আপনারা আমার কথা শুনতে চান, নাকি মেসির?

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের উত্তেজনা সবুজ মাঠ থেকে ছড়িয়ে পড়েছে নিউ ইয়র্কের হাডসন নদীর পাড়ে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের শিরোপা লড়াইয়ের ঠিক আগে নিউ ইয়র্কের জেভিটস সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেখা গেল ফুটবলারদের মিলনমেলা। লিওনেল মেসি, দিদিয়ের দেশম, লুইস দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে ছিলেন টম ব্র্যাডি, নোভাক জোকোভিচ ও কেভিন ডুরান্টের মতো বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা।
মেসি, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও লিওনেল স্কালোনি যখন মঞ্চে উঠলেন, তখন পুরো হলরুম যেন ফেটে পড়ল উল্লাসে। আয়োজকদের পূর্বপরিকল্পিত সব প্রশ্ন ছাপিয়ে মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন লিওনেল মেসি। তার পাশে ছিলেন টেনিস কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ, এনএফএল তারকা টম ব্র্যাডি এবং এনবিএ সুপারস্টার কেভিন ডুরান্ট। এক মঞ্চে ক্রীড়া বিশ্বের এমন নক্ষত্রপুঞ্জ আগে কখনো দেখা যায়নি।
মঞ্চে আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল— ফাইনালে স্নায়ুচাপ কীভাবে সামলাবেন খেলোয়াড়রা। মেসি অকপটে বলেছেন, ‘আমরা বড় হয়েছি ফুটবলের প্রতি প্রচণ্ড আবেগ নিয়ে। খেলার আনন্দ আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাই আমাদের মূল কাজ। আমরা একটা দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল।’ পাশে বসা কোচ স্কালোনি দর্শকদের উদ্দেশে মজার ছলে বলেন, ‘আপনারা কি আমার কথা শুনতে চান, নাকি মেসির?’ এ সময় দর্শকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়।
অনুষ্ঠানে টম ব্র্যাডি যখন মেসিকে সেই বিখ্যাত ভাইরাল হওয়া ছবি (যেখানে মেসি শিশু ইয়ামালকে স্নান করাচ্ছেন) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, মেসি তখন কিছুটা অবাকই হন। তিনি বলেছেন, ‘ছবিটা আসলেই অবিশ্বাস্য। সে এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। আমরা ফাইনালে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব, যাতে সে যেন তার সেরা ফর্মে না থাকে।’
অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত ছিল কোচ লিওনেল স্কালোনি ও স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সাক্ষাৎ। প্রতিযোগিতার মাঠের বাইরে তাদের এই বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলিঙ্গন যেন ফাইনালের উত্তাপের মাঝেও অনন্য নজির স্থাপন করে। স্কালোনি জানান, তিনি এই অনুষ্ঠানে এসেছেন মূলত দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে দেখা করার জন্যই।
কেভিন ডুরান্টের প্রশ্নে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ইংরেজিতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়ে দেন, আর্জেন্টিনা যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত। রোববার দুপুরে নিউ ইয়র্কের তীব্র গরমে তারা মাঠে নামবেন দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্যে। অনুষ্ঠান শেষে রিও ফার্দিনান্দের অনুরোধে সবাই মিলে একটি সেলফিও তুলেছেন। একই ফ্রেমে বন্দি হয়ে গেছেন বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন মাতানো তারকারা।






