বিশ্বকাপ
টুখেলের কৌশল নিয়ে ড্রেসিংরুমে তোলপাড়

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারের ক্ষত এখনো দগদগে ইংল্যান্ড শিবিরে। আটলান্টায় সেই হারের পর থেকেই কোচ থমাস টুখেলের ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ ইংলিশ খেলোয়াড়রাই। শোনা যাচ্ছে, দলের অন্তত তিনজন সিনিয়র খেলোয়াড় কোচের রক্ষণাত্মক কৌশলের সরাসরি সমালোচনা করেছেন।
ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ডের রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ার বিষয়টি স্বাভাবিক হলেও, খেলোয়াড়দের মতে টুখেলের কৌশল এবং বদলি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্ত তাদের বিপদ ডেকে এনেছে। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি স্পোর্টস জানাচ্ছে, দলের ভেতরেই এমন একটি মত তৈরি হয়েছে যে, পিছিয়ে পড়ার সময় ইংল্যান্ডের উচিত ছিল পাল্টা চাপের মুখে ভেঙে না পড়ে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া।
এক সূত্র জানিয়েছে, “তারা অনেক আগেই খুব বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিল।”
খেলোয়াড়রা মনে করেন, প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট থেকে আর্জেন্টিনাকে দূরে রাখতে এবং রক্ষণের ওপর চাপ কমাতে পাল্টা প্রেস করা জরুরি ছিল। কিন্তু টুখেলের নির্দেশে দল যেভাবে রক্ষণভাগের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল, তাতে শেষ রক্ষা হয়নি।
সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়ে থমাস টুখেল নিজের ভুল স্বীকার করার চেয়ে পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন বেশি। তিনি বলেন, “গোল করার পর থেকে আমাদের বল পজিশন এবং খেলার গতি কমে যায়। আমরা খুব বেশি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলাম। আমি চেয়েছিলাম আমার ছেলেরা আরও সক্রিয় হোক, কিন্তু তারা পেরে ওঠেনি। আমরা কোনো দ্বৈরথেই জিততে পারছিলাম না, তাই বাধ্য হয়ে আমাদের আরও গভীরে যেতে হয়েছিল। এটা কখনোই পরিকল্পনা ছিল না, কিন্তু ঘটে গেছে।”
টুখেল আরও বলেন, “স্প্যানিশ বা আর্জেন্টাইনদের মতো বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে খেলা আমাদের ডিএনএ-তে নেই। এটিই বড় সমস্যা।”
ইংল্যান্ডকে শিরোপা জেতানোর লক্ষ্যেই টুখেলকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কোচের ট্যাকটিক্যাল ব্যর্থতা এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে এই দূরত্বের বিষয়টি এখন এফএর জন্য নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এফএ প্রধান নির্বাহী মার্ক বুলিহাম এখনো টুখেলের ওপর আস্থা রাখছেন ঠিকই, কিন্তু শনিবার ফ্রান্সের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ শেষে পুরো টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্স নিয়ে যে কড়া পর্যালোচনা হবে, তা বলাই বাহুল্য।
সাউথগেট যুগের পর টুখেলের ‘ট্যাকটিক্যাল জাদুতে’ ভরসা করেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই কৌশল যে বুমেরাং হয়েছে, যা এখন ফুটবলপাড়ার মূল আলোচ্য বিষয়। টুখেল ও খেলোয়াড়দের এই শীতল সম্পর্ক ভবিষ্যতে ইংল্যান্ডের আগামী ইউরো বাছাইপর্বে কেমন প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।




