কাতারের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের, নীরব ওয়াশিংটন

কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি। ছবি: সংগৃহীত
কাতারের রাজধানী দোহার উপকণ্ঠে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তবে হামলায় ঘাঁটিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্র বা কাতার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
আল জাজিরার দোহা প্রতিনিধি ভিক্টোরিয়া গেটেনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল উদেইদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি। সেখানে সাধারণত প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অগ্রবর্তী সদর দপ্তর হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলমান সংঘাতের পুরো সময়জুড়ে কাতার দাবি করে এসেছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনায় আল উদেইদ ঘাঁটি ব্যবহার করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোরে কাতারে দুই দফায় হামলা হয়। হামলার সময়টিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে বিবিসি। কারণ, কাতারের প্রয়াত আমিরের রাষ্ট্রীয় শোক শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামলাগুলো হয়। এর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দোহা সফর করে প্রয়াত আমিরের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছিলেন।
এদিকে ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আল-আতাফি বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির যেকোনো নির্দেশ বাস্তবায়নে তাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবাকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ইয়েমেনের জনগণের ওপর অবরোধ অব্যাহত থাকলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার যেকোনো নির্দেশ বাস্তবায়নে সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।’
একই সঙ্গে তিনি ‘আগ্রাসী দেশগুলো’, বিশেষ করে সৌদি আরব ও তাদের সমর্থকদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘আমাদের সামনে সব ধরনের বিকল্প খোলা রয়েছে।’
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, অঞ্চলে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর গতিবিধি ও সামরিক সরঞ্জাম তাদের নিবিড় নজরদারিতে রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী দাবি করে, ‘এ অঞ্চলের জলসীমায় মার্কিন সামরিক কমান্ডের নৌ ইউনিটগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানের নির্ধারিত সময়ের আরও কাছাকাছি চলে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।’
বিবৃতির শেষাংশে সংক্ষিপ্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়, ‘অপেক্ষা করুন, সবই দেখতে পাবেন।’




