বলছেন ইংল্যান্ড কোচ টুখেল
মেসিকে ৮৫ মিনিট আটকালে ৫ সেকেন্ডে সব ধ্বংস করে দেন

সংগৃহীত ছবি
৯০ মিনিটের ফুটবল খেলায় আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগে শেষের দশ মিনিট। এবারের বিশ্বকাপে এটি নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কেপ ভার্দে, মিসর, সুইজারল্যান্ডের পর এবার সেমি ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও শেষ মুহূর্তে চমক দেখিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। আর শেষ দিকে এই দুর্দান্ত ফিরে আসার গল্পের যিনি নির্মাতা, সেই কিংবদন্তি লিওনেল মেসির প্রশংসা করতে ভুলেন না প্রতিপক্ষরাও। এই তালিকায় যুক্ত হলেন খোদ ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল।
ম্যাচ শেষে মেসিকে প্রশংসার সাগরে ভাসিয়েছেন টুখেল। আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে তার কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ মনে করেন জার্মান কোচ, ’আমি ইতিহাসের সেরা কিছু ফুটবলারের বিপক্ষে কোচিং করিয়েছি, কিন্তু আজকের মতো রাতগুলোই মনে করিয়ে দেয় লিওনেল মেসি কেন অন্যদের থেকে আলাদা। আমরা পুরো সপ্তাহ ধরে তার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।‘
এছাড়া মেসির কৌশল তাকে মুগ্ধ করেছে বলে জানিয়েছেন টুখেল, ‘আপনি তাকে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখতে পারেন, কিন্তু আপনার গড়া সবকিছু ধ্বংস করতে মেসির মাত্র পাঁচ সেকেন্ড লাগে। আজ রাতে ঠিক সেটাই ঘটেছে। দুটি অ্যাসিস্ট, কোনো আতঙ্ক নেই, কোনো অপ্রয়োজনীয় মুভমেন্ট নেই, কেবল নিখুঁত ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা। সে জোর করে খেলা চালায় না। সে অপেক্ষা করে… আর আপনি একটি ভুল করলেই আপনার খেলা শেষ।‘
টুখেল মনে করেন মেসির গতি কিংবা শক্তি কোনোটিরই প্রয়োজন নেই। কারণ মাঠের প্রত্যেক ডিফেন্ডারের চেয়ে তার মস্তিষ্ক বেশি দ্রুত। সে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করে, জায়গা কাজে লাগায় এবং কোনো চেষ্টা ছাড়াই প্রতিপক্ষ দলকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়।
টুখেল স্বীকার করেন তার দল হেরেছে মেসির কাছে, ‘কখনও কখনও, একজন কোচ হিসেবে, আপনাকে একটি অস্বস্তিকর সত্য মেনে নিতে হয়। আমরা শুধু আর্জেন্টিনার কাছেই হারিনি, আমরা লিওনেল মেসির কাছে হেরেছি। আর সে যদি আজকের রাতের মতো ফাইনাল খেলে, তাহলে বাকি বিশ্বের খুব চিন্তিত হওয়া উচিত।‘
সেমিফাইনালে বিদায়ের হতাশা কাটিয়ে এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইংল্যান্ড।




