নরওয়ের সামনে ইতিহাসের হাতছানি

সংগৃহীত ছবি
‘ভাইকিংস রো’ উদযাপনে মাতোয়ারা পুরো ফুটবল বিশ্ব। নরওয়ে ফুটবলারদের সেই ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ উদযাপন যেন এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম প্রতিচ্ছবি। ভাইকিংসরা নকআউটে পা রেখেছে ইতিহাস রচনা করে। ঐতিহাসিক জয়যাত্রা এগিয়ে নিতে রাত ১১টায় ডালাসে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্লিং হলান্ডরা।
চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই প্রথমে গোল করেছে নরওয়ের এবারের প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্ট। ইকুয়েডরকে পেছনে ফেলে গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে নকআউটে এসেছে তারা। নিকোলাস পেপের নেতৃত্বে দ্রুতগতির আক্রমণ প্রতিপক্ষের মাথাব্যথার কারণ হয়েছে। শেষ ৩২-এও চমক দেখাতে পারে আফ্রিকার সিংহদের ফরোয়ার্ড লাইন।
বেশ কয়েক বছর ধরেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত নরওয়েও। বাছাইপর্বে অবিশ্বাস্য ফর্মে ছিল ভাইকিংসরা। আর্লিং হলান্ডরা এবার গ্রুপ পর্বেও দেখিয়েছে দাপট। শেষ ম্যাচে অবশ্য দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নেমে কিছুটা সমালোচনার মুখে পড়েছিল তারা। ওই ম্যাচে উসমান দেম্বেলের হ্যাটট্রিকের সামনে অসহায় হয়ে ৪-১ গোলে হার মানলেও নকআউটে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামবে ভাইকিংসরা।
এই ম্যাচে সব নজর থাকবে হলান্ডের দিকে। দুই ম্যাচে চার গোল করে এই ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আছেন বিধ্বংসী ফর্মে। নরওয়ের আক্রমণের প্রাণভোমরা হলান্ড। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের জন্য তাকে ৯০ মিনিট সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ হবে। নরওয়ে সাধারণত দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক ও ক্রসের মাধ্যমে হলান্ডকে বল দেওয়ার চেষ্টা করে আর তিনি সেই সুযোগগুলোই গোলে পরিণত করেন। মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান
আন্তর্জাতিক ফুটবলে নরওয়ে-আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হওয়ার ইতিহাস নেই। প্রথমবারের লড়াইয়ে তাই অতীতের কোনো অনুপ্রেরণা খুঁজে পাবে না দল দুটি। আইভরি কোস্টের শারীরিক শক্তির ফুটবল বনাম নরওয়ের ট্যাকটিক্যাল ও আক্রমণাত্মক ফুটবল— শেষ পর্যন্ত জয় হবে কোনটির?
চেনা প্রতিদ্বন্দ্বী মেক্সিকো ও ইকুয়েডর এবার নকআউটের মঞ্চে আগামীকাল সকাল ৭টায় মুখোমুখি হচ্ছে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক ভেন্যুতে। ঘরের মাঠের চেনা দর্শকের সামনে সহ-আয়োজকদের জন্য ইতিহাস গড়ার এটি বড় এক সুযোগ। অন্যদিকে ইকুয়েডরের জন্য এ এক কঠিন পরীক্ষা।
স্বাগতিক দেশ হিসেবে গ্রুপ পর্বে মেক্সিকো দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে। তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে অপরাজিত থেকেই নকআউটে এসেছে তারা। রক্ষণ, মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগ; দলের সব বিভাগ আছে দারুণ ফর্মে। বিশেষ করে রক্ষণের কথা আলাদাভাবেই বলতে হয়। তিন ম্যাচে মেক্সিকো করেছে ছয় গোল, হজম করেনি একটিও। স্পেনের পর মাত্র দ্বিতীয় দল হিসেবে এবার গ্রুপ পর্বে কোনো গোল হজম না করেই নকআউটে গেছে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা। গোল হজম না করার এই ধারা নকআউটেও বজায় রাখতে চাইবে তারা।
এদিকে লাতিন বাছাইপর্বে দ্বিতীয় হয়ে বিশ্বকাপে এসেছিল ইকুয়েডর। তবে সেই প্রত্যাশার চাপ ধরে রাখতে পারেনি তারা। গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল লাতিন আমেরিকার দেশটি।
ইকুয়েডর ঘুরে দাঁড়িয়েছে শেষ মুহূর্তে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে নাটকীয় এক জয়ে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে নকআউটে এসেছে ইকুয়েডর। দলটির রক্ষণভাগ এখন বেশ সুসংগঠিত। রক্ষণ ঠিক রেখে পাল্টা আক্রমণে ওঠাই বিপাকে ফেলতে পারে মেক্সিকো রক্ষণভাগকে।
মুখোমুখি পরিসংখ্যান
দুই দেশের দেখা হয়েছে ১৬ বার। মুখোমুখি লড়াইয়ে আট জয়ে এগিয়ে আছে মেক্সিকো। ইকুয়েডর জয় পেয়েছে তিন ম্যাচে। ড্র হয়েছে বাকি পাঁচ ম্যাচ। শেষবার দুই দলের দেখা হয়েছিল গত অক্টোবরে। সেই ম্যাচ ড্র হয়েছে ১-১ গোলে।
নরওয়ে, আইভরি কোস্ট, মেক্সিকো, ইকুয়েডর— চার দলের সামনেই আছে শেষ ১৬-তে ওঠার সুযোগ। কোন দুই দল নকআউটের প্রথম ধাপ পেরিয়ে চলে যাবে পরের রাউন্ডে?




