রেফারির মারাত্মক ভুলে হ্যাটট্রিক বঞ্চিত ভিনিসিয়ুস

সংগৃহীত ছবি
মাঠের ফুটবলে ব্রাজিলের দাপটের বিপরীতে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে চলল রেফারি আর ভিএআরের লড়াই। ম্যাচ ছাপিয়ে এখন আলোচনায় বিবিসির স্টুডিওতে দুই ধারাভাষ্যকারের তুমুল বাগ্যুদ্ধ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের একটি ‘বিতর্কিত’ গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সাবেক রেফারি ও ফুটবলারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র মতভেদ। তবে বিশ্লেষকেরা বেশিরভাগই একমত- ভিনি নিজেই ফাউলের শিকার হয়েছিলেন!
গ্রুপ ‘সি’র অলিখিত ফাইনালে গতকাল স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সেলেসাওরা। তবে ম্যাচের প্রথমার্ধে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি গোল ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল হওয়া নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। ম্যাচের ৭ মিনিটে দারুণ গোলো ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন ভিনিসিয়ুস। এর ঠিক ১৬ মিনিট পর আবারও স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলে বল পেয়ে জালে জড়ান এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো গ্যালারি।
২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে গ্রুপ পর্ব থেকে স্কটল্যান্ডের বিদায় যখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই বাধ সাধে ভিএআর। মেক্সিকান রেফারি সিজার রামোস ভিএআর রিভিউ দেখে গোলটি বাতিল করেন। রেফারি জানান, গোল করার ঠিক আগে স্কটিশ ডিফেন্ডার জ্যাক হেনড্রি যখন পাস বাড়াতে যাচ্ছিলেন, তখন ভিনিসিয়ুস তার পা বাড়িয়ে ফাউল করেছিলেন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই মূলত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিবিসির লাইভ স্টুডিও।
প্রিমিয়ার লিগের সাবেক রেফারি ড্যারেন ক্যান সরাসরি স্কটল্যান্ডকে ‘ভাগ্যবান’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে স্কটল্যান্ড একটু বেশিই ভাগ্যর সহায়তা পেয়েছে। বলের স্পর্শ পাওয়ার আগে কিছুটা ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেটাকে ফাউল বলা চলে না।ভিনিসিয়ুস শুধু নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলেন, ডিফেন্ডার এসে তার পায়ে এসে লাথি মেরেছেন। এই সিদ্ধান্তে স্কটল্যান্ডের পক্ষে যাওয়া উচিত হয়নি।’
তবে ধারাভাষ্য কক্ষে ড্যারেন
ক্যানের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে সাবেক স্কটিশ তারকা জেমস ম্যাকফ্যাডেন বলেন,
‘না, আমি ক্যানের সাথে একমত নই। এটা স্পষ্ট ফাউল ছিল।
কন্টাক্ট হালকা হোক বা জোরালো, ফাউল তো ফাউলই। জ্যাক হেনড্রি যখন বল কিক করতে যাচ্ছিলেন,
ঠিক তখন ভিনিসিয়ুস তার পায়ে আঘাত করেন। স্কটল্যান্ড কোনো ভাগ্যের জোরে বাঁচেনি, রেফারি
সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন।’
ভিএআরের কল্যাণে সে যাত্রায় স্কটল্যান্ড ২-০ হওয়া থেকে বাঁচলেও, বিরতির ঠিক আগেই আরেকটি গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিনিসিয়ুস। অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসনের ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্রুনো গিমারায়েসের ক্রসে হেড করে বল জালে পাঠান তিনি। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিটে মাথেউস কুনহা ব্রাজিলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করলে স্কটল্যান্ডের নকআউটে ওঠার স্বপ্ন সুতোয় ঝুলে পড়ে।
হাইতির বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় দিয়ে আসর শুরু করলেও মরক্কো ও ব্রাজিলের কাছে হেরে গোল ব্যবধানে বেশ পিছিয়ে পড়েছে স্কটল্যান্ড। এখন ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পা রাখতে হলে তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য গ্রুপগুলোর সেরা তৃতীয় দলের সমীকরণের দিকে। তবে রেফারির ভুলে হ্যাটট্রিক না হওয়ায় ভিনিসিয়ুস দুঃখ পেতেই পারেন।






