‘মেসি হলো পুরনো মদ’

লিওনেল মেসি
‘মেসি হলো পুরনো মদ; সময় যত যায়, তার তত উন্নতি হয়, অবিশ্বাস্য’— আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকের পর বলেছিলেন ১৯৯৪ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে ৪৪ ম্যাচ খেলা মার্সেলো গ্যালার্দো। এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন রিভালদো, ইব্রাহিমোভিচ, থিয়েরি অঁরির মতো কিংবদন্তিরাও। ৩৯ বছরের মেসি কীভাবে ২০ বছরের কিশোরদের মতো খেলছেন, সেটিই বিস্ময়?
বাস্তবতা হচ্ছে, এই বয়সে এসে বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে সেরা ফর্মে থাকাটা কোনো জাদু নয়। পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া, দক্ষ পেশাদারদের পরামর্শ আর সাফল্যের জন্য তীব্র ক্ষুধা, যা কোনো সুপার মার্কেটে কিনতে পাওয়া যায় না।
মেসি শুধু একের পর রেকর্ড ভাঙছেন না, বরং এই বয়সের কোনো ফুটবলারের বেলায় জীববিজ্ঞানের নিয়মে যা যৌক্তিক, তাকেও বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন। মেসির পুষ্টিবিদ স্প্যানিশ বিশেষজ্ঞ ইসমায়েল গালানচো ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছেন, কাতার বিশ্বকাপের চেয়েও এবার বেশি গতিতে খেলছেন তিনি! অথচ হওয়ার কথা ছিল উল্টো।
গালানচো লিখেছেন, ‘বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটবলারের গতি কমতে থাকে। সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে প্রতি বছর ১ থেকে ২ শতাংশ গতি কমে যায়। ৩৫ বছরের পর থেকে প্রতি বছর তা কমে ১.৫ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত। মেসির বেলায় তা হয়নি। উল্টো চার বছর আগের চেয়ে গতি বেড়েছে তার।’
গতি বাড়ার পরিসংখ্যানটাও তুলে ধরেছেন গালানচো, ‘২০০৯ থেকে ২০১৫ সালে মেসির সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩২.৫ থেকে ৩৩.৫ কিলোমিটার। কাতার বিশ্বকাপে তিনি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৯.৩৮ কিলোমিটার গতিতে ছুটেছিলেন। এই বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সে তার সর্বোচ্চ গতি ২৮.৩ থেকে ২৯.০৯ কিলোমিটার হওয়ার কথা। কিন্তু সোফাস্কোরের তথ্য অনুযায়ী মেসির গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০.৯ কিলোমিটার ছিল, যা ২০২২ সালের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি! এটি বিজ্ঞানকে বুড়ো আঙুল দেখানো।’
এ বছরের শুরুতে বন্ধু রোদ্রিগো দে পলের সঙ্গে শুরু করেন শারীরিক বিশেষ অনুশীলন। ইন্টার মায়ামির অনুশীলনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ট্রেনার আর ফিজিওথেরাপিস্টদের সঙ্গে করেন অতিরিক্ত সেশন।
খাদ্যতালিকায়ও করেছেন পরিবর্তন, ২০১৪ বিশ্বকাপের পর থেকে শুরু হয়েছে এটি। তখন তিনি ইতালির ক্রীড়া পুষ্টিবিদ গিউলিয়ানো পোজারের পরামর্শ নেন। খাবারের বদল আনায় মেসির শরীরের গঠন বদলে যায়, ওজন কমে আর পেশির ভর বৃদ্ধি পায়। পেশির চোটের প্রবণতাও কমে যায়। তাতেই ফিটনেসের চূড়ায় মেসি।




