বিশ্বকাপ
পেলে-রোনালদোর ইনজুরি বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে নেইমারকে

কিছুদিন আগেই কার্লো আনচেলত্তি বলেছিলেন, ব্রাজিলের খেলা দেখতে তার ভয় লাগে। কে কখন ইনজুরিতে পড়ে বলা যায় না। যেভাবে ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপের আগে ইনজুরিতে পড়েছেন, তাতে তার ভয় লাগাটা স্বাভাবিক।
বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে চোটে পড়েন এস্তেভাও ও এদের মিলিতাও। চোট এতটাই গুরুতর যে, বিশ্বকাপই শেষ গেছে তাদের। ভয় ছিল নেইমারকে নিয়েও। শত প্রতিকূলতার মাঝে টিকে গেছেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন পুরোপুরি থামেনি।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণার পর আবারও চোট বাঁধিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। গুরুতর না হলেও নামটি যখন নেইমার, তখন নির্ভার থাকার সুযোগ কই!
‘ফিটনেস, ফিটনেস’ করে আনচেলত্তি মুখে ফেনা তুলে ফেলেছেন। শতভাগ ফিটের নেইমারকে তবু বিশ্বকাপে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা। চোটের দুশ্চিন্তা তো থেকেই যাচ্ছে। আনচেলত্তির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে পারে। তবে এই জায়গায় ব্রাজিলিয়ানরা ইতিবাচক দিক খুঁজে নিতে পারেন। বিশ্বকাপের আগে তারকা খেলোয়াড়ের ইনজুরি বা ফিটনেস সমস্যা বরং আশীর্বাদ হয়ে হয়ে এসেছে ব্রাজিলের জন্য!
অবাক হচ্ছেন? ইতিহাস কিন্তু সুসংবাদই দিচ্ছে ব্রাজিলকে।
২০০২ সাল, ব্রাজিলের শেষ বিশ্বকাপ এসেছিল যেবার; কোরিয়া-জাপানের ওই টুর্নামেন্টের আগে ঘটনা। ইনজুরিতে বিশ্বকাপ অনিশ্চিত রিভালদো ও রোনালদোর। রিভারদো তখন বার্সেলোনায়, আর রোনালদো খেলেন ইন্টার মিলানে। ক্লাব দুটি ধরেই নিয়েছিল বিশ্বকাপে যেতে পারলেন না ব্রাজিলের দুই সেরা খেলোয়াড়।
তাদের ধারণা ভুল প্রমাণ করে ব্রাজিল দলের মেডিক্যাল টিম। তাদের জাদুতে বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেন দুই তারকা। এরপরে যা হলো, তা তো রীতিমতো ইতিহাস; ব্রাজিলের হাতে পঞ্চম বিশ্বকাপ। নায়ক কে- চোট শঙ্কায় বিশ্বকাপ মিস করতে যাওয়া রিভালদো ও রোনালদো।
১৯৫৮ সালের ঘটনাটাও প্রায় একইরকম। যে বিশ্বকাপে জন্ম নিয়েছিল ‘ফুটবলের রাজা’। ১৭ বছর বয়সে ফুটবলদুনিয়া কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন পেলে। অথচ চোটের কারণে তার বিশ্বকাপ খেলারই কথা না। বিশেষ চিকিৎসায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি। বাকিটা ইতিহাস। পেলে জাদুতে ব্রাজিলের প্রথম বিশ্বকাপ জয়।
নেইমারের মাঝে খোঁজা হয়েছিল ‘নতুন পেলে’। প্রতিভায় তিনি অনন্য। কিন্তু ইনজুরি তার ক্যারিয়ারের উজ্জ্বলতা কমিয়েছে। শত্রু হয়ে দাঁড়িয়ে হতাশায় পুড়িয়েছে। কে জানে, ২০২৬ বিশ্বকাপে ইনজুরিই তার ভাগ্যের চাবিকাঠি হয়ে ওঠে কিনা!
পেলে কিংবা রোনালদো-রিভালদো যেভাবে চোট কাটিয়ে ফিরে আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়েছিলেন ব্রাজিলকে, নেইমারও গড়তে পারেন একই ইতিহাস। কারণ পূর্বসূরি কিংবদন্তিদের ইনজুরি বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে নেইমারকে!






