বয়সভিত্তিক দলে বিদেশি কোচের খোঁজে বাফুফে

সংবাদ সম্মেলনে বাফুফের সহ-সভাপতি ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় দলের প্রধান কোচ চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। পাশাপাশি বয়সভিত্তিক জাতীয় দলগুলোর জন্যও বিদেশি কোচ খোঁজা হচ্ছে। এএফসি’র দুটি বাছাইপর্বকে সামনে রেখে দ্রুতই একাধিক বিদেশি কোচ নিয়োগ দেওয়ার কথা বলেছেন বাফুফের সহ-সভাপতি ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী।
সম্প্রতি মালদ্বীপে টানা দ্বিতীয় সাফ অনূর্ধ্ব-২০ শিরোপা জয়ের পর উদ্বুদ্ধ হয়ে এশিয়ায় দৃষ্টি রাখতে চাইছে বাফুফে। এ বছরই অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ ও অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। বাছাই উতরে মূল পর্বে যেতে সেরা প্রস্তুতির সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি ভালোমানের বিদেশি কোচ নিয়োগের কথা বলেছেন জাহেদী। অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের আয়োজক হতে এএফসিতে আবেদন করার কথাও জানান তিনি।
রবিবার জাহেদীর সভাপতিত্বে ডেভেলপমেন্ট কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে জাহেদী সভার সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরেন। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাই আয়োজনের প্রস্তাব পাঠানোর কথা জানিয়েছেন তিনি, ‘সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের পরে আজকের (রবিবারের) সভাটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আগামী ২৫ আগস্ট থেকে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই শুরু হবে। এই বাছাইটি করার জন্য আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। প্রস্তাবটা এএফসি-র সক্রিয় বিবেচনায় আছে এবং আশা করছি এটা আমরা আয়োজন করতে পারব। এছাড়া অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের বাছাই আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। এটার ভেন্যু এখনও চূড়ান্ত হয়নি।’
ছয় সপ্তাহের একটা ক্যাম্প করার কথাও জানিয়েছেন নাসের শাহরিয়ার জাহেদী,‘অনূর্ধ্ব-২০ দল নিয়ে আমরা কমপক্ষে ছয় সপ্তাহের একটা ক্যাম্প করার পরিকল্পনা করছি। প্রাথমিকভাবে ক্যাম্পটা ছয় সপ্তাহ সম্ভব হলে ঢাকায় করবো। যদি না হয় তখন চার সপ্তাহ যশোর শামসুল হুদা অ্যাকাডেমিতে, পরের দুই সপ্তাহ বিকেএসপি অথবা ঢাকায় রেখে করবো। দলকে আরও ভালোভাবে তৈরি করার জন্য আমরা চেষ্টা করব দেশের ভেতরে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে এবং দেশের বাইরে শক্তিশালী দুইটা দেশের দলের সঙ্গে আরও দুটি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা করছি যাতে এএফসি-তে অংশগ্রহণের আগে দল যথেষ্ট ভালোভাবে তৈরি করতে পারে।‘
অনূর্ধ্ব-১৭ দলকেও ভালো প্রস্তুতির সুযোগ করে দিতে চান জাহেদী, ‘অনূর্ধ্ব-১৭ যে দলটা এএফসিতে যাবে, এদেরকে চেষ্টা করব ইউরোপে বা এশিয়াতে বিভিন্ন ধরনের অ্যাকাডেমি কাপ হয়, সেগুলোতে খেলাতে। আসলে এই দুটি বাছাইয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো উতরে মূল পর্বে যেতে।’
কেবল এই দুটি দল নয়, জাহেদী চারটি বয়সভিত্তিক দলের জন্য হেড কোচসহ স্থায়ী কোচিং স্টাফ নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলেছেন, ‘আমরা ইয়ুথ এবং গ্রাসরুট ফুটবলের জন্য কোচ নিয়োগ করতে যাচ্ছি। এটা নিয়ে সার্কুলার দেওয়া হয়েছে। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে আবেদন আমরা আহ্বান করছি এবং চেষ্টা করব এপ্রিলের ভেতরেই কোচ নির্বাচন করতে। চারটি দলের জন্য দুই থেকে তিনজন বিদেশি কোচ নিয়োগ দিব। আর আমাদের বাংলাদেশি যারা কোচিং ফ্যাকাল্টি আছেন তারা অবশ্যই ভালো, তাদের ডেডিকেশন, দেশের প্রতি মমত্ববোধ, ফুটবলের প্রতি দরদ সবই আছে। তবে ফুটবল দিনকে দিন সারা বিশ্বে টেকনিক্যালি অনেক এগিয়ে গেছে। সেই এক্সপোজারটা হয়তো আমরা আমাদের কোচদের পূর্ণাঙ্গভাবে দিতে পারি না তাই বিদেশি কোচের মুখাপেক্ষী হতে হয়।‘
শিরোপাজয়ী অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ ছিলেন ব্রিটিশ মার্ক কক্স, যার কোচিং সার্টিফিকেট নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে মিথ্যে বলে তিনি চাকুরি বাগিয়ে নিয়েছিলেন। এক মাসের চুক্তি অবশ্য কক্সের সঙ্গে শেষ হয়ে গেছে বাফুফের। তাই নতুন করে বয়সভিত্তিক দলগুলোর জন্য কোচের খোঁজ করছেন বাফুফে।
জাহেদী বলেছেন, ‘দলের সঙ্গে মার্ক কক্স গিয়েছিল কক্সের বায়োডাটাতে সে কখনোই বলে নাই সে প্রো লাইসেন্স হোল্ডার। সে বলেছে সে এ গ্রেড লাইসেন্স হোল্ডার। সে বলেছে সে প্রো লাইসেন্সের পার্ট ওয়ান কমপ্লিট করেছে। তো এটা নিয়ে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সে সফলভাবে তার এক মাসের দায়িত্ব পালন করেছে। এখন সে যদি আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চায়, আবেদন করতে পারে। আমরা অন্য আবেদনগুলো যাচাই করেই যেটা উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবো।‘
জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাই আয়োজন করার কথা জানিয়ে আবেদন করার কথা জানান জাহেদী। রোনান সুলিভান, ডেকলান সুলিভান, ইব্রাহিম নেওয়াজরা ভালো খেলায় আরও বিদেশি দেশের জার্সি পড়তে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বিদেশে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশিদের সুযোগ দিতে কোনই আপত্তি নেই জাহেদীর। তবে তিনি চান, সারা দেশ থেকে প্রতিভা তুলে এনে পূর্ণাঙ্গ ফুটবলার হিসেবে গড়ে তুলতে।

