সাইকেলে চড়ে বিশ্বকাপে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আর্জেন্টিনার গুয়ালেগুয়াইচু শহর থেকে সাইকেলে যাত্রা শুরু করে ১০ মাসে প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে পৌঁছেছেন তিন আর্জেন্টাইন ভক্ত। ভিসেন্তে কোনকুলিনি, মিগেল সিলিও এবং ইয়ামান্দু মার্তিনেস গত বছরের ১৬ আগস্ট যাত্রা শুরু করেছিলেন আর মঙ্গলবার গন্তব্যে পৌঁছান। কানসাসেই আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
কেএসএইচবির তথ্য অনুযায়ী, তারা ১৭টি ভিন্ন দেশ পাড়ি দিয়েছেন সাইকেলে। পুরো যাত্রায় একমাত্র বিরতি নিতে হয়েছিল কলম্বিয়া ও পানামার মধ্যবর্তী দুর্গম দারিয়েন গ্যাপ অতিক্রমের সময়। ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই অঞ্চলটি সাইকেল তো দূরের কথা, অধিকাংশ যানবাহনের জন্যই অতিক্রম অযোগ্য। ফলে বাধ্য হয়ে বিমানে সীমান্ত পার হয়ে পানামায় পৌঁছায় দলটি। এরপর সেখান থেকেই আবার শুরু হয় মধ্য আমেরিকার পথে তাদের যাত্রা।
শহরে পৌঁছানোর পর তাদের উৎসবমুখর সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কানসাস সিটি হলে আর্জেন্টিনার পতাকা হাতে নিয়ে অন্য ভক্তরা তাদের স্বাগত জানাচ্ছেন।
তিন বন্ধুর দীর্ঘ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অনেক রোমাঞ্চকর। মিগেল এর আগে মাদ্রিদ থেকে রাশিয়া এবং মাদ্রিদ থেকে কাতার— দুটি বিশ্বকাপ সাইক্লিং অভিযানে অংশ নিয়েছেন। কাতার অভিযানে যা ছিল প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটারের পথ, তার সঙ্গী ছিলেন ইয়ামান্দুও। ২০১৯ সালে তিনজন মিলে গুয়ালেগুয়াইচু থেকে পেরুর কুসকো পর্যন্ত সাইকেল চালিয়েছিলেন।
এবারের অভিযানে ১৭টি দেশ পেরিয়ে এসেছেন তারা। পথে পথে তোলা ভিডিওতে মেসিকে জানান দিয়েছিলেন যে তারা আসছেন। এই অসাধারণ যাত্রার খবর বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং চেলসির মিডফিল্ডার এনজো ফের্নান্দেসও তাদের একটি পোস্টে সাড়া দেন।
এই দুঃসাহসিক যাত্রার অনুপ্রেরণা সম্পর্কে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’কে ভিসেন্তে বললেন, ‘সাইকেলে ভ্রমণ একটি অনন্য অভিজ্ঞতা— ধীরগতির, কিন্তু গভীর। দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা থেকে বের হয়ে প্রকৃতিকে অনুভব করার এই সুযোগ অতুলনীয়। প্রতিদিন শারীরিক ও মানসিক সীমা পরীক্ষা করতে করতে যাত্রাটাই হয়ে ওঠে গন্তব্য।’ তিনি আরও বললেন, ‘মহামারী তাকে শিখিয়েছে জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং প্রতিটি মুহূর্তকে পূর্ণভাবে কাজে লাগানো জরুরি। বাস বা বিমানে যাওয়া সহজ ও সস্তা হতো, কিন্তু গোটা মহাদেশ পেরিয়ে বিশ্বকাপে এসে শেষ করার এই অভিজ্ঞতা অমূল্য’— যোগ করেন তিনি। এখন তাদের লক্ষ্য আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা করা। সামাজিক মাধ্যমে তারা ভক্তদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন পোস্টে খেলোয়াড়দের ট্যাগ করতে, যাতে দলের অনুশীলন শিবিরে আমন্ত্রণ মেলে।




