জার্মানি-নেদারল্যান্ডসের শুরু আজ

ছবি: রয়টার্স
সেমিতে ব্রাজিল, ফাইনালে আর্জেন্টিনা। ২০১৪ বিশ্বকাপে দুই লাতিন পরাশক্তিকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল জার্মানি। এরপর কী যে হলো তাদের! ২০১৮, ২০২২ পরপর দুই আসরেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়। হারানো গৌরব ফিরে পেতে আজ মাঠে নামছে চারবারের চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কুরাসাওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইউলিয়ান নাগলসমানের দল।
জার্মানি যেন গোল করতেই ভুলে গেছে। ২০১৪ সালে ব্রাজিলকে সাত গোল দেওয়া সেই দল গত দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে করেছে মাত্র আট গোল!
‘ফুটবল একটি সহজ খেলা, ২২ জন মানুষ ৯০ মিনিট বলের পেছনে ছোটে এবং শেষ পর্যন্ত জার্মানিই জেতে’— ইংলিশ কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারের বিখ্যাত সেই উক্তি কিন্তু গত দুবার খাটেনি। ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই যেন ‘শনি’ লেগেছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল এই দলের। মহান সেই উক্তির মালিক লিনেকার নিজেই তাই বলেছেন, ‘জার্মান যন্ত্র আর কাজ করছে না।’
‘যন্ত্রটা’ বন্ধ ছিল এবারের বাছাই পর্বের শুরুতেও। বাছাই পর্বের প্রথম ম্যাচে হেরেই বিপাকে পড়েছিল জার্মানরা। জামাল মুসিয়ালা, কাই হাভার্টজ, নিকোলাস ফুলক্রুগ ও গোলকিপার মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেনদের ইনজুরি ছিল মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। শেষ পর্যন্ত জার্মান যন্ত্রে পড়েছে বহু আকাঙ্ক্ষিত সেই ফুয়েল। দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকেই মূল পর্বের টিকিট কাটে নাগলসমানের শিষ্যরা।
জার্মান দলে এখন নেই ইনজুরি শঙ্কা। অবসর কাটিয়ে মানুয়েল নয়ারের ফেরা যোগ করেছে নতুন এক মাত্রা। দলের মূল তারকা ধরা হচ্ছে ইউশুয়া কিমিচকে। ৩১ বছর বয়সী কিমিচ জার্মান জাতীয় দলের নেতৃত্বে রয়েছেন অনেক দিন। হারানো গৌরব ফিরে পেতে এবারের বিশ্বকাপে জার্মানির অন্যতম ভরসা তিনি। এ ছাড়া তুরুপের তাস হতে পারেন ২৩ বছর বয়সী জামাল মুসিয়ালা।
‘ই’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে রাত ১১টায় হিউস্টনে জার্মানির সামনে আছে নবাগত কুরাসাও। বাছাই পর্বে চমক দেখিয়ে ইতিহাস গড়েই মূল পর্বে পা রাখা ছোট্ট এই দ্বীপ রাষ্ট্রটির সামনে জার্মানরাই পরিষ্কার ফেভারিট। বড় জয়ে শিরোপার অন্য দাবিদারদের একটা বার্তাই তাই দিতে চাইবেন নাগলসমান।
জার্মানির সঙ্গে আজ মাঠে নামবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ‘অভাগা’ দল নেদারল্যান্ডস। তিনবার ফাইনালে উঠে একবারও যে সোনালি ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখতে পারেনি ডাচরা! চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আবারও বিশ্বমঞ্চে কমলা জার্সিরা। ‘এফ’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ এশিয়ার পরাশক্তি জাপান।
জার্মানদের মতো ডাচদের শোকেসে এত এত ট্রফি নেই। কিন্তু আছে ‘টোটাল ফুটবলের জনকের’ তকমা। ইয়োহান ক্রুইফ যে পথ দেখিয়ে গেছেন, সেই পথে চলেও আসেনি সাফল্য। ঐতিহাসিকভাবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি হয়েও ক্রুইফের উত্তরসূরিরা এখনো বিশ্বকাপ ট্রফি জিততে পারেনি। সবশেষ ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় রোবেনদের।
কোচ রোনাল্ড কোমানের অধীনে এবার বেশ উজ্জীবিত ডাচ দল। দলে আছেন একঝাঁক তারকা। রক্ষণভাগে ভার্জিল ফন ডাইক যেন ডাচদের অভিজ্ঞতার প্রতীক। আর মাঝমাঠে ডি ইয়ং নিয়ন্ত্রণ করবেন ম্যাচের গতি। আক্রমণে মেমফিস ডিপাই তাদের প্রধান অস্ত্র, সুযোগ পেলে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন তিনি। এই ডাচ দলের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের কৌশল ও বল দখলে রাখার দক্ষতা।
অন্যদিকে জাপান বরাবরই বিশ্বকাপে আসে ডার্ক হর্স হয়ে। বড় দলগুলোকে চাপে ফেলার সক্ষমতা আছে তাদের। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানি ও স্পেনের বিপক্ষে জয়ের মতো বড় সাফল্য জাপানের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়েছে। শেষ পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়েই টুর্নামেন্টে পা রেখেছে জাপানিজরা। দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যানে নেদারল্যান্ডস এগিয়ে। জাপানের বিপক্ষে মোট তিনবার খেলেছে ডাচরা। ডাচদের জয় দুই ম্যাচে, ড্র একটিতে। ২০১০ বিশ্বকাপে একবারই দেখা হয়েছে দুই দলের। সেবার ১-০ গোলে জাপানকে হারিয়েছিল আরিয়ান রোবেনের দল।
এবার মাঝমাঠ দখল করে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে ডাচরা। অন্যদিকে জাপানের চেস্টা থাকবে কাউন্টার অ্যাটাক। লড়াইয়ের মধ্যেও থাকছে আলাদা লড়াই। তারকা খেলোয়াড়দের এই লড়াইও ম্যাচটিকে আলাদা মাত্রা দেবে। ফন ডাইক বনাম কুবো, ডি ইয়ং বনাম তানাকার মধ্যমাঠের দ্বৈরথই নির্ধারণ করতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। ডাচদের অভিজ্ঞতা বনাম জাপানের তারুণ্য ও গতির, কোনটির জয় হবে?
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এর আগে কখনোই নেদারল্যান্ডসকে হারাতে পারেনি জাপান। ২০২৬ বিশ্বকাপ দিয়ে সেই গেরো খুলতে চাইবে এশিয়ার দেশটি। ডালাসে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় মুখোমুখি হবে দুই দল।


