ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা
সমর্থকদের সংঘর্ষে আটলান্টা রণক্ষেত্র

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ের পর আটলান্টার রাজপথ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের বাইরে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামের অদূরে ‘হাডসন গ্রিল’ বারের সামনে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় থেকে শুরু হওয়া লড়াই দ্রুতই হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে আটলান্টা পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। অকুস্থলে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সমর্থকদের একাংশ রক্তাক্ত এবং পুলিশের হাতকড়া পরা অবস্থায় এলাকা ছাড়ছেন। লন্ডনের রিজেন্ট স্ট্রিটেও একইভাবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের লক্ষ্য করে ইংল্যান্ড সমর্থকদের হামলার খবর পাওয়া গেছে। মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও আর্জেন্টিনা দলের জয়োৎসব বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, জিওভানি লো সেলসো ও নিকোলাস ওতামেন্দিদের মাঠে একটি ব্যানার নিয়ে উদ্যাপন করতে দেখা যায়, যাতে লেখা ছিল— ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার। মাঠে রাজনৈতি ব্যানার প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকলেও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বের এই বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। এর আগে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ফিফা ও স্থানীয় প্রশাসন স্টেডিয়ামে ফকল্যান্ড-সংক্রান্ত যেকোনো প্রতীক বা ব্যানার বহন নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই খেলোয়াড়দের এহেন কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। ম্যাচটিকে শুরু থেকেই ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল এফবিআই ও ফিফা। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের রেশ এবং ফুটবল মাঠের ঐতিহাসিক শত্রুতার কথা মাথায় রেখে আটলান্টায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তা বেষ্টনী ও আলাদা গেট দিয়ে প্রবেশের নিয়ম থাকলেও টিকিটের অবাধ কেনাবেচার কারণে স্টেডিয়ামের ভেতর দুই দলের সমর্থকদের মিশ্র অবস্থান সহিংসতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।








