তারপরও আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকবে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আর্জেন্টিনা ও মিসরের রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তায় ভরা। শেষ ১৫-২০ মিনিটের ঝড়ে ম্যাচটি জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখে আর্জেন্টিনা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। কলম্বিয়াকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে সুইসরা।
মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। লাউতারো মার্তিনেসের জায়গায় হুলিয়ান আলভারেস, থিয়াগো আলমাদার বদলে লিয়ান্দ্রো পারেদেস এবং লেফট ফুলব্যাকে তাগিয়াফিকোকে নামানো হয়। আর্জেন্টিনার ব্যাকলাইনে এবং ট্রানজিশনের যে দুর্বলতা ছিল, তা ঢাকতেই ডিফেন্স-মাইন্ডেড মিডফিল্ডার পারেদেসকে খেলান কোচ। তা সত্ত্বেও আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে পিছিয়ে দিয়েছিল মিসর। ম্যাচে মিসরের দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে একটি গোল বাতিল হওয়া নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। তবে আর্জেন্টিনা শেষ ২০ মিনিটের পারফরম্যান্সের জোরেই পিছিয়ে পড়ার পরও জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে।
এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার ডিফেন্সিভ ট্রানজিশনের দুর্বলতা প্রকট আকার ধারণ করেছিল। মিসরের দুর্বল ডিফেন্ডিং ও অগোছালো ব্লকের কারণে আর্জেন্টিনা গোল শোধ করার সুযোগ পেলেও ইউরোপিয়ান দল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কাজটা কঠিন হবে। ইউরোপিয়ান দলগুলো ট্যাকটিক্যালি অনেক বেশি ডিসিপ্লিন থাকে। অবশ্য এমন একটা ম্যাচ জিতে মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকা এবং ইনজুরি সমস্যা না থাকাটা আর্জেন্টিনার জন্য বড় প্লাস পয়েন্ট।
মিসর ম্যাচে কিছু সিদ্ধান্ত ছিল, সেগুলো নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, থাকবে। এর বাইরে আমি শুধু বলব যে, আর্জেন্টিনা শেষ ২০ মিনিট যে পারফরম্যান্স করেছে, তাতেই তারা ম্যাচটা বের করে নিয়ে যেতে পেরেছে। আর এটাও সত্যি যে, এই ম্যাচেও কিন্তু আর্জেন্টিনার ব্যাকলাইন এবং তাদের ডিফেন্সিভ ট্রানজিশনে যে দুর্বলতা, সেই দুর্বলতা আরও প্রকট হয়েছে। তাই এখানে একটা জিনিস বলতে হবে, সুইজারল্যান্ডের সঙ্গেও হয়তো সেই ধরনের জিনিসগুলোর মুখোমুখি তাদের হতে হবে। এটাই চ্যালেঞ্জ আর্জেন্টিনার।
৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলা সুইজারল্যান্ড বেশ শক্তিশালী দল। জাকারিয়া, রদ্রিগেজ, গ্রানিত শাকা, ফ্রুয়েলার এবং নাম্বার নাইনে এমবোলোদের নিয়ে গড়া সুইসদের মূল চ্যালেঞ্জ হবে লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আর্জেন্টিনার আক্রমণগুলো সামলানো।
আর্জেন্টিনার এই দলে আনহেল দি মারিয়ার মতো একজন ভার্সাটাইল উইঙ্গারের অভাব স্পষ্ট। বিগত বিশ্বকাপগুলোতে ওয়াইড এরিয়া থেকে কাটব্যাক, ক্রসিং বা ফিনিশিংয়ে ডি মারিয়া যে কার্যকারিতা দেখাতেন, তা বর্তমান দলে অনুপস্থিত। থিয়াগো আলমাদা বা এনসো ফের্নান্দেসরা ফ্ল্যাংক অপারেট করা বা ওপেন স্পেস ব্যবহার করে ক্রস করার ক্ষেত্রে তেমন ভূমিকা রাখতে পারছেন না। রাইট সাইডে দে পলেরও ক্রসিংয়ে কার্যকারিতা কম।
এই উইং খরা সত্ত্বেও সামগ্রিক শক্তির বিচারে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনাই এগিয়ে থাকবে এবং তাদের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।




