ফাইনাল নিয়ে নির্ভার দে লা ফুয়েন্তে

দে লা ফুয়েন্তে রসিকতা করে বলেছেন, ‘আমি একটু নার্ভাস, কারণ আমাদের হেলিকপ্টারে করে ফিরতে হবে।
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে চিন্তায় কপালে ভাঁজ বিশ্ব জুড়ে সমর্থকদের। সেখানে যারা খেলছেন তাদের অবস্থা আরও করুণ। চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটানোর কথা। কিন্তু স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে সেসবের ধার ধারছেন না। উল্টো উড়িয়ে দিয়েছেন দুশ্চিন্তার সব সম্ভাবনার কথা।
বরং এসব নয়, হেলিকপ্টারে ভয় হচ্ছে তার। হেলিকপ্টার যাত্রা! হ্যাঁ, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রবিবারের মহারণ সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে হয়েছিল স্পেন কোচকে। টিম হোটেল থেকে নিউ ইয়র্কের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠানে হেলিকপ্টারে করে আসতে হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলন শেষে হেলিকপ্টারে করে হোটেলে ফিরতেও হবে। দে লা ফুয়েন্তেকে আর্জেন্টিনা বা ফাইনাল নয়— এ বিষয়টিই নাকি বেশি ভাবাচ্ছে!
অবশ্য এটি একদমই স্পেন কোচের রসিকতা। শুক্রবার নিউ ইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে রসিকতা করে বলেছেন, ‘আমি একটু নার্ভাস, কারণ আমাদের হেলিকপ্টারে করে ফিরতে হবে। আমরা হেলিকপ্টারে করে এসেছি, সংবাদ সম্মেলন শেষ হলে আবার হেলিকপ্টারে উড়তে হবে— এটিই আমাকে সত্যিই নার্ভাস করছে। আর কিছু নয়, আমি পুরোপুরি শান্ত।’
ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন ২০১০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে। বিপরীতে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। তবে ফাইনালে ওঠাকেই দে লা ফুয়েন্তে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।
তবে স্পেনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিঃসন্দেহে মেসি। তাকে ম্যান মার্কিং করা হবে কি না— এমন প্রশ্নে দে লা ফুয়েন্তে শোনান পুরনো এক অভিজ্ঞতা, ‘সেভিয়া যুব দলের কোচ থাকার সময় আমরা মেসিকে নিয়ে অবিশ্বাস্য গল্প শুনতাম। একবার স্প্যানিশ কাপে বার্সেলোনায় খেলতে গিয়েছিল। আমাদের পরিকল্পনা ছিল মেসিকে ম্যান মার্কিং করে রাখা। ৭০ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ গোলশূন্য অবস্থায় ছিল। এরপর যে মেসিকে মার্ক করছিল, সে কার্ড দেখে। আমি ওকে তুলে নিই। এরপর মেসি ১৫ মিনিটে চার গোল দেয়। তাই এটা বলতে পারি, মেসিকে ম্যান মার্কিং করে ফল হবে না। বরং আমরা তার ওপর খুব নজর রাখতে পারি।’
মেসির সঙ্গে স্পেনের ১৯ বছর বয়সী তারকা লামিন ইয়ামালের তুলনা নিয়েও সতর্ক কোচ। ‘মেসি একেবারেই অনন্য। সে একজনই। তরুণদের জন্য সে উদাহরণ হতে পারে। কিন্তু কেউ তার মতো হতে পারবে না। লামিনকে লামিন হয়েই বড় হতে হবে। আমরা তাকে যেমনটা দেখে এসেছি, সেই রকম হতে সাহায্য করতে পারি শুধু— বলেছেন ফুয়েন্তে।
ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ঊরুতে চোট পাওয়া ইয়ামালকে নিয়ে অবশ্য দুশ্চিন্তার কারণ দেখছেন না দে লা ফুয়েন্তে। তার ভাষায়, ইয়ামাল ‘পুরোপুরি ফিট’ এবং স্বাভাবিকভাবেই অনুশীলন করেছে।




