ভাইকিংসরা আবার আসছে!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
১৯৮১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে অসলোতে মুখোমুখি নরওয়ে-ইংল্যান্ড। আগের পাঁচ দেখায় কখনোই ইংলিশদের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পায়নি স্বাগতিকরা।
কিন্তু সেদিন হলো নতুন ইতিহাস। নরওয়ে জিতল ২-১ ব্যবধানে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকেতে নরওয়ের বিয়োর্গে লিলেলিয়েন দিলেন অবিস্মরণীয় সেই ধারাভাষ্য। ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারকে উদ্দেশ্য করে আবেগঘন বার্তায় তিনি বললেন, ‘আপনার ছেলেরা আজ নরওয়ের কাছে চরমভাবেই হার মেনেছে।’
সেই প্রথম জয়ের পর পেরিয়ে গেছে ৪৫ বছর। সব মিলিয়ে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মুখোমুখি হয়েছে ১২ বার। সাত জয়ে এগিয়ে আছে ইংলিশরাই। নরওয়ের জয় মাত্র দুটিতে। সবশেষ দুদলের দেখা হয়েছিল ২০১৪ সালে। সেই প্রীতি ম্যাচে নরওয়েকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল থ্রি লায়ন্সরা। এই মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানটা এবার হয়তো একপাশে রেখেই মাঠে নামতে চাইবে হ্যারি কেইনের দল। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সামনে যে ভিন্ন এক নরওয়ে।
আর্লিং হলান্ড জাদুতে এই দলটা যেন অতীতের সব নরওয়ে স্কোয়াডের চেয়ে আলাদা। হলান্ডের সঙ্গে ওডেগার্ড, সোরলথরা মিলে ২৮ বছর পর নরওয়েকে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিয়ে এসেছেন। বিশ্বকাপে পা রেখেই নরওয়ের এই সোনালি প্রজন্ম ভাঙছে একের পর এক রেকর্ড।
টুর্নামেন্ট যত গড়িয়েছে, নরওয়ে ততটাই ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে তাদের লড়াকু মানসিকতা এবং কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবল প্রমাণ করেছে, কাগজে-কলমে অন্য যেকোনো প্রতিপক্ষ এগিয়ে থাকলেও নরওয়েকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পাঁচ ম্যাচে সাত গোল করে গোল্ডেন বুট ও বলের দৌড়ে দারুণভাবেই আছেন হলান্ড। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ সেই ইংল্যান্ড, যাদের হারিয়ে দেশটির ধারাভাষ্যকার বার্তা দিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকেই!
নিখুঁত পাসিং, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং ডেডলক ভাঙার অসামান্য ক্ষমতা; এই তিনে ইংলিশরা এখন শিরোপার অন্যতম দাবিদার। যদিও নকআউটের দুই ম্যাচে ডিআর কঙ্গো ও মেক্সিকো তাদের বেশ ভুগিয়েছে। কঙ্গো তো প্রায় বিদায়ই করে দিয়েছিল থ্রি লায়ন্সদের। আজতেকায় মেক্সিকোও ঘাম ছুটিয়েছে তাদের।
তবে দুবারই উতরে গেছে ইংল্যান্ড। এমন কঠিন জয়ে অবশ্য অনেক ইংলিশ সমর্থকই খুশি! কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে জয়ের পথ খুঁজে বের করার যে বাড়তি অনুপ্রেরণা পেল থমাস টুখেলের দল।
ইংল্যান্ডের বড় ভরসা কেইন-বেলিংহাম জুটি। বিশেষ করে, নকআউটে এই তারকা ফুটবলারের পারফরম্যান্স প্রতিপক্ষের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। নরওয়ে রক্ষণের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাও নেবেন এ দুজনই। ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে আসার কথা দুই দেশের রাজপরিবারের। ৪৫ বছর আগে ইংলিশ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে যে বার্তা দিয়েছিলেন নরওয়ের ধারাভাষ্যকার লিলেলিয়েন, এবারও কি সেরকম কিছুই দেখবে মায়ামি স্টেডিয়াম?




