বিমর্ষ বিয়েলসা
তোমরা আমাকে একা ফেলে চলে গেলে!

‘উরুগুয়ে ফুটবলের জন্য আমি কিছুই রেখে যেতে পারলাম না’— মার্সেলো বিয়েলসার চরম হতাশা আর আক্ষেপ মেশানো এই একটি বাক্যেই উরুগুয়ে ফুটবলের ট্রেডমার্ক হয়ে উঠেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে উরুগুয়ের অপ্রত্যাশিত বিদায়ে কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন এই আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড। তবে মেক্সিকোর প্লেয়া দেল কারমেনের টিম হোটেলে শিষ্যদের বিদায় জানাতে গিয়ে বিয়েলসা এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা উরুগুয়ের খেলোয়াড়দের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা না করায় সাধারণ বাণিজ্যিক বিমানেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল উরুগুয়ে দল। বিমানে ওঠার আগে কোচ বিয়েলসা দলের ২৬ জন ফুটবলারকে হোটেলের একটি কক্ষে ডেকে পাঠান। সেখানে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বৈঠকটিতে শিষ্যদের উদ্দেশ্যে বিয়েলসা আবেগী বক্তব্য দেন।
গুয়াদালাহারায় স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের পর যতটা উত্তপ্ত পরিস্থিতি ছিল, বিদায়ী বৈঠকে বিয়েলসা ছিলেন ঠিক ততটাই শান্ত ও বিষণ্ণ। ফুটবলারদের মুখগুলোও ছিল থমথমে। সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল, যতক্ষণ না বিয়েলসার মুখ থেকে সেই ‘বোমা ফাটানো’ মন্তব্যটি আসে। অভিজ্ঞ ফুটবলারদের স্তব্ধ করে দিয়ে উরুগুয়ের বিদায়ী কোচ বলেন, ‘আমি খুব দুঃখ নিয়ে চলে যাচ্ছি, কারণ তোমরা আমাকে একদম একা ফেলে চলে গেলে!’বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পরপরই বিয়েলসা অবশ্য নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেছিলেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের শতভাগ উজার করে নিতে ব্যর্থ হয়েছি।’ আগামী মঙ্গলবার মন্তেভিদিওর সেন্সেনারিও স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন বিয়েলসা, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। অবশ্য উরুগুয়ের এই বিশ্বকাপ বিপর্যয় হুট করে হয়নি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই দলটির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ছিল বেশ বিষাক্ত। বিয়েলসার কঠোর ফুটবল দর্শনের বিরুদ্ধে সুয়ারেসের মতো কিংবদন্তির প্রকাশ্য সমালোচনা, অগাস্টিন কানোবিওর বিস্ফোরক অভিযোগ এবং মাঠের খেলায় দলের চেনা ছন্দ হারিয়ে ফেলা—সব মিলিয়ে বিয়েলসার বিদায়টা একরকম নিশ্চিতই ছিল। তবে বিদায়লগ্নে দলের ফুটবলারদের দিকে তার সেই উক্তি উরুগুয়ের ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘকাল এক দুঃখের অধ্যায় হিসেবেই থেকে যাবে।







