নতুন তারকার জন্ম হয় এই মঞ্চে

বিশ্বকাপ মানেই নতুন তারকাদের উত্থান। ম্যারাডোনা-পেলে থেকে শুরু করে জিদান-এমবাপ্পে, সবাই বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করে আসন পোক্ত করে নিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলে। এবারের আসর দিয়ে মেসি-রোনালদোর মতো মহাতারকাদের বিশ্বকাপ অভিযানের ইতি ঘটবে, একইভাবে তরুণ প্রতিভাদের কেউ কেউ এ মঞ্চ রাঙিয়ে মহাতারকার পথে রওনা দেবেন। এ তরুণ তুর্কিদের দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক—
নিকো পাস (আর্জেন্টিনা)
স্পেনে বেড়ে উঠলেও আর্জেন্টিনার হয়ে খেলছেন। তার বাবা আর্জেন্টিনার সাবেক খেলোয়াড় পাবলো পাস। রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে শুরু, সেখান থেকে ইতালির ক্লাব কোমোতে দেখানো দারুণ পারফরম্যান্স পাসকে জাতীয় দলে নিয়ে এসেছে। ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর হয়ে ২১ গোলের দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটিয়ে বিশ্বকাপে পা রাখছেন এ তরুণ। ২১ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডারের দক্ষতা দূরপাল্লার গোল করতে পারায়। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে বিশ্বজয়ীদের প্রথম একাদশে তার জায়গা হয়তো নেই। তবে বদলি হিসেবে এ আসরে দারুণ কার্যকর হতে পারেন নিকো।
দেজিরে দুয়ে (ফ্রান্স)
পিএসজিতে খেলা ফ্রান্সের এ উইঙ্গার ক্ষিপ্রগতি এবং পাসিং দক্ষতার জন্য পরিচিত। ক্লাবে প্রথম মৌসুমেই তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ফুটবল বিশ্বকে। ক্লাবকে ট্রেবল জেতানোর পাশাপাশি পেয়েছেন সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের ট্রফি। চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে পঁাচ গোল এবং চার অ্যাসিস্ট করে দলকে ফাইনালে তুলতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এ বছর কলম্বিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে দিদিয়ে দেশমের আস্থা অর্জন করে নিয়েছেন দুয়ে।
নিকো ও’রেইলি (ইংল্যান্ড)
২১ বছর বয়সী এ ইংলিশ ডিফেন্ডার তার পারফরম্যান্স দিয়ে পেপ গার্দিওলার নজর কেড়েছেন। তাই ম্যানসিটির একাদশে এখন নিয়মিত। আক্রমণ ও রক্ষণের সমান পারদর্শী ও’রেইলি। ইংল্যান্ড লেফট ব্যাকের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে তার ওপর ভরসা করছে। গত বছর সার্বিয়ার বিপক্ষে এ তুরুণ তুর্কির আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়।
এনদ্রিক (ব্রাজিল)
ব্রাজিলের হয়ে খেলা চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় তিনি। ১৬ বছর বয়সে পালমেইরাসে অভিষেক এবং ১৮তম জন্মদিনের আগেই রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া। দুই বছর আগে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোলে রোনালদোর পর ব্রাজিলের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান তিনি। ১৯ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকার জানুয়ারিতে ফ্রান্সের ক্লাব লিঁওতে আসার পর অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন।
পেদ্রি (স্পেন)
তাকে বলা হয় স্পেনের কিংবদন্তি জাভি হার্নান্দেজের যোগ্য উত্তরসূরি। ২০২১ ও ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরের জন্য নমিনেশনও পেয়েছিলেন তিনি। জার্মানিতে দুই বছর আগে ইউরো জয়ের অভিযানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন পেদ্রি, যদিও চোটের কারণে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে তার খেলা হয়নি। বার্সেলোনায় হান্সি ফ্লিকের অধীনে শারীরিক সমস্যা কাটিয়ে উঠে গত দুই মৌসুমে ধারাবাহিকভাবে লা লিগা শিরোপা জয়ে রেখেছেন অসামান্য অবদান।
ডেনিজ উনডাফ (জার্মানি)
ফ্লোরিয়ান ভির্টজ নাকি জামাল মুসিয়ালা— এবারের বিশ্বকাপে জার্মান জার্সিতে কারা তাক লাগাবেন সেই আলোচনায় প্রথমে আসে এ দুজনের নাম। তবে ২৮টি বুন্দেসলিগা ম্যাচে ১৯ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট নিয়ে আরও এক জার্মান স্ট্রাইকার আলোচনায় আছেন। তিনি ডেনিজ উনডাফ। স্টুটগার্টের হয়ে খেলা ২৯ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকার ফিনল্যান্ডের সঙ্গে ৪-০ গোলে জেতা বিশ্বকাপ ওয়ার্মআপ ম্যাচে করেছেন দুই গোল।
এসমির বারাকতারভিচ (বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা)
২১ বছর বয়সী এ উইঙ্গারের নেওয়া শেষ পেনাল্টি কিকেই ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছে ইতালি। জাতীয়তা বদলে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে জন্ম নেওয়া তরুণ হয়ে গেলেন বসনিয়ার। তার পায়েই লেখা হলো ইতালির দুঃখগাথা।
ডাচ ক্লাব পিএসভির হয়ে খেলা এ তরুণ প্রতিপক্ষের রক্ষণ গুঁড়িয়ে দিতে পারেন। ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে ভালো বল বানিয়ে দিতে পারেন। অবশ্য তার গোলের গড় এখনো সমৃদ্ধ নয়।
আন্তোনিও নুসা (নরওয়ে)
জাতীয় দলে আর্লিং হলান্ডের যে সাফল্য, তার অর্ধেকটার দাবিদার হতে পারেন এ উইঙ্গার। জাতীয় দলে হলান্ডের সিংহভাগ গোলের পাস আসে জার্মান ক্লাব লাইপজিগের হয়ে খেলা এই ২১ বছর বয়সী তরুণের পা থেকেই। বিপক্ষ ডিফেন্ডারের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান লড়াইয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জিতে যান নুসা।





