উপহাস ছাপিয়ে ব্রাজিলের উৎসব

কার্লো আনচেলত্তিকে নিয়েও তৈরি হয়েছে এমন অসংখ্য মিম। - গ্লোবো স্পোর্ত
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্রয়ের পর ব্রাজিল ফুটবল দলকে নিয়ে কম খোঁচাখুঁচি হয়নি। হাইতির বিপক্ষে আজ দ্বিতীয় ম্যাচের শুরুতেও যখন রাফনিয়া একের পর এক সহজ সুযোগ নষ্ট করছিলেন, তখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় রীতিমতো ট্রোল আর মিমের বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা সেই উপহাসকে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি। মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সব সমালোচনা ধুয়ে-মুছে দিয়ে শেষ পর্যন্ত বড় জয়ের উৎসবে মেতেছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
ফিলাডেলফিয়ার মাঠে হাইতিকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে আসরের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে সেলেসাওরা। প্রথমার্ধের ঝড়েই মূলত ম্যাচ নিজেদের পকেটে পুরে নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের শুরুটা ব্রাজিলের জন্য ছিল কিছুটা অস্বস্তির। বিশেষ করে ফরোয়ার্ড রাফনিয়া প্রথমার্ধের শুরুর দিকে দুটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে রসিকতার ঝড় ওঠে। তবে রাফনিয়ার সেই মিসের হতাশা কাটাতে বেশি সময় নেয়নি ব্রাজিল।
ম্যাচের ৩৫ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন স্ট্রাইকার ম্যাথিউস কুনহা। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর প্রথমার্ধেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যান এই নম্বর নাইন। কুনহার জোড়া গোলের পর হাইতির কফিনে প্রথমার্ধের শেষ পেরেকটি ঠোকেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের ৪৭ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়ান এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
বিরতিতে যাওয়ার আগেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সেলেসাওরা। ভিনির এই পারফরম্যান্সের পর সমর্থকেরা মিমের ভাষা বদলে মেতে ওঠেন ভিনি-বন্দনায়। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ানের বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটে। এছাড়া সমর্থকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ডাগআউট থেকে মাঠে নামানো হয় তরুণ সেনসেশন এন্দ্রিককেও। মাঠে নেমেই চমৎকার এক শটে হাইতির জালে বল জড়িয়েছিলেন এই বিস্ময় বালক। তবে অফসাইডের কারণে রেফারি এন্দ্রিকের সেই গোলটি বাতিল করে দিলে তাকে হতাশ হতে হয়।
সামান্যর জন্য গোল না পাওয়ার সেই হতাশা থাকলেও প্রথম জয়ের স্বস্তি আর মাঠের রোমাঞ্চকর পারফরম্যান্স সব ট্রোলকে ছাপিয়ে শুধুই আনন্দের খোরাক জোগাচ্ছে ব্রাজিল সমর্থকদের। এই জয়ের পর নকআউটের দৌড়ে ভালোভাবেই টিকে রইল আনচেলত্তির শিষ্যরা।




