সেমিফাইনাল
মেসির রেটিং ৯, স্কালোনির কেন ১০?

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই উপহার দিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের জয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা উঠে গেল ফাইনালে। শিরোপা লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন। কোচ লিওনেল স্কালোনির অসাধারণ ট্যাকটিকস আর লিওনেল মেসির জাদুকরীয় ফুটবলে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে বিশ্লেষকদের দেওয়া রেটিংয়ে স্কালোনি পেয়েছেন পূর্ণ ১০ এবং মেসি পেয়েছেন ৯। কিন্তু কেন?
শুরুতেই দেখে নেওয়া যাক ইএসপিএনের বিশ্লেষকেরা আর্জেন্টিনা দলকে কেমন রেটিং দিয়েছেন:
এমিলিয়ানো মার্তিনেস (৬/১০): খুব বেশি পরীক্ষা দিতে হয়নি, তবে দায়িত্বশীল ছিলেন।
নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (৬/১০): রক্ষণে নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আক্রমণেও সহায়তা করেছেন।
লিসান্দ্রো মার্তিনেস (৬/১০): বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল করেছেন।
ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (৬/১০): রক্ষণভাগে ছিলেন বেশ সতর্ক।
নাহুয়েল মলিনা (৩/১০): ইংল্যান্ডের গোলটির সময় তার ভুলই কাল হয়ে দাঁড়ায়।
এনজো ফার্নান্দেস (৮/১০): দলের প্রয়োজনে দুর্দান্ত এক গোল করে ম্যাচে ফেরান আর্জেন্টিনাকে।
আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (৭/১০): মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে।
লেয়ান্দ্রো পারেদেস (৫/১০): মাঝমাঠে শারীরিক শক্তিতে ভূমিকা রেখেছেন।
জুলিয়ানো সিমিওনে (৫/১০): প্রেস করার কাজটা ভালো করলেও প্রথমার্ধের পরেই বদলি হন।
হুলিয়ান আলভারেস (৬/১০): দলের হয়ে সুযোগ তৈরি করেছিলেন, তবে গোল পাননি।
লিওনেল মেসি (৯/১০): ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি যেন অজেয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তার বাঁ পায়ের জাদুকরী ক্রস থেকেই জয়সূচক গোলটি আসে। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি যেভাবে পুরো দলকে এক সুঁতায় গেঁথেছেন, তা এক কথায় বিস্ময়কর। ম্যাচের প্রথমার্ধে যখন আর্জেন্টিনা ধুঁকছিল, তখন মেসি নিজেই নিচে নেমে আসেন। ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ডিফেন্সিভ ব্লকের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করার কাজটি তিনিই করেছেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তার সেই অসাধারণ ক্রস থেকে লাউতারো মার্টিনেসের জয়সূচক গোল। এটিই প্রমাণ করে, বড় মঞ্চে মেসি কেন এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গোল না পেলেও খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অ্যাসিস্ট ও তার উপস্থিতি আর্জেন্টিনার জন্য ছিল মহাগুরুত্বপূর্ণ।
লিওনেল স্কালোনি (১০/১০): আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনিকে দশে দশ দিয়েছেন ইএসপিএনের বিশ্লেষকেরা। এর মূল কারণ তার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। ইংল্যান্ড যখন এগিয়ে গিয়েছিল, তখন স্কালোনি ঘাবড়ে যাননি। তার সাবস্টিটিউশনগুলো ছিল নিখুঁত। ৭২ মিনিটে মলিনা ও পারেদেসকে তুলে নিয়ে রদ্রিগো ডি পল ও গঞ্জালো মনতিয়েলকে নামানো ছিল টার্নিং পয়েন্ট। এই পরিবর্তনের ফলেই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ আরও ধাঁরালো হয়ে ওঠে এবং ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ চাপে পড়ে যায়। তাছাড়া সঠিক সময়ে লাউতারোকে নামিয়ে ম্যাচ বের করে আনেন। কোচ হিসেবে স্কালোনি দেখিয়েছেন পরিস্থিতি বুঝে কীভাবে ছক পরিবর্তন করে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়।
প্রশ্ন আসতে পারে, স্কালোনিকে কেন মেসির চেয়েও বেশি রেটিং দেওয়া হলো? বিশ্লেষকরা বলছেন, স্কালোনির ১০ পাওয়ার কারণ তার নির্ভুল গেম প্ল্যান ও প্লেয়ার পরিবর্তন। অন্যদিকে মেসির ৯ পাওয়ার কারণ তার একক ম্যাজিক। ফুটবল ইতিহাসে এমন অনেক ম্যাচ দেখা গেছে যেখানে দুর্দান্ত কৌশল থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে খেলোয়াড়দের ব্যর্থতায় জয় আসে না। আবার অনেক সময় খেলোয়াড়রা ভালো খেললেও ভুল কৌশলের কারণে দল হারে। আটলান্টায় এই দুইয়ের মহামিলন ঘটেছে। স্কালোনি ছক এঁকেছেন, আর মেসি সেই ছক অনুযায়ী দলের জয় নিশ্চিত করেছেন। নিজে গোল না পেলেও রেখেছেন গোল অবদান।
ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা কোচ ও অধিনায়ক যে ফর্মে আছেন, তাতে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা স্বপ্ন দেখছেন আরও একটি বিশ্ব জয়ের। মেসি কি পারবেন ফাইনালে নিজের রেটিং ১০-এ নিয়ে যেতে? উত্তর মিলবে ১৯ জুলাই।







