উইং থেকে
ব্রাজিল নিয়ে বড় আশা করাই উচিত হয়নি

নরওয়ের কাছে হেরে অসময়ে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। কেন তারা ব্যর্থ হল? এর কারণ খুঁজতে গেলে অনেক কিছু বের হয়ে আসবে।
ব্রাজিলের হারের কারণগুলো আমি তিন ভাগে ভাগ করতে চাই। প্রথমত, তারা হাই প্রেসিং করছিল এবং শুরুতেই একটা গোলও পেয়ে গিয়েছিল, যেটা অফসাইডে বাতিল হয়। ঠিক তার পরে ১৩ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে ব্রাজিল পেনাল্টি পায় এবং সেটা তারা কনভার্ট করতে পারেনি। পেনাল্টি কনভার্ট করতে পারলে ব্রাজিল হয়তো খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারতো। উল্টো গিমারেস গোল মিস করায় মোমেন্টাম হাতছাড়া হয় এবং নরওয়ে আরও বেশি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয়ার্ধে যখন এনদ্রিকে মাঠে এসেই একটা চমৎকার বল পেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাছ থেকে, সেখান থেকে তিনি ওয়ান ভার্সাস ওয়ান সিচুয়েশনে গোল করতে পারেননি। এই ধরনের ম্যাচে যখন একটা পেনাল্টি মিস হবে এবং ওয়ান ভার্সাস ওয়ান সিচুয়েশনে গোল মিস হবে, তখন আসলে ম্যাচটা আপনার জেতা উচিত না। কারণ নরওয়ে দারুণ একটা দল। এই ধরনের দলের যখন এরকম সুযোগ হাতছাড়া হবে তখন অবশ্যই শাস্তি পেতেই হবে। এটাই হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, এ ম্যাচে পার্থক্যটা গড়ে দিয়েছেন আর্লিং হলান্ড। তিনি কিন্তু শুরু থেকে সেরকম কোন হুমকি হয়ে দাঁড়াননি। তবে সত্যিকারের নাম্বার নাইন হিসেবে তিনি ৭৯ মিনিটে ঠিকই একটা চমৎকার হেডে ফিনিশ করেছেন। সেখানে ব্রাজিলের ডিফেন্সের ভুল অবশ্যই ছিল। এরপর ৮৯ মিনিটে সে আরেকটা পাওয়ারফুল স্ট্রাইক করেন বক্সের ১৬ মিটার বাইরে থেকে, তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয় এবং নরওয়ের জয় নিশ্চিত হয়।
তৃতীয় কারণ আমার মতে, ব্রাজিলের আক্রমণ কৌশলে ঘাটতি ছিল। মাঝমাঠে ব্রাজিল কখনোই বলের পজেশন প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি এবং কখনোই ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। পুরোটা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে নরওয়ে তাদের বল পজেশনিংয়ের মাধ্যমে। ফার্স্ট টাচ, ফার্স্ট অ্যান্ড সেকেন্ড বল, এই বলগুলোও ব্রাজিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। একটা দল যখন এতগুলো ভুলের ভেতর দিয়ে যায়, তখন সেই দল কিন্তু জয় পাওয়ার অধিকার হারিয়ে ফেলে।
নরওয়ের গোলকিপারের কথা বিশেষভাবে বলতে হয়। তিনি কেবল পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেননি। এনদ্রিকেকে গোল করতে সে বাধা দিয়েছেন, ভিনিসিয়ুস, গিমারেসের চেষ্টাগুলো রুখে দিয়েছেন। তার সেভগুলো নরওয়ের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
এই হারের পরও আমি বলবো, কার্লো আনচেলত্তি অন্যতম সেরা একজন কোচ। তিনি তার সেরা অস্ত্রগুলো চেষ্টা করেছেন ব্যবহার করার। তবে দলে অনেক চোট সমস্যা ছিল। রাফিনহা প্রস্তুত ছিলেন না, পাকেতারও চোট ছিল। সব মিলিয়ে আমি তাকে হারের দায় দিবো না।
সব শেষে মানতে হবে, ব্রাজিল এখন আর আগের মতো তারকাখচিত দল নয়। একটা সময় তাদের তারার অভাব ছিল না। আমার কাছে এই ব্রাজিল ভীষণ সাদামাটা একটা দল। এ কারণেই শক্ত প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে নামলে ব্রাজিল আগের মতো সে সম্মানটা আর পায় না। সত্যি বললে, এই ব্রাজিল নিয়ে বড় আশা করাই উচিত হয়নি।







