ভিনিসিয়ুস জুনিয়র
‘সেরা খেলোয়াড় হতে আসিনি, হেক্সাই মূল লক্ষ্য’

সংগৃহীত ছবি
ব্যক্তিগত কোনো ট্রফি, প্রচারের আলো কিংবা টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের খেতাব— কোনো কিছুর প্রতিই বিন্দুমাত্র লোভ নেই তার। তিনি এসেছেন স্রেফ একটি লক্ষ্য নিয়ে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ২৪ বছরের ট্রফি খরা কাটিয়ে আবারও বিশ্বফুটবলের সিংহাসনে বসাতে। মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের হাইভোল্টেজ উদ্বোধনী ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে এমন ‘টিম-ফার্স্ট’ বা দলগত মানসিকতার কথাই শোনালেন সেলেসাওদের প্রধান অস্ত্র ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
আগামীকাল রবিবার নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় গ্রুপ ‘সি’-এর প্রথম ম্যাচে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইলালিস্ট মরক্কোর মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে রিয়াল মাদ্রিদের এই উইঙ্গার দলের ভেতরের একাগ্রতা তুলে ধরেন।
ভিনিসিয়ুস বলেছেন, ‘আমাদের জন্য বিশ্বকাপ আগামীকাল শুরু হচ্ছে না, এটি শুরু হয়েছে আরও বেশ কয়েক দিন আগেই। কারণ আমরা আমাদের খেলা, উন্নতি এবং প্রথম ম্যাচ থেকেই শতভাগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ভীষণভাবে মনোযোগী। আমি ব্যক্তিগত কোনো অর্জনের পরোয়া করি না। আমি এখানে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হতে আসিনি; আমি এসেছে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ে অবদান রাখতে।’
২০০২ সালের পর দীর্ঘ দুই দশক পেরিয়ে গেলেও বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা ছোঁয়া হয়নি সাম্বা বয়দের। গত দুটি আসরেই তাদের বিদায় নিতে হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। বিশেষ করে ২০২২ সালে কাতারের মাঠে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেওয়ার সেই যন্ত্রণাদায়ক ম্যাচের অংশ ছিলেন ভিনিসিয়ুসও।
সেই ক্ষত থেকে শিক্ষা নিয়েছেন জানিয়ে ২৪ বছর বয়সী এই তারকা বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে খেলা অন্য যেকোনো টুর্নামেন্টের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। গত আসর আমাকে শিখিয়েছে যে, ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত আমাদের একইভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। এবার আমাদের ভিন্ন কিছু করে দেখাতে হবে— আমরা অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছি।’
রিয়াল মাদ্রিদে দীর্ঘদিন কার্লো আনচেলত্তির অধীনে খেলে ২০২২ ও ২০২৪ সালে দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন ভিনিসিয়ুস। এবার জাতীয় দলেও সেই প্রিয় গুরুকে পাশে পাচ্ছেন। আনচেলত্তির কোচিং নিয়ে ভিনি বলেছেন, ‘আগের বিশ্বকাপের চেয়ে এখন আমার অভিজ্ঞতা ও ম্যাচ খেলার সংখ্যা অনেক বেশি। আনচেলত্তির অধীনে খেলা সবসময়ই স্পেশাল, কারণ তিনি আমাকে মাঠে নিজের সেরাটা দেওয়ার স্বাধীনতা দেন। তিনি সবসময় বলেন, বিশ্বকাপে ছোট ছোট নিখুঁত ডিটেইলসই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়, তাই পুরো ৯০ মিনিট সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।’
চলতি মৌসুমে কোনো বড় চোটের কবলে না পড়ায় ভিনিসিয়ুস এখন ক্যারিয়ারের সেরা শারীরিক ও মানসিক ফর্মে আছেন। চোটের কারণে প্রথম ম্যাচে নেইমারকে পাচ্ছে না ব্রাজিল, ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেলেসাওদের আক্রমণের পুরো লাইমলাইট থাকবে ভিনির ওপর। নিজের প্রিয় গুরুর ছকে আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়ে ভিনিসিয়ুস ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের শুভসূচনা করতে পারেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


