বিবর্ণ রোনালদোর শেষের শুরু

জোড়া গোল করেছেন এমবাপ্পে, কেইন, হলান্ডরা। মেসি করেছেন হ্যাটট্রিক। অথচ পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জয়ী ৪১ বছর বয়সী মহাতারকার বিশ্বকাপের শুরুটা হলো ভীষণ মলিন। মেসির সমান ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে আসা রোনালদো পুরোটা সময় ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। নীরব দর্শক বললেও বাড়াবাড়ি হবে না। পুরো ম্যাচে তিনি বল স্পর্শ করলেন মাত্র ২৫ বার, যার মধ্যে প্রথমার্ধে ১৬ বার। অন্তত ৮০ মিনিট খেলা ম্যাচগুলোর মধ্যে রোনালদোর এটাই সর্বনিম্ন বল স্পর্শের রেকর্ড! যে রোনালদো দুরূহ কোণ থেকে দূরপাল্লার শটে অবলীলায় গোল করতেন, গতকাল তার তিনটি শটের একটিও অন টার্গেটে ছিল না! সব মিলিয়ে পর্তুগালের জার্সিতে টানা ১০ ম্যাচ তিনি গোলহীন রইলেন। এতটা মলিন রোনালদোকে কখনো দেখা যায়নি।
যে দলের অতীত বলতে শুধুই ১৯৭৪ বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে ১৪ গোল খাওয়ার দুঃস্মৃতি, ফিফা র্যাংকিংয়ে যারা পড়ে আছে ৪৩ নম্বরে— সেই ডিআর কঙ্গোই প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে লিখল রূপকথা। যোগ করা সময়ে পর্তুগালকে স্তব্ধ করে ম্যাচে ফেরাল সমতা। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে এটিই ছিল কঙ্গোর প্রথম বিশ্বকাপ গোল! পুরো ম্যাচে গোলমুখে পর্তুগালের নেওয়া সাতটি শটের মধ্যে ওই একটিই লক্ষ্যে ছিল। ম্যাচে কোনো অবদান রাখতে না পারা রোনালদোকে পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ কেন পুরো সময় খেলালেন, সেটা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী মহাতারকা থিয়েরি অঁরি তো রীতিমতো ধুয়ে দিয়েছেন সিআর সেভেনকে, ‘গোল করাটা দলের জন্য প্রয়োজন ছিল, রোনালদোর নিজের নয়। ও নিজে গোল করতে চেয়েছিল বলেই পাস দেওয়ার পথে চলে এসেছে বারবার। ও যদি সিক্স-ইয়ার্ড বক্সের দিকে যেত, তবে ডিফেন্ডার ওকে অনুসরণ করতে বাধ্য হতো এবং ব্রুনো ফার্নান্দেস খুব সহজেই ফাঁকায় বল পেয়ে গোল করতে পারত।’
এমন শুরু আমরা চাইনি। তবে শেষ হতে এখনো অনেক দেরি। আত্মবিশ্বাস রাখো এবং পরের ম্যাচে মনোযোগ দাও -রোনালদো
গত কাতার বিশ্বকাপে রোনালদোকে একাদশ থেকে বাদ দিয়ে সমর্থকদের রোষানলে পড়েছিলেন তৎকালীন কোচ ফের্নান্দো সান্তোস। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর বেচারাকে চাকরিও হারাতে হয়েছিল। গতকাল রোনালদোকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে রবার্তো মার্তিনেজের মনে এমন কোনো ভয় কাজ করেছিল কি না, সে প্রশ্নও উঠছে। যদিও ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে শিষ্যদের আত্মসমালোচনা করতে বলেছেন পর্তুগাল কোচ, ‘আমাদের উন্নতি করতে হবে। আমাদের আত্মসমালোচনা করতে হবে। এখনো আমাদের দায়িত্ব আছে। আমি মনে করি, ম্যাচ পর্যালোচনা করতে হবে, নিজের আত্মসমালোচনা করতে হবে এবং এটাই শেষ কথা... বিশ্বকাপ এমনই হয়। আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।’
রোনালদো নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিয়ে সতীর্থদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করেছেন, ‘এমন শুরু আমরা চাইনি। তবে (বিশ্বকাপ অভিযান) শেষ হতে এখনো অনেক দেরি। আত্মবিশ্বাস রাখো এবং পরের ম্যাচে মনোযোগ দাও।’ আগামী মঙ্গলবার পর্তুগালের পরীক্ষা নেবে উজবেকিস্তান। কঙ্গো ম্যাচে হোঁচট খাওয়ার পর নিজের ছক আর পরিকল্পনা যে রবার্তো মার্তিনেজকে নতুন করে সাজাতেই হচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।




