পেনাল্টি মিসের বিশ্বকাপ

কিলিয়ান এমবাপ্পে পেনাল্টি স্পটে দাঁড়ানোর আগেই এবারের আসরটি ‘পেনাল্টি মিসের বিশ্বকাপ’ হিসেবে কুখ্যাতি পেয়েছিল।
লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তির জাদুকরী কারিকুরি স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে পেনাল্টির ১২ গজে! এবারের বিশ্বকাপেই দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন তিনি। ব্রাজিলের শেষ ষোলো থেকে বাদ পড়ার অন্যতম কারণ ব্রুনো গিমারেসের পেনাল্টি মিস। শেষ ৩২-এ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে শট নেওয়ার আগে মিসরীয় খেলোয়াড়রা দেখেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পের নেওয়া পেনাল্টির ভিডিও। সেই এমবাপ্পেও পেনাল্টি মিস করলেন মরক্কোর সঙ্গে! তাতে ১৯৬৬ সালে ‘অপটা’ হিসাব রাখার পর থেকে এবারই পেনাল্টি মিসের হার সবচেয়ে বেশি। নির্ধারিত সময়ের খেলা আর পেনাল্টি শুটআউট মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে গোল করার হার মাত্র ৬৫ শতাংশ।
মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পে পেনাল্টি স্পটে দাঁড়ানোর আগেই এবারের আসরটি ‘পেনাল্টি মিসের বিশ্বকাপ’ হিসেবে কুখ্যাতি পেয়েছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এমবাপ্পে পেনাল্টি নেন দৌড় শুরুর পর থেমে। তার দুর্বল, নিচু শটটি সহজেই ঠেকান গোলকিপার।
এমবাপ্পের শটটির আগে নির্ধারিত সময়, অতিরিক্ত সময় ও শুটআউট মিলিয়ে ৫৯টি পেনাল্টির মধ্যে ২০টি মিস হয়েছিল এবারের বিশ্বকাপে। সাফল্যের হার ছিল ৬৬.১ শতাংশ। এই ফরাসি তারকার মিসের পর ৬০ পেনাল্টির মধ্যে মিস হলো ২১টি। সাফল্যের হার মাত্র ৬৫ শতাংশ!
এমবাপ্পের মিসসহ ওপেন প্লেতে ২০ পেনাল্টির গোল হয়েছে ১৪টি, মিস ৬টি। যার সাফল্যের হার মাত্র ৭০ শতাংশ। অপটা জানাচ্ছে, ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপে ওপেন প্লে পেনাল্টি থেকে গোল করার গড় ৭৯.১ শতাংশ। সেই হার থেকে পিছিয়ে এবারের আসর। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত এই বিশ্বকাপে চারটি টাইব্রেকার হয়েছে। সেখানে ৪০টি শটের ২৫টি জড়িয়েছে জালে আর মিস হয়েছে ১৫টি, সাফল্যের হার ৬২.৫ শতাংশ। জার্মানি-প্যারাগুয়ে ম্যাচে ১২ শটের মিস হয় পাঁচটি। নেদারল্যান্ডস-মরক্কো ম্যাচে ১০ শটের পাঁচটি। অস্ট্রেলিয়া-মিসর ম্যাচে আট শটের দুটি আর সুইজারল্যান্ড-কলম্বিয়া ম্যাচে মিস হয় ১০ শটের তিনটি। অপটার হিসাবে, বিশ্বকাপে পেনাল্টি শুটআউটে গোলের গড় হার ৬৯.৪ শতাংশ।
এবার বেশি ব্যর্থ হয়েছেন ডিফেন্ডাররা। এবারের বিশ্বকাপে ডিফেন্ডাররা ১১টি পেনাল্টির পাঁচটি জালে জড়ান, মিস করেন ছয়টি। সাফল্যের হার ৪৫.৪ শতাংশ, যা যেকোনো পজিশনের খেলোয়াড়দের তুলনায় সর্বনিম্ন।
মিসের এ তালিকায় নাম আছে ম্যানুয়েল আকাঞ্জি, ডাভিনসন সানচেজ, জোনাথন তাহ, ফ্যাবিয়ান বালবুয়েনা, লুকাস হেরিংটন ও হ্যারি সুটারের মতো ডিফেন্ডারদের। অপটার মতে, ২০১৪ সালের পর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই পেনাল্টির সাফল্যের হার কমেছে। এর কারণ গোলকিপারদের আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে প্রস্তুতি, শুটআউটের মানসিক চাপ, ভিএআর চেকে দেরি আর দীর্ঘ টুর্নামেন্টের মানসিক ক্লান্তি। এজন্যই যে পেনাল্টিকে গোল করার ‘নিশ্চিত সুযোগ’ ধরা হতো, তা এখন বড় ফাঁদ!




