স্কালোনিই আমাদের এতদূর এনেছে

আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি
আর্জেন্টিনা ও স্পেনের শিরোপা লড়াইয়ের ঠিক আগে নিউ ইয়র্কের জেভিটস সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বসেছিল তারকাদের মিলনমেলা। টেনিস কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ, সুপার বোল চ্যাম্পিয়ন টম ও বাস্কেটবল ইতিহাসে চারবারের অলিম্পিক সোনাজয়ী কেভিন ডুরান্ট ছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। সেখানে ফাইনালের প্রত্যাশার চাপ এবং ক্যারিয়ারের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন মেসি। তুলে ধরা হলো এর চুম্বক অংশ
প্রশ্ন: ফাইনালের মতো মঞ্চে প্রচণ্ড চাপ থাকে, আপনারা কীভাবে সামলান সেটি?
লিওনেল মেসি: শৈশব থেকেই ফুটবলের প্রতি অমোঘ টান অনুভব করি আমরা। স্কুল, রাস্তা, ক্লাব যেখানেই খেলি না কেন; সবসময় খেলাটি উপভোগ করি। সত্যি বলতে, আমরা কখনো চাপ নিয়ে ভাবি না। এটাকে স্বাভাবিকভাবেই নিই। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা পছন্দ করি। দলের সবাই জিততে চায়। তবে ফুটবল একটা দলীয় খেলা, যেখানে প্রতিপক্ষও থাকে। তাই সবসময় জেতা সম্ভব নয়। ছোটবেলা থেকেই শিখেছি, প্রতিটি পরাজয় শিক্ষা দেয়। এটিই আমাকে মানুষ ও খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলেছে।
প্রশ্ন: ২০০৭ সালে যে শিশুটির সঙ্গে (লামিন ইয়ামাল) ছবি তুলেছিলেন, সে ফাইনালে আপনার প্রতিপক্ষ। এই কাকতালীয় বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
মেসি: সত্যি বলতে, ছবিটি খুবই অদ্ভুত এবং আবেগময়। মানুষের জীবন যে এভাবে বাঁক নিতে পারে, আগে কখনো ভাবিনি। এত বছর আগে আমি তাকে কোলে নিয়েছিলাম, আর আজ আমরা বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে একে অন্যের প্রতিপক্ষ। এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। লামিন এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তার প্রতিভা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
প্রশ্ন: ১৯ বছর বয়সী ইয়ামালকে কি আপনি নিজের উত্তরসূরি মনে করেন?
মেসি: সে বার্সেলোনার হয়ে খেলছে, যে ক্লাবকে আমি ভালোবাসি। তাই তার ওপর আমার সবসময়ই বাড়তি নজর থাকে। আমি সবসময় তার সাফল্য কামনা করি। তবে তাকে আমার উত্তরসূরি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সে নিজেই এক অনন্য প্রতিভা। তার পুরো ক্যারিয়ার সামনে পড়ে আছে। সে এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় নাম। ফাইনালে অবশ্যই আমাদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করব, সে যেন খুব বেশি জ্বলে উঠতে না পারে। তবে ইয়ামালকে থামিয়ে রাখা খুবই কঠিন।
এত বছর আগে আমি তাকে কোলে নিয়েছিলাম, আর আজ আমরা বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে একে অন্যের প্রতিপক্ষ। এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। লামিন এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়
প্রশ্ন: আপনাদের দুজনের ক্যারিয়ারের শুরু এবং পথচলা নিয়ে কি কোনো তুলনা চলে?
মেসি: দেখুন, তুলনা করার মতো কিছু নেই। সে নিজেও কোনো তুলনা চায় না। আমার মনে হয়, সবারই নিজস্ব পথ থাকা উচিত। লামিন নিজের পথেই হাঁটছে, দারুণভাবে সফলও হচ্ছে। তার জন্য যা কিছু ভালো, সেসব বার্সেলোনার জন্যও ভালো। আমি তাকে শুভকামনা জানাই।
প্রশ্ন: সেই ঐতিহাসিক ফটোশুটটির অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
মেসি: তখন কেউ জানত না এই শিশুটি ভবিষ্যতে কী হবে, কিংবা আমি নিজে কোথায় গিয়ে পৌঁছাব। ২০০৭ সাল ছিল আমার শুরুর সময়। এ ঘটনাটি পুরোপুরি ভাগ্যের লিখন। আমার মনে হয়, এর পেছনে কোনো গাণিতিক যুক্তি নেই, এটি শুধুই জীবন ও ভাগ্যের এক দারুণ সমন্বয়।
প্রশ্ন: কোচ স্কালোনির সঙ্গে আপনাদের রসায়ন নিয়ে কিছু বলবেন?
মেসি: স্কালোনি আমাদের শুধু কোচ নন, আমাদের পথপ্রদর্শক। তিনি আমাদের দলটিকে একটি পরিবারে পরিণত করেছেন। আমরা একে অন্যের ওপর আস্থা রাখি, যা ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আমাদের বড় শক্তি।
প্রশ্ন: ফাইনালের প্রতিপক্ষ সম্পর্কে আপনার ভাবনা কী?
মেসি: স্পেনের খেলার ধরন অসাধারণ। তাদের সামর্থ্য আছে এবং তারা দারুণ ছন্দে আছে। তবে আমাদেরও শক্তি আছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে সেরাটা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।




