১০ গোলের রোমাঞ্চে কীর্তির ছড়াছড়ি

কোচ দিদিয়ের দেশমের জাদুকরী অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো এক অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতির রাতে। বিদায়ী ম্যাচে দল হারলেও ছিল রেকর্ডের ছড়াছড়ি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মায়ামিতে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ ব্যবধানে হেরেছে ফ্রান্স।
তবে এ হারের রাতেই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন মাইকেল ওলিসে ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। এমবাপ্পের দুটি গোলে অ্যাসিস্ট করে টুর্নামেন্টে নিজের অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৭-এ নিয়ে যান তিনি, যা ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলের গড়া এবং ৫৬ বছর ধরে টিকে থাকা ছয় অ্যাসিস্টের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। সেনেগালের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে এমবাপ্পেকে দিয়ে শুরু হয় তার অ্যাসিস্টের খাতা। এরপর ইরাক ও সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া অ্যাসিস্ট করে রেকর্ডের এক ধাপ দূরে ছিলেন ওলিসে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই সেই শেষ ধাপ পার করেন তিনি। অবশ্য সর্বকালের বিশ্বকাপ অ্যাসিস্টের তালিকায় এখনো মেসির চেয়ে পাঁচ অ্যাসিস্ট পিছিয়ে আছেন তিনি।
একই ম্যাচে রেকর্ড গড়েন অধিনায়ক এমবাপ্পেও। ওলিসের অ্যাসিস্টে করা দুই গোলে টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা ২২-এ নিয়ে যান তিনি। এটি আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির গড়া ২১ গোলের সর্বকালের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড ভেঙে দেন। এ আসরের গোল্ডেন বুটের দৌড়েও এগিয়ে গেলেন এমবাপ্পে। মেসিকে টপকে ১০ গোল করে এখন তিনি এবারের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে তিনি মনে করেন মেসি তার শীর্ষস্থান ফেরত পেতে পারেন, ‘মেসি সবসময় গোল করে। ফাইনালে সে গোল করবে আমি নিশ্চিত।’
তবে ম্যাচের মূল নায়ক ছিলেন ইংল্যান্ডের বুকায়ো সাকা। প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের প্রবল প্রত্যাবর্তনের মুখে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সাকার হ্যাটট্রিক আর যোগ করা সময়ে জুড বেলিংহামের গোলে ৬-৪ ব্যবধানে জিতে ব্রোঞ্জপদক নিশ্চিত করে থ্রি লায়ন্সরা। এ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স করেছে সমান ২০ গোল, ফাইনালের আগ পযর্ন্ত যা এই আসরের সর্বোচ্চ।
ম্যাচ শেষে দেশম স্পেনের প্রশংসা করেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত যা কিছু করেছি তার সবকিছু আমি ফেলে দিতে চাই না। তবে আগের ম্যাচে স্পেন দেখিয়ে দিয়েছে যে তাদের মধ্যে বাড়তি কিছু ছিল।’ এই ম্যাচই ছিল ২০১২ সাল থেকে ফরাসি দলের দায়িত্বে থাকা দেশমের শেষ ম্যাচ। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে এবং কোচ হিসেবে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতা এই কিংবদন্তি টানা তিনটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন, যার দুটিতেই খেলেছিল ফাইনাল।
দেশমের উত্তরসূরি হিসেবে জিনেদিন জিদানের নাম নিয়ে জল্পনা দীর্ঘদিনের। ডালাস আর মায়ামির এ দুই হতাশার দিন দেশমের গৌরবোজ্জ্বল কীর্তিকে মুছে দিতে পারবে না বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। অধিনায়ক এমবাপ্পে দেশমের প্রশংসায় বলেছেন, ‘এই ম্যাচটি দিদিয়ের দেশমের কিংবদন্তিতুল্য ক্যারিয়ারকে বিন্দুমাত্র ম্লান করতে পারবে না।’
দেশমের শেষ দিনটি শুধু হারের জন্য নয় বরং আজীবন মনে থাকবে ওলিসে আর এমবাপ্পের রেকর্ড গাথার জন্য।




