বিশ্বকাপ
মার্কিনিয়োসের পেনাল্টি না নেওয়ার রহস্য

সংগৃহীত ছবি
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তার পেনাল্টি মিসেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় ব্রাজিল। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে হারের পর মার্কিনিয়োসের সেই মলিন মুখ আজও ভুলতে পারেননি ব্রাজিল সমর্থকরা। মার্কিনিয়োসে স্ত্রী ক্যারল ক্যাব্রিনো এবার জানালেন, ওই ঘটনার পর থেকেই আর পেনাল্টি নেননি ব্রাজিল অধিনায়ক!
কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেই পেনাল্টি শুটআউটে ব্রাজিলের চতুর্থ শটটি নেন মার্কিনিয়োস। ব্রাজিলের এই সেন্টারব্যাক নিজের বাঁ দিকে শটটি নেন। ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার ডমিনিক লিভাকোভিচ উল্টো দিকে ডাইভ দিলেও ভাগ্য সেদিন ব্রাজিলের পক্ষে ছিল না।
পোস্টে লেগে ফিরে আসে মার্কিনিয়োসের শট। তাতে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে ব্রাজিল দলকে বাড়ি ফিরতে হয়। পেনাল্টি মিসের পর মার্কিনিয়োসের হাঁটু গেড়ে বসে পড়ার সেই দৃশ্য এখনো পীড়া দেয় সেলেসাও ভক্তদের।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে খেলোয়াড়দের স্ত্রীদের জীবন নিয়ে বানানো ‘কনভোকাদাস’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র মুক্তি দিয়েছে দেশটির টিভি চ্যানেল ‘গ্লোবো টিভি’। সেখানে ক্যাব্রিনো জানান, ‘সেদিনের পর মার্কিনিয়োস আর কখনোই পেনাল্টি শট নেয়নি। সেই দিনে আমার চেনা দুনিয়াটা ওলট–পালট হয়ে গিয়েছিল। যে মুহূর্তে বুঝতে পারলাম ও ভুল করে ফেলেছে এবং আমি জানতাম আমাকে ভীষণ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু ঘটনার ভয়াবহতা আমি পুরোপুরি টের পাই ওর কাছ থেকে একটি বার্তা পাওয়ার পর। ও আমাকে লিখেছিল, ওর ক্যারিয়ার হয়তো এখানেই শেষ, সবকিছু ধ্বংস করে ফেলেছে, ব্রাজিলে এটা সবচেয়ে লজ্জার ব্যাপার।‘
কাতারে ব্রাজিলের সেই বিদায়ের পর পিএসজি চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বশেষ ফাইনালসহ মোট ছয়বার টাইব্রেকারের মুখোমুখি হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ কোপা আমেরিকা কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারের মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল। এর একটি ম্যাচেও পেনাল্টি শট নেননি মার্কিনিয়োস।
চার বছর আগের সেই পেনাল্টি মিসের পর মার্কিনিয়োস কতটা ভেঙে পড়েছিলেন, সেটাই তার স্ত্রী ক্যাব্রিনোর জানালেন, ‘আমার ফোনটা বাজল। মনে আছে, সিবিএফের (ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন) কেউ অপর প্রান্ত থেকে বলছিল, 'ক্যারল, আপনার এখানে আসা খুব দরকার।‘ মার্কিনিয়োস তখন বিছানার চাদর মুড়ি দিয়ে কাঁদছিল। আমি কী বলব বুঝতে না পেরে ওকে শুধু জড়িয়ে ধরলাম। ভাবলাম, এ মুহূর্তে কিছু না বলাই ভালো, হয়তো এই কঠিন সময়টা ওর একা একাই পার করা দরকার।’
ক্যাব্রিনো আরও বলেন, ‘আমার মনে আছে, সে সময় নেইমারকে একটা বার্তা পাঠিয়ে বলেছিলাম, ‘আমার রুমে এসো, তোমার বন্ধুর সঙ্গে একটু কথা বলো।‘ ও যখন এল, তখন ও কাঁপছিল; চারপাশের পরিবেশটাই কেমন যেন থমথমে হয়ে উঠেছিল। নেইমার এসে ওকে সান্ত্বনা দিল, পাশে দাঁড়াল। আমি ওকে শুধু বলেছিলাম, ফুটবল অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তোমার একটা পরিবারও আছে। ভুল করলেও তুমি তো মানুষ। ম্যাচের সব দায় একা নিজের কাঁধে তুলে নিতে পারো না।’
এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পেনাল্টি মিস করেন মার্কিনিয়োসে ব্রাজিলিয়ান সতীর্থ মাহালেস। তার পেনাল্টি মিসেই শিরোপা হাতছাড়া হয় আর্সেনালের। দলের উল্লাসে যোগ না দিয়ে পিএসজির হয়ে খেলা মার্কিনিওস আগে সান্তনা দিতে ছুটে যান মাহালসের কাছে! চার বছর আগে তাকে কেউ সান্তনা দিতে আসেনি। তিনি হয়তো মাহালেসের কষ্টটা ভালোই বুঝেছেন!
এবার ব্রাজিলের অধিনায়ক হয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছেন মার্কিনিয়োস। তিনি কি পারবেন চার বছর আগের সেই কস্টকে উল্লাসে পরিণত করতে?




