বিশ্বকাপ
৬০ বছরের সেরা সাফল্য, তবু কেন ব্যর্থ ইংল্যান্ড?

১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ডের ফুটবলের সবচেয়ে বড় সাফল্য এলো উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে। ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে উড়িয়ে তৃতীয় হয়েছেন হ্যারি কেইনরা। কিন্তু ব্রিটিশ মিডিয়া থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থক, কেউই এই সাফল্যে তৃপ্ত নন! ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ডের সেরা বিশ্বকাপ যাত্রাটি কি তবে একটি গভীর হতাশা হয়েই থাকল? সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হার এবং পরবর্তী সময়ে দলের ভেতরকার অস্থিরতা নিয়ে তোলপাড় চলছে পুরো ইংল্যান্ডে।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। কোচ থমাস টুখেলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল যেন সেই পুরনো দেয়াল ভেঙে ইংল্যান্ডকে শিরোপার স্বাদ দেওয়া যায়। কিন্তু সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা যখন তাদের চেপে ধরেছে, টুখেলের রক্ষণাত্মক সাবস্টিটিউশন এবং ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তন হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের একাংশও মনে করছেন, অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হওয়ার কারণেই ফাইনালের স্বপ্ন হাতছাড়া হয়েছে।
ইংল্যান্ডের ডাগআউটে থমাস টুখেলের ভবিষ্যৎ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যদিও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) তাকে ২০২৮ সালের ইউরো পর্যন্ত বহাল রাখার কথা বলেছে, তবে সমর্থকদের অবস্থান ভিন্ন। ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে নাম ঘোষণা হওয়ার সময় স্টেডিয়ামে টুখেলকে দুয়ো শুনতে হয়েছে। দলের ভেতর খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার দূরত্বের খবরও চাউর হয়েছে। সমর্থকদের এই ক্ষোভ আর খেলোয়াড়দের মনোমালিন্যকে এফএ কতটা গুরুত্ব দেয়- সেটা বড় প্রশ্ন।
ব্যর্থতার আড়ালে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন হ্যারি কেইন এবং জুড বেলিংহাম। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে এই দুই তারকা ইংল্যান্ডকে টেনেছেন। বেলিংহাম করেছেন ৭ গোল, কেইন তার চেয়ে একটি গোল পিছিয়ে। এছাড়া টটেনহ্যামের ডিজেড স্পেন্সের পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তার সেই ‘ট্যাকল অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ এখনো মুখে মুখে ফিরছে। তবে বুকায়ো সাকার মতো তারকাদের কাছ থেকে আরও প্রত্যাশা ছিল দর্শকদের।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর প্রশ্ন উঠছে, ২০২৮ ইউরোর আগে ইংল্যান্ড নিজেকে কীভাবে নতুন করে সাজাবে? টুখেলকে এখন এমন এক সমাধান বের করতে হবে যাতে দলটির খেলার ধরন আরও বেশি কার্যকর এবং বহুমুখী হয়। লিভারপুলের ১৭ বছর বয়সী রিও এনগুমোহ কিংবা আর্সেনালের ১৬ বছর বয়সী ম্যাক ডাউম্যানের মতো প্রতিভারা ভবিষ্যতে দলে যোগ দিলে ইতিবাচক কিছুর সম্ভাবনা আছে। এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে টুখেল কি পারবেন ইংল্যান্ডকে বদলে দিতে? সেই উত্তর তোলা রইল ভবিষ্যতের জন্য।






