মামলার আসামি থেকে ব্রাজিল বধের অন্যতম কারিগর

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের জয়ে মূল নায়ক ছিলেন আর্লিং হলান্ড, দুটি গোলই এসেছে তার পা থেকে। কিন্তু মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আরেকটি নাম নজর কেড়েছে সমান গুরুত্ব নিয়ে। ২১ বছর বয়সী আন্দ্রেয়াস শেল্ডেরুপ দুটি গোলেই সরাসরি জড়িত ছিলেন। এটি প্রমাণ করে দিল বছরের পর বছর ধরে কেন তাকে নরওয়েজিয়ান ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনাময় প্রতিভা মনে করা হচ্ছে।
ব্রাজিলের বিপক্ষে বিরতির পর মাঠে নামেন বেনফিকা ফরোয়ার্ড। কোচ স্টেল সোলবাকেনের এই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ম্যাচের চেহারা। হলান্ডের দুটি গোলেই অ্যাসিস্ট করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় নরওয়ে।
এই মুহূর্তটি শেল্ডেরুপের ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, কারণ মাত্র কয়েক মাস আগেই আলোচিত এক মামলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি।
২০২৫ সালের নভেম্বরে নাবালকদের একটি আপত্তিকর ভিডিও শেয়ার করার দায়ে ডেনমার্কের আদালত শেল্ডেরুপকে ১৪ দিনের স্থগিত কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। অর্থাৎ তিনি যদি পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যে তিনি যদি কোনো অপরাধ করেন, তবে তাকে ১৪ দিন জেলে কাটাতে হবে। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ২০ দিনের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন, কিন্তু কোপেনহেগেন পৌর আদালত এর চেয়ে কম শাস্তিই যথেষ্ট মনে করে।
বিচার চলাকালে শেল্ডেরুপ নিজের দোষ স্বীকার করেন এবং তার কাজকে ‘একটি বোকামির ভুল’ বলে বর্ণনা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে ভিডিওটি তার কাছে আসে এরপর তিনি সেটি চার বন্ধুর একটি গ্রুপে পাঠিয়ে দেন এবং বিষয়টি বুঝতে পেরে এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে সেটি মুছে ফেলেন।
শুনানিতে শেল্ডেরুপ জানিয়েছেন, এটি ছিল তার বোকামির ভুল, ‘ভিডিওটা আমার কাছে একটা বাজে রসিকতা হিসেবে এসেছিল। তারপর আমি সেটি বন্ধুদের একটি গ্রুপে পাঠিয়ে সেই রসিকতাই চালিয়ে যাই। এটি একটি বোকামির ভুল ছিল।‘
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালে। তখন তিনি ডেনমার্কের ক্লাব নর্দশায়েলান্দে খেলতেন। শেল্ডেরুপ জানিয়েছেন, ছবিতে থাকা ব্যক্তিদের বয়স সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। মামলার পর থেকে তিনি এ ধরনের কনটেন্ট শেয়ারের ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানে অংশ নেওয়া শুরু করেন।




