মেসি
লোকে যত কথাই বলুক, আমরাই সেরা

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পথটা আর্জেন্টিনার জন্য খুব একটা মসৃণ ছিল না। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে ছোট এবং মাঝারি দলগুলোর বিপক্ষে প্রচণ্ড লড়াই করতে হয়েছে। রেফারিং বিতর্ক পিছু ছাড়েনি। কোচ লিওনেল স্কালোনির কৌশল নিয়েও উঠেছিল প্রশ্ন। কিন্তু বিধ্বংসী পারফরম্যান্সে ইংলিশদের ২-১ গোলে উড়িয়ে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে লিওনেল মেসির দল। মেসি নিজেও একহাত নিয়েছেন সমালোচকদের।
ফাইনাল নিশ্চিতের পর টিওয়াইসি স্পোর্টসের মুখোমুখি হন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক মেসি। টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলা নিয়ে তিনি বলেন, ‘পরপর দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা সত্যিই এক পাগলাটে ব্যাপার, এই দলটি এককথায় অবিশ্বাস্য। আজ (গতকাল) যখন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছিল, আমরা আবারও লড়াইয়ে ফিরেছি। কখনো বিশ্বাস হারাইনি, চেষ্টা করে গেছি। পিছিয়ে পড়ার পরও আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলেছি। আমরা ওদের চেপে ধরেছিলাম এবং এটি আমাদের জন্য এক বিশাল আনন্দের বিষয়।’ দলের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নিয়ে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা যা অনুভব করছি তা অসাধারণ। যেভাবে সবকিছু ঘটছে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই এই দলের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা ছিল। আমি জানতাম যে শেষ চার দলের মধ্যে আমরা থাকবই এবং লড়াই করব। শেষ পর্যন্ত আমরা আরেকটি ফাইনালে পৌঁছে গেছি। (বিভিন্ন টুর্নামেন্ট মিলিয়ে) টানা পাঁচটি ফাইনাল; পরপর দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল! ভাবাই যায় না!’
এসময় সমালোচকদের এক হাত নিয়ে মেসি বলেন, ‘একটি বিশ্বকাপ জয় করার পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছানো মুখের কথা নয়। মানুষ পছন্দ করুক আর নাই করুক, তারা যত কথাই বলুক না কেন, গত চার বছর ধরে আমরাই সেরা। আজ আবারও আমরা বিশ্বের সেরা দুটি দলের একটি, যা প্রমাণ করে আমরা যা করেছি সেটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। কেউ আমাদের এটি এমনি এমনি উপহার দেয়নি। পরপর দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে যাওয়া এমন এক অর্জন যা খুব কম দলই পেরেছে। আমাদের এই দল তা করে দেখিয়েছে।’ বিশ্বকাপের জন্য নিজের দীর্ঘ প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘আমি গত বছরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং সবসময় স্কালোনির সাথে এটি আলোচনা করেছি। সেরা ফর্মে পৌঁছানোর জন্য আমি সম্ভাব্য সবকিছু করেছি। আমি টানা এক বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি ও কঠোর অনুশীলন করেছি। পুরো ডিসেম্বর মাস আমি আর্জেন্টিনায় সকাল-বিকেল অনুশীলন করে কাটিয়েছি। আমি জানতাম যে, নিজের সেরা ফর্মে পৌঁছাতে এবং খেলাটি উপভোগ করতে আমি আমার সবকিছু দিয়ে চেষ্টা করব। কারণ একটি বিশ্বকাপ উপভোগ করতে হলে শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ ফিট থাকা অত্যন্ত জরুরি।’






