি হ্যাটট্রিক পূরণের পর তিনটি ছাগলের ইমোজি, অর্থাৎ গ্রেটেস্ট অব অলটাইম পোস্ট করে জানিয়ে দেন— মেসিই ইতিহাসের সেরা।
শুধু মাহোমস নন, বাস্কেটবল তারকা ট্রাই ইয়ং, ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবল কিংবদন্তি অ্যালান শিয়েরার ও রিও ফার্ডিনান্ড প্রশংসা করেছেন মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সের।





