একাদশের সবাই বিদেশি
তোপের মুখে ইন্দোনেশিয়া দল

সংগৃহীত ছবি
ফিফা আসিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানের জয় পেয়েছে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া। তবে এই জয়ের পর উঠেছে বড় এক বিতর্ক। ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিদেশী বংশোদ্ভূত ১১ জনকে নিয়ে শুরুর একাদশ সাজানো হয়েছিল। কিন্তু কেন এমনটা করলেন কোচ জন হার্ডম্যান?
ম্যাচ শেষে জাকার্তার গেলোর বুং কার্নো স্টেডিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের কোচকে প্রশ্নবাণে নাজেহাল করেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। এক সাংবাদিক ইন্দোনেশিয়ার ৫১ বছর বয়সী ইংলিশ কোচ হার্ডম্যানকে প্রশ্ন করেন, একাদশে একজনও স্থানীয় খেলোয়াড় না থাকায় সবার জন্য কি আদৌ সমান সুযোগের আছে কিনা।
সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে যারপরনাই চটেছেন হার্ডম্যান। জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা এমন একটি দল যারা এই দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চায়। তারা বিমানে চেপে আসতে প্রস্তুত, জয়ের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেও রাজি। ৫০-৫০ ট্যাকেল জিততে এবং সমর্থকদের জন্য আবেগ ও হৃদয় দিয়ে খেলতে প্রস্তুত। এই বিষয়টিকে সম্মান জানানো উচিত।‘
কোচ আরও যোগ করেন, ‘এখানে কোনো বৈষম্য নেই। কোনো স্থানীয় বা প্রবাসী বলে কিছু নেই—আমরা সবাই ইন্দোনেশিয়ান। আমরা একই পতাকার প্রতিনিধিত্ব করি, জাতীয় সঙ্গীত গাই এবং প্রতিবার মাঠে একসাথে দাঁড়াই। এই মানসিকতা আমাদের বদলাতে হবে। তারা আপনাদের জন্য খেলতে ভালোবাসে। যখন তারা লড়াই করা ছেড়ে দেবে বা দৌড়ানো বন্ধ করে দেবে, তখন আপনি এই প্রশ্নটি করতে পারেন।‘
কোচের এই মন্তব্য এবং একাদশের সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে। ইনস্টাগ্রামে এক ভক্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘কেবল একটি জয়ের জন্য আমরা আমাদের স্থানীয় প্রতিভাদের বঞ্চিত করলাম। এটি কি ইন্দোনেশিয়ার দেশীয় ফুটবলের বিলুপ্তির সূচনা?’ অন্য একজন প্রশ্ন তুলেছেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখা তরুণ উদীয়মান খেলোয়াড়দের আমরা এখন কী উত্তর দেব?’
তবে কোচের পক্ষেও দাঁড়িয়েছেন অনেকে। এক সমর্থক মন্তব্য করেন, ‘আমরা এখনও স্থানীয় ও প্রবাসীতে বিভক্ত হয়ে আছি—এটা লজ্জাজনক। বাইরের একজন কোচ এসে আমাদের শেখাচ্ছেন যে উন্নতি করতে হলে আগে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।‘
চলমান টুর্নামেন্টে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার ২৩ সদস্যের স্কোয়াডে সর্বোচ্চ ১৭ জন বিদেশি খেলোয়াড় রয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ফিলিপাইন, যাদের দলে ১৮ জন এমন খেলোয়াড় আছেন। এছাড়া মালয়েশিয়ার ৮ জন (৩ জন দ্বৈত নাগরিকত্বসহ), ভিয়েতনামের ৪ জন এবং সিঙ্গাপুরের ২ জন (কিওগা নাকামুরা ও সং উই-ইয়ং) বিদেশি খেলোয়াড় রয়েছে। বাংলাদেশের স্কোয়াডেও এমন ফুটবলার আছেন ৯ জন।
মালয়েশিয়া অবশ্য এই কৌশলে কিছুটা বিপাকে পড়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে সাতজন বিদেশী বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়কে মাঠে নামানোর অভিযোগে ফিফা তাদের ফুটবল ফেডারেশনকে শাস্তির আওতায় আনে।



