গোল্ডেন বুটই বিশ্বকাপ জেতায় না

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিশ্বকাপের শেষ রাত। মাত্রই শেষ হলো মহাযজ্ঞ। বিশ্বজয়ীরা ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে। চলছে উচ্ছ্বাসের ঢেউ। আর কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে একজন ফুটবলার। তার হাতেও মহাগুরুত্বপূর্ণ একটি ট্রফি— গোল্ডেন বুট। সেই মুহূর্তে তার মুখে হাসি থাকার কথা। স্মিত হাসি কখনো থাকে আবার কখনো না, কিন্তু এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে নীরব যন্ত্রণা। রাজ্যের বিষণ্নতা।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে এক অদ্ভুত ব্যাপার। সবচেয়ে বেশি গোল করে যে খেলোয়াড় গোল্ডেন বুট জিতেছেন, তার দল বিশ্বকাপ জিতেছে মাত্র চারবার। ২২ আসরে মাত্র চারবার! ব্যক্তিগত সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে ওঠা সেই তারকা পারেন না দলকে সেরায় রূপ দিতে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আট গোল করা কিলিয়ান এমবাপ্পের হাতে উঠেছিল গোল্ডেন বুট। হ্যাটট্রিকও পেয়েছিলেন ফাইনালে। কিন্তু শিরোপার হাসিটা মেসি এবং তার দল আর্জেন্টিনার।
২০১৮ সালে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ড থেমেছিল সেমিফাইনালে। ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ট্রফি জেতে ফ্রান্স। ২০১৪ সালে হামেস রদ্রিগেসের ছয় গোল মুগ্ধ করেছিল পুরো বিশ্বকে। অথচ তার কলম্বিয়া কোয়ার্টার ফাইনালের বেশি এগোতে পারেনি। এরও আগে ২০১০ সালে থমাস মুলার, ২০০৬ সালে মিরোস্লাভ ক্লোসার ব্যক্তিগত অর্জনের আনন্দ ফিকে হয় দলীয় হতাশায়।
গোল করতে পটু ফরোয়ার্ডের ওপর দল নির্ভর করে বেশি। কিন্তু বিশ্বকাপ জিততে হলে তার গোলই যথেষ্ট নয়, দরকার শক্তিশালী রক্ষণ, সংগঠিত মিডফিল্ড, পুরো দলের মিলিত প্রচেষ্টা এবং সবশেষে ভাগ্য। তাই বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোল্ডেন বুট বিজয়ীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ট্র্যাজিক হিরো। তার জন্য আছে করতালি, রেকর্ডবুকে নাম ওঠে। কিন্তু অধরাই থাকে সোনালি ট্রফিটা।
ওই ট্রফির সঙ্গে গোল্ডেন বুট— সোনায় সোহাগা ব্যাপার হয়েছে মাত্র চারবার। ১৯৭৮-এ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ছয় গোল করেন মারিও কেম্পেস। ১৯৮২-তে চ্যাম্পিয়ন ইতালির পাওলো রসি ছয় গোল করে হয়েছিলেন নায়ক এবং ২০০২ সালে চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও করেছিলেন আট গোল। তবে ১৯৬২ সালে চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের হয়ে চার গোল করেন গারিঞ্চা ও ভাতা, অবশ্য তাদের সঙ্গী হয়েছিলেন আরও চারজন।
আমেরিকায় কী হবে? গোল্ডেন বুটজয়ী কি পারবেন বিশ্বকাপ শিরোপার রোমাঞ্চ উপভোগ করতে!




