বিশ্বকাপ
সংখ্যায় সংখ্যায় এবারের আসর

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র ৮ দিন। এরই মধ্যে আয়োজক দেশে পা রেখেছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। এবারে বিশ্বকাপে কোন ক্লাব থেকে সুযোগ পেয়েছেন সবচেয়ে বেশি ফুটবলার? সবচেয়ে বয়স্ক ও কনিষ্ঠ ফুটবলারই বা কারা? জেনে নেওয়া যাক এরকম কিছু পরিসংখ্যান।
২০০
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০০ জন খেলেন ইংল্যান্ডের ক্লাব ফুটবলে। এরপর রয়েছে জার্মানি (১০৯), ফ্রান্স (৮৬), স্পেন (৮৬), ইতালি (৭১), সৌদি আরব (৪৯), নেদারল্যান্ডস (৪৬), তুরস্ক (৪৫), যুক্তরাষ্ট্র (৪২), ব্রাজিল (৩৬) এবং পর্তুগাল (৩৬)।
২৫
কাতার ও সৌদি আরবের স্কোয়াডে নিজ দেশের লিগে খেলা খেলোয়াড় সবচেয়ে বেশি। দুই দলেই আছে ২৫ জন করে ফুটবলার। কাতারে একমাত্র বিদেশভিত্তিক খেলোয়াড় হোমাম আহমেদ, স্পেনের কালচারাল লেওনেসার হয়ে খেলেন। সৌদি আরবের একমাত্র বিদেশভিত্তিক খেলোয়াড় সৌদ আবদুলহামিদ, ফ্রান্সের লঁসে খেলেন তিনি।
অন্যদিকে কেপ ভার্দে, কঙ্গো ডিআর, আইভরি কোস্ট, কুরাসাও, সেনেগাল ও উরুগুয়ের স্কোয়াডে নিজ দেশের লিগে খেলা একজন ফুটবলারও নেই।
২২
বিশ্বকাপ ২০২৬ এ অংশ নিচ্ছেন মোট ২২ জন সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফুটবলার। জার্মানির মানুয়েল নয়ার ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন। ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে, লুকাস হার্নান্দেজ, এন'গোলো কান্তে ও কিলিয়ান এমবাপ্পে ছিলেন ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য।
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের ১৭ জন খেলোয়াড়কে আবারও স্কোয়াডে রেখেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেস, এনজো ফার্নান্দেজ, এমিলিয়ানো মার্তিনেস, লাউতারো মার্তিনেজ, রদ্রিগো ডি পল, ক্রিস্তিয়ান রোমেরোসহ আরও অনেকে।
১৯
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় আছে ম্যানচেস্টার সিটির। ইংলিশ ক্লাবটির মোট ১৯ জন ফুটবলার খেলবেন বিশ্বকাপের মঞ্চে। ক্লাবটির খেলোয়াড়রা আলজেরিয়া, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, মিসর, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ঘানা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পর্তুগাল, স্পেন ও উজবেকিস্তানের হয়ে খেলবেন।
এরপর রয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ (১৮), আর্সেনাল (১৬), পিএসজি (১৬), বার্সেলোনা (১৫), আল-হিলাল (১২), আতলেতিকো মাদ্রিদ (১২), ক্রিস্টাল প্যালেস (১২), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (১২), বরুসিয়া ডর্টমুন্ড (১১), গালাতাসারাই (১১) ও লিভারপুল (১১)।
১৭
মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরা বিশ্বকাপের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়। বয়স তার মাত্র ১৭। মজার বিষয় হলো, তার সতীর্থ গিয়ের্মো ওচোয়া বিশ্বকাপে খেলেছেন মোরার জন্মের আগেই।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোর প্রথম ম্যাচে মাঠে নামলে মোরা কনকাকাফ অঞ্চলের সবচেয়ে কম বয়সী বিশ্বকাপ অংশগ্রহণকারী হবেন। এছাড়া তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ষষ্ঠ কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখাবেন। তার আগে আছেন পেলে, সালোমন ওলেম্বে, ফেমি ওপাবুনমি, স্যামুয়েল ইতো এবং নরম্যান হোয়াইটসাইড।
সবচেয়ে কম বয়সী পাঁচ খেলোয়াড়ের তালিকায় আরও রয়েছেন চেকিয়ার হুগো সোচুরেক, জার্মানির লেনার্ট কার্ল, সেনেগালের ইব্রাহিম এমবায়ে এবং মিসরের হামজা আবদেলকারিম।
১৩
এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। তার গোলসংখ্যা ১৩টি। এরপর আছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে (১২), ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন (৮), ব্রাজিলের নেইমার (৮) এবং পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৮)।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা, যার গোল সংখ্যা ১৬।
৬
লিওনেল মেসি, গিয়ের্মো ওচোয়া এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন। এর আগে পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড ছিল আন্তোনিও কারভাহাল, লোথার ম্যাথাউস, জিয়ানলুইজি বুফন, রাফা মার্কেজ, আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো, রোনালদো নাজারিও ও ওচোয়ার।
এদিকে লুকা মদরিচ, ইউতো নাগাতোমো এবং মানুয়েল নয়ার খেলবেন পঞ্চম বিশ্বকাপে।
মেসি ও রোনালদো বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে মাঠে নামার কীর্তি গড়বেন। ওচোয়া ছয়টি আসরের স্কোয়াডে থাকলেও ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে মাঠে নামেননি।
২.০৫
অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক ফ্লোরিয়ান ভিগেলে, যার উচ্চতা ২.০৫ মিটার, বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা খেলোয়াড়। এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের আন্দ্রিস নপার্টের ২.০৩ মিটার উচ্চতার রেকর্ড ছিল।
তার পরেই রয়েছেন ইংল্যান্ডের ড্যান বার্ন (২.০১ মিটার), কলম্বিয়ার আলভারো মনতেরো (২.০১ মিটার) এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার স্তিয়েপান রাদেলিয়িচ (২.০১ মিটার)।
১.৬০
পানামার মিডফিল্ডার সেজার ইয়ানিস এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে খাটো খেলোয়াড়। তার উচ্চতা ১.৬০ মিটার। দ্বিতীয় স্থানে আছেন কুরাসাওয়ের জেরেমি আন্তোনিসে (১.৬৪ মিটার)।
সবচেয়ে লম্বা ড্যান বার্ন ও সবচেয়ে খাটো সেজার ইয়ানিসের মধ্যে উচ্চতার পার্থক্য ৪১ সেন্টিমিটার। আর বিশ্বকাপের এক ম্যাচে মুখোমুখি দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় উচ্চতার পার্থক্য ছিল ৩৯ সেন্টিমিটার—২০০৬ বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর নিকোলা জিগিচ এবং আইভরি কোস্টের বাকারি কোনের মধ্যে।




