মাথা উঁচু করেই ইরানের বিদায়

সংগৃহীত ছবি
একটা দলের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে যত নাটক হওয়া দরকার, সবটাই হয়েছে তাদের নিয়ে। বয়কটের হুমকি, নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা, ভিসা জটিলতা; হাজারটা বাধা পেরিয়ে ইরান খেলতে এসেছিল এবারের বিশ্বকাপ। ইরানের বিশ্বকাপের শেষটাও হলো চূড়ান্ত নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে। তবে বাদ পড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কিন্তু হারেনি ইরান! বিদায় নিয়েছে মাথা উঁচু করেই।
দুই দেশের মধ্যে চলছে রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধ। ইরান বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে আসবে কি না, সে নিয়ে শঙ্কা ছিল শেষমুহূর্ত পর্যন্ত। ইরান বিশ্বকাপে এলেও মাথায় ছিল হাজারটা বোঝা।
এই ইরানকে কতভাবেই না বিপাকে ফেলেছিল আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো বলেই দিয়েছিলেন, ইরান যেন নিরাপত্তার কথা ভেবে বিশ্বকাপ খেলতে না আসে। দলটির বেশিরভাগ স্টাফ ভিসা পাননি। ম্যাচের ভেন্যুতে তারা অবস্থান করতে পারেননি এক দিনও। দীর্ঘ যাত্রার ধকল সয়ে ম্যাচের পর আবারও ফিরতে হয়েছে মেক্সিকোর বেস ক্যাম্পে। ফিফা তো বটেই, বিশ্ববিবেকের কাছেও এই ইস্যুতে ক্ষোভ জানিয়েছিল ইরান।
এত ‘অবিচারের’ পরও কিন্তু দমানো যায়নি ইরানকে। গ্রুপ পর্বের সবকটি ম্যাচ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। শত্রু দেশের মাটিতে একটি ম্যাচেও হারেনি তারা! তিন ম্যাচেই ড্র করে ‘অজেয়’ থেকেই ট্রাম্পের দেশকে বিদায় বলছে টিম মেল্লি।
সরাসরি নকআউট পর্বে খেলার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে অন্তিম মুহূর্তের গোলে উল্লাসে মাতে ইরান।
তবে বিধিবাম। রেফারি বাজান অফসাইডের বাঁশি। ভিএআরে দেখা যায়, কয়েক ইঞ্চির ব্যবধানে হয়েছে সেই অফসাইড। জয় হাতছাড়া হয়ে ইরান তখন দিশাহারা। এভাবে নকআউট পর্বের কাছে গিয়েও স্বপ্নভঙ্গ হবে, কেউ দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি।
নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা এর পরেও ছিল ইরানের। তবে মিলতে হতো বেশ কিছু সমীকরণ। কী অদ্ভুত, মিলল না একটিও! ঘানা হারল ক্রোয়েশিয়ার কাছে। ডিআর কঙ্গো অবিশ্বাস্যভাবে হারিয়ে দিল উজবেকিস্তানকে। অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচের দিকে তাই তাকিয়ে ছিল ইরান। এই ম্যাচে যে দলই জিতুক, ইরান চলে যেত পরের রাউন্ডে। ড্র হলেই সর্বনাশ।
ইরানের ভাগ্য কতটা খারাপ, শেষমেশ হলো সেই ড্র-ই। রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে জিতল না অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া কেউই। ৯৪ মিনিটে রিয়াদ মাহারেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পথে এগিয়ে গিয়েছিল আলজেরিয়া। ইরান যখন নকআউটে যাওয়ার উল্লাসে মাতবে, ঠিক সেই সময় অস্ট্রিয়ার সাসা কালাসিচের গোলে ম্যাচ ড্র হয় ৩-৩ ব্যবধানে। ইরানের আনন্দ রূপ নেয় বিষাদে।
এক মিনিটেই বদলে গেল তিন দেশের ভাগ্য। অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া দুই দলই চলে গেল নকআউটে। একরাশ দীর্ঘশ্বাস ও আক্ষেপ নিয়ে বিদায় নিল ইরান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ইরানের এমন বিদায় মেনে নিতে পারছেন না। অনেকে তো অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচের ড্রয়ে খুঁজে পাচ্ছেন ‘ষড়যন্ত্রের’ গন্ধও।
অস্ট্রিয়া কোচ রালফ রাংনিক অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন কোনো ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’।




