বলছেন রোমারিও
মনে হচ্ছিল নরওয়েই পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

সংগৃহীত ছবি
এবারও আমাদের ভাগ্য খুলল না। ভয়াবহ পারফরম্যান্সে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিলাম। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও আমাদের হাতে ছিল না। বলের দখলের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায় ম্যাচটি কেমন ছিল। আনচেলত্তির দল মাত্র ৩৩ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রাখতে পেরেছিল। নরওয়েজিয়ানদের বল দখল ছিল এর দ্বিগুণ। দ্বিগুণ! বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কোনো ম্যাচে এত কম বল দখল ছিল বলে আমার মনে পড়ে না।
নরওয়ে একদম বিধ্বংসী না হলেও, টানা নিখুঁত পাসে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে গেছে। ব্রাজিলকে তাদের নিজেদের অর্ধে চেপে ধরে রেখেছে। ওদের ছিল বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার, যে সুযোগ হাতছাড়া করে না। সেও ঠিক তাই করল— একেবারে নিখুঁত এক ঘাতকের মতো কাজ শেষ করে দিল।
আনচেলত্তির কিছু পরিবর্তন আমি মোটেও বুঝতে পারিনি, যেমন ব্রুনো গিমারেসকে তুলে নেওয়া। জানি না ওর কোনো চোট ছিল কি না, নাকি পেনাল্টি মিস করার ধাক্কায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। এই পরিবর্তনের পর— যে দলটি এমনিতেই ভালো খেলছিল না, তাদের পারফরম্যান্স আরও খারাপ হলো। নরওয়ে ম্যাচটি আরও বেশি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য মাঠের সবটুকু ফাঁকা জায়গা পেয়ে গেল। তাতেই সামনে দাঁড়িয়ে হলান্ড ম্যাচটি নিজের করে নেয়।
পুরো দলটিই যাচ্ছেতাই খেলেছে। আসলে কে বেশি খারাপ খেলেছে এটা নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। এক কথায় সবাই খুব বাজে খেলেছে— এর শুরুটা অবশ্যই কোচের হাত ধরে।
বিশ্বকাপে নকআউট মঞ্চে যে ধরনের মানসিকতা দরকার, সেটা আমাদের ছিল না। আমরা খেলায় গতি আনতে পারিনি। জেদ আর প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করার বাড়তি তাগিদটুকুর অভাব ছিল। মনে হয়েছে ব্রাজিল প্রতিপক্ষের কৌশলের কাছে একরকম আত্মসমর্পণ করেছে। অনেক সময় তো মনে হচ্ছিল ওরাই যেন পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, এতটা শান্ত আর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলছিল ওরা!
আমি জানি সবাই এই ব্যর্থতার জন্য কাউকে না কাউকে বলির পাঁঠা বানাতে খুঁজবে। প্রতিটি বিশ্বকাপ হারার পর এটা হয়। আমরা শুধু একটি পেনাল্টিই মিস করিনি, গোলপোস্টের সামনে নিশ্চিত সুযোগও হাতছাড়া করেছি। ওদের গোলকিপারও অসাধারণ খেলেছে। এই সবকিছুই খেলার অংশ। কিন্তু আমরা যা সবসময় দাবি করতে পারি সেটা হলো খেলোয়াড়দের মানসিকতা, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের প্রতিনিধিত্ব করা আর আমাদের জার্সির ওজনকে সম্মান জানানো। আমাদের সামনে এখন এই ভেঙে পড়া টুকরোগুলো কুড়িয়ে নতুন শুরুর পথ খোলা আছে।
বিশ্বকাপের আগে আমি কখনোই আনচেলত্তির চুক্তি নবায়ন করতাম না। একজন কোচের কাজের মূল্যায়ন টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরই হওয়া উচিত। ফুটবলে এর কোনো বিকল্প নেই, শেষ পর্যন্ত ফলাফলই সব।
আমাদের বর্তমান প্রজন্ম মোটেও খারাপ নয়, বরং উল্টো! এস্তেভাও, এনদ্রিক, রায়ানের মতো তরুণরা দেখিয়ে দিচ্ছে আমাদের দেশে এখনো দারুণ সব প্রতিভা তৈরি হচ্ছে। এই ছেলেগুলো আগামী বিশ্বকাপে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে। তবে এখন সবচেয়ে বড় কথা— ব্রাজিলকে আবার ব্রাজিলের মতোই খেলতে হবে।




