যেদিন যুদ্ধবিধ্বস্ত হাইতিতে আলো জ্বেলেছিল ব্রাজিল

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপে শনিবার মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও হাইতি। এর আগে দুই দল মাত্র তিনবার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে ২০০৪ সালের একটি প্রীতি ম্যাচ ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানবিক ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। ম্যাচটি ইতিহাসে পরিচিত ‘শান্তির ম্যাচ’ নামে।
সেসময় ক্যারিবিয়ান দেশটি গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতায় নিমজ্জিত ছিল। প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ-বের্ত্রঁ আরিস্তিদের পতনের পর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট চরম আকার ধারণ করে দেশটিতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জাতিসংঘ গঠন করে ‘মিনুস্তাহ’— জাতিসংঘ হাইতি স্থিতিশীলতা মিশন, যার নেতৃত্বে ছিল ব্রাজিল। এই প্রেক্ষাপটেই ব্রাজিলের জাতীয় দলকে হাইতির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ জানানো হয়।
২০০৪ সালের ১৮ আগস্ট ব্রাজিল দল হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে পৌঁছায় ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে। জাতিসংঘের সাঁজোয়া যানে চড়ে হাজারো হাইতিবাসীর ঢল সঙ্গে নিয়ে তারা রওনা হন সিলভিও কাতর স্টেডিয়ামের দিকে। ৬-০ গোলের জয়ে গোল করেন তিন খেলোয়াড়— রোনালদিনহো গাউচো তিনটি, রজার ফ্লোরেস দুটি এবং নিলমার একটি। পারেইরার সেই দলে ছিলেন বিশ্বজয়ী রবের্তো কার্লোস, রোনালদো, রোকে জুনিয়র, জিলবের্তো সিলভা ও বেলেত্তি। কোপা আমেরিকা জয়ের পর এটিই ছিল ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ। গ্যালারিতে প্রতিটি গোলে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন হাজারো দর্শক। ‘সামাজিক ন্যায়বিচারই শান্তির প্রকৃত নাম’— এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচ যুদ্ধক্লান্ত হাইতিতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ও আনন্দের হাওয়া বইয়ে দিয়েছিল।
ব্রাজিল জাতীয় দলের বর্তমান কারিগরি সমন্বয়কারী এবং সাবেক সেন্টার-ব্যাক হুয়ান সান্তোস সেই ম্যাচে দলে ছিলেন। তিনি স্মৃতিচারণ করেন, ‘এটি ছিল অত্যন্ত আবেগময় একটি ম্যাচ। দেশটি তখন গৃহযুদ্ধে জর্জরিত, রাস্তায় সেনাবাহিনী। আমরা ম্যাচের দিনই পৌঁছাই, এসকর্টে করে ট্যাংকে চড়ে স্টেডিয়ামে যাই। চারদিকের দারিদ্র্য দেখে মন ভারী হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু সেদিন ওই মানুষগুলোর মুখে একটু হাসি ফোটাতে পেরেছিলাম এটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
সান্তোস আরও জানান সেদিন তিনি ব্রাজিলের প্রতি তাদের ভালোবাসা উপলব্ধি করেন, ‘আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম, কারণ জানতাম দেশটি যুদ্ধের মধ্যে আছে। তবে পৌঁছানোর পরই অনুভব করলাম, এখানে আমরা নিরাপদ। প্রথমে নির্দেশ ছিল ট্যাংকের ভেতরে থাকার, কিন্তু পরে আমরা সবাই উপরে উঠে মানুষের সঙ্গে মিশলাম। বুঝলাম, হাইতিতে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলকে কতটা ভালোবাসা হয়। সেদিনের জন্যই তারা অপেক্ষায় ছিল— যুদ্ধের যন্ত্রণা ভুলে, কিছুটা সময়ের জন্য হলেও।’




