সোনার ছেলের সোনার বুট

গোল্ডেন বুট
সেই ২০২২ বিশ্বকাপেরই চিত্রনাট্য যেন? গোল্ডেন বুটের জমজমাট লড়াই হয়েছিল কিলিয়ান এমবাপ্পে আর লিওনেল মেসির। ফাইনালের আগে দুজনেরই গোল সমান ৫টি করে। ফাইনালে কখনো মেসি এগিয়ে যাচ্ছিলেন তো কখনো এমবাপ্পে। শেষ পর্যন্ত জোড়া গোল করে ৭-এ থামেন মেসি। আর অসাধারণ হ্যাটট্রিকে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন এমবাপ্পে।
এবারও ফাইনালের আগে সমান ৮ গোল মেসি ও এমবাপ্পের। ফ্রান্স অবশ্য ফাইনালের আগে ছিটকে যায়। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে সোনার বুটের লড়াইয়ে আবারও এগিয়ে গেলেন সোনার ছেলে এমবাপ্পে। এবারের বিশ্বকাপে তার গোল ১০টি। সঙ্গে অ্যাসিস্ট ৪টি।
টানা দ্বিতীয় গোল্ডেন বুট জিততে হলে তাকিয়ে থাকতে হবে মেসির দিকে। সোনায় মোড়ানো ক্যারিয়ারে এই একটা পুরস্কারই এতদিন পাননি মেসি। এবার পেতে হলে ফাইনালে চাই হ্যাটট্রিক। তাহলেই তার গোল হবে ১১টি। উপায় আছে আরও একটি। জোড়া গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করলেও ছাড়িয়ে যাবেন এমবাপ্পেকে। মেসি কি পেরেছেন? উত্তরটা নিশ্চয়ই জেনে গেছেন ফাইনাল শেষে।
১০ গোল আর ৪ অ্যাসিস্ট হলে কেন এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলতে পারবেন না মেসি, সেটি বরং জেনে নেওয়া যাক। গোল আর অ্যাসিস্ট সমান হলে দেখা হয় কম সময় কে মাঠে ছিলেন সেটি। এমবাপ্পে এবারের বিশ্বকাপে খেলেছেন ৭৬৯ মিনিট আর মেসি ৭১২ মিনিট। ফাইনালে ৫৮ মিনিট মাঠে থাকলেও এমবাপ্পের চেয়ে বেশি সময় মাঠে কাটাবেন মেসি।
এমবাপ্পে অবশ্য ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬-৪ গোলে হারা ম্যাচের পর বলেছিলেন, ফাইনালে গোল করবেনই মেসি, ‘লিও (মেসি) সবসময় গোল করে। ফাইনালেও সে নিশ্চিতভাবেই গোল পাবে।’
আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের শুরুটা হয় ১৯৮২ থেকে। তবে সেই ১৯৩০ থেকেই সর্বোচ্চ গোল করাদের ছিল বিশেষ মর্যাদা। বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের কীর্তিটা ফ্রান্সেরই জুস্ত ফঁতেনের। ১৯৫৮ বিশ্বকাপটা পেলে আর ব্রাজিল নিজেদের করে নিলেও সেবার ১৩ গোল করেছিলেন ফঁতেন। এর ৪টি ছিল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। এবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করলেন এমবাপ্পে।
২০১৮ বিশ্বকাপে ৬ গোল করেই গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন। তিনি এবারও করেছেন ৬ গোল।




