মেসিতে মুগ্ধ জাভি-মাসচেরানো

জাভি হার্নান্দেজ ও হাভিয়ের মাসচেরানো
লিওনেল মেসির বয়স আসলেই কি এখন ৩৯! বিশ্বকাপে এই কিংবদন্তির খেলা দেখার পর যে কারও মনে এ প্রশ্ন উঠবেই। এটিই স্বাভাবিক। মেসির সাবেক দুই সতীর্থও এ বয়সের মেসির খেলায় মুগ্ধ।
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে জাভি হার্নান্দেজ ও হাভিয়ের মাসচেরানো মেসির পারফরম্যান্সের প্রশংসায় বুঁদ। দুজনই একমত, ফুটবলে মেসির মতো আরেকজনকে খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
আজ বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। নিউ ইয়র্কে ফাইনালের আগে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসিকে নিয়ে কথা বলেন জাভি ও মাসচেরানো। দুজনেরই বিশ্বাস, বয়সকে যেন নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
মাসচেরানো বললেন, মেসির কাছ থেকে এখন আর কোনো কিছুতেই অবাক হওয়া উচিত নয়। তবু প্রতিবারই সে অবাক করে, ‘সে বিশেষ একজন। কারও সঙ্গে তার তুলনা চলে না। সে সম্পূর্ণ আলাদা। আমরা যখনই তাকে দেখি, অবাক হই। কারণ এমন অনেক কিছুই সে করে, যা অন্য কোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে কখনো দেখা যাবে না। ভবিষ্যতে তার মতো একজন খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। আমার মনে হয়, এটা অসম্ভব।’
বার্সেলোনায় মেসির সঙ্গে দীর্ঘ সময় মাঠে খেলেছেন জাভি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচটি মাসচেরানোর সঙ্গে বসে দেখেছিলেন তিনি। মেসির পারফরম্যান্স দেখে দুজনের বিস্ময়ের কথাও জানালেন স্পেনের সাবেক এই তারকা মিডফিল্ডার।
জাভি বললেন, “আমরা একসঙ্গে ম্যাচটি দেখছিলাম। তখন সে (মাসচেরানো) বলল, ‘৩৯ বছর বয়সে সে এটা কীভাবে করছে?’ এটা অবিশ্বাস্য।”
মেসিকে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবেও উল্লেখ করেন জাভি, ‘আমার মতে, সে ইতিহাসের সেরা। এখনো সে মাঠে পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে। তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা, তার মানসিকতা— সে একজন যোদ্ধা। সে নিঃসন্দেহে সেরা।’
মাসচেরানোর মতে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এখনো মেসির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি বললেন, ‘আমার মনে হয়, সে এখনো দেখিয়ে যাচ্ছে যে খেলাটার নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। বল তার কাছে থাকলে সে সিদ্ধান্ত নেয় কখন ম্যাচ জিততে হবে এবং সে সেটা করতেও পারে।’
মেসির ব্যক্তিগত কীর্তির পাশাপাশি এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে বার্সেলোনার প্রভাবও দেখতে পাচ্ছেন জাভি ও মাসচেরানো। স্পেন দলে বার্সেলোনার একাডেমি লা মাসিয়ার দুই প্রতিভা লামিন ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি রয়েছেন। দুজনকেই কিশোর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক করিয়েছিলেন জাভি, যখন তিনি ক্লাবটির কোচ ছিলেন।
১৫ বছর বয়সে ইয়ামাল এবং ১৬ বছর বয়সে কুবারসিকে কাছ থেকে দেখার স্মৃতি মনে করে গর্বিত জাভি বললেন, ‘আমি অবশ্যই গর্বিত। আমি তাদের দেখেছি, যখন লামিন ১৫ এবং পাউ (কুবারসি) ১৬ বছরের। তখন তারা আমাকে বলত, ‘কোচ, চিন্তা করবেন না, আমি প্রস্তুত।’ আমি ভয় পাচ্ছিলাম, এত কম বয়সে তারা হয়তো চাপ অনুভব করবে। কিন্তু মোটেও তা হয়নি।’
জাভির মতে, বার্সেলোনার ফুটবল দর্শনের প্রভাব এবারের বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্টের খেলাতেই আছে, ‘এই দর্শন এবং এই ভাবনার জন্য আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত। এই ধারণাটি এখনো এগিয়ে যাচ্ছে। এই পদ্ধতি নিয়েই আমরা ফাইনালে উঠেছি— আর্জেন্টিনাও একইভাবে।’
মাসচেরানো অবশ্য মনে করিয়ে দেন, আর্জেন্টিনা দলে বর্তমানে বার্সেলোনার খেলোয়াড়ের সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে খেলার ধরনে মিল রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
‘আমাদের দলে বার্সেলোনার খুব বেশি খেলোয়াড় নেই, কিন্তু খেলার ধরন অনেকটা একই রকম। আমার কাছে এ দুই দলই টুর্নামেন্টের সেরা। তারা বল নিয়ে খেলতে পছন্দ করে এবং বল ছাড়া স্বস্তি বোধ করে না’— বললেন মাসচেরানো।
তবে ফাইনালের বিজয়ী কে হবে— এ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতে রাজি নন জাভি ও মাসচেরানো। মাসচেরানোর শেষ কথা, ‘কী হবে, তা বলা খুব কঠিন। শুধু ঈশ্বরই জানেন। কারণ, এটি তো একটি ম্যাচই।’




