অবসরের পর
মেসির ব্যবসা আর ফুটবল সাম্রাজ্য বিস্তারের পরিকল্পনা

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষে কী করবেন লিওনেল মেসি? বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোরে স্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। বিবিসি স্পোর্টস জানাচ্ছে, ফুটবল ছাড়ার পর তিনি নিজের বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ও ক্লাব মালিকানা বিস্তারের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন।
ফুটবল ক্যারিয়ার শেষে খেলাধুলার সাথে মেসির সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ইন্টার মায়ামির সাথে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকা মেসি পরবর্তীতে কেবল খেলোয়াড় কিংবা কোচ নয়, বরং ক্লাবের নীতিনির্ধারক বা মালিক হিসেবে ফুটবলের সাথে যুক্ত থাকতে চান। কারণ, কোচিংয়ের চেয়ে পর্দার আড়াল থেকেই নাকি ক্লাবগুলোকে দিকনির্দেশনা দেওয়া বা মালিকানা নেওয়ার প্রতি মেসির আগ্রহ বেশি। মেসি ইতোমধ্যে স্পেনের পঞ্চম স্তরের ক্লাব ‘ইউই কর্নেলা’ ক্রয়ের পাশাপাশি স্প্যানিশ ক্লাব ‘সিডি এলদেন্সে’-এর মালিকানাও গ্রহণ করেছেন। এছাড়া উরুগুয়েতে লুইস সুয়ারেসের সাথে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘দেপোর্তিভো এলএসএম’ ক্লাব, যা প্রতিষ্ঠার প্রথম মৌসুমেই তৃতীয় স্তরে উন্নীত হয়েছে। তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে আয়োজিত ‘মেসি কাপ’-এর পরিধি বাড়িয়ে ১৬টি একাডেমি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সফল টুর্নামেন্ট আয়োজন করাও ফুটবলের প্রতি তার গভীর প্রেমের প্রমাণ।
মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যবসায়িক দুনিয়াতেও এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন মেসি। গত জুনে ফোর্বস ম্যাগাজিনের করা তালিকা অনুযায়ী, ফুটবল ও ব্যবসায়িক আয় মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার। তার এই ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের মধ্যে রয়েছে হোটেল ব্যবসা। ইবিজা থেকে অ্যান্ডোরা পর্যন্ত ৬টি বুটিক হোটেল নিয়ে গঠিত ‘এমআইএম হোটেলস’ এর মালিক তিনি। এছাড়া রিয়েল এস্টেট ব্যবসাতেও বিনিয়োগ আছে মেসির। রোসারিওতে পারানা নদীর তীরে ২৪টি বাড়ির একটি আবাসিক প্রকল্প ‘কারাস্কো এম’ তৈরি করেছেন। জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ চেইন ‘এল ক্লাব দে লা মিলানেসা’ এবং ড্রিংকওয়্যার জায়ান্ট স্ট্যানলির সাথে দীর্ঘমেয়াদি পার্টনারশিপ আছে মেসির। দীর্ঘ দুই দশক ধরে সবুজ গালিচায় জাদুকরি পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার পর এবার দূরদর্শী ব্যবসায়ী হিসেবে অন্য দুনিয়া জয় করতে প্রস্তুত সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবল জাদুকর।





