ইংল্যান্ড কোচ
ভাগ্য ভালো ছিল, পারফরম্যান্স হতাশাজনক

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল লড়াই আর স্নায়ুচাপের চূড়ান্ত পরীক্ষা। ১২২ মিনিটের মহাকাব্যিক লড়াই শেষে যখন ফাইনাল বাঁশি বাজল, তখন ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা ক্লান্তিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। অথচ জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে ড্রেসিংরুমে থমাস টুখেলের কণ্ঠে ঝরল কঠোর অসন্তোষ। নিজের দলের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে সরাসরি ‘অখুশি’ প্রকাশ করেছেন ইংলিশ বস।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে টুখেল কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেন, 'আমরা ভাগ্যবান। জয়টি চমৎকার, শেষ চারে ওঠাটা দারুণ। কিন্তু সত্যি বলতে, পারফরম্যান্সের বিচারে আমি একদমই সন্তুষ্ট নই। আমরা নিজেদের খেলা নিজেরাই কঠিন করে ফেলেছি। খেলায় খুব বেশি ভুল ছিল, পাসিং ছিল এলোমেলো, গতি ছিল কম। সব মিলিয়ে খেলার মান ছিল হতাশাজনক।'
ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করাকে টুখেল কেবল ‘বিশুদ্ধ মানসিকতার’ জয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে কোচের এই কঠোর মন্তব্যে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করেছেন জোড়া গোল করা তারকা জুড বেলিংহাম। তিনি বলেন, “ফুটবল মানেই শুধু ১০০০ পাস দেওয়া নয়। কখনো কখনো নোংরা ফুটবল খেলেও জিততে হয়। মায়ামির গরম আবহাওয়ায় আর্লিং হালান্ড ও ওডেগার্ডদের বিপক্ষে খেলাটা কতটা কঠিন, তা সম্ভবত কোচ অনুভব করতে পারেননি।”
টুখেলের এই সমালোচনার প্রশংসা করেছেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন তারকারা। অ্যালান শিয়ারার বলেন, “টুখেল ঠিক কাজটিই করেছেন। এর আগে অনেক সময় আমরা দেখেছি কোচেরা দলের ভুল ঢাকার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু টুখেল কোনো ছাড় দেননি।” ওয়েইন রুনি যোগ করেন, “টুখেল শতভাগ সঠিক। মাঠে নরওয়ে অধিকাংশ সময় আমাদের চেয়ে ভালো ফুটবল খেলেছে, কিন্তু ইংল্যান্ডের মানসিক শক্তিই আজ জয় এনে দিয়েছে।”
ম্যাট আপসন অবশ্য আশাবাদী। তিনি বলেন, “মায়ামির অস্বস্তিকর আবহাওয়ার কারণে দল হয়তো ছন্দ হারিয়েছিল। আটলান্টায় সেমিফাইনালের আবহাওয়া এমন থাকবে না। আমি আশা করি, পরের ম্যাচে ইংল্যান্ড নতুন মানসিকতা ও ভিন্ন গতিতে শুরু করবে।”



