ব্যালন ডি’ অর
সেরাদের কাতারে থেকেও যে কারণে জেতেননি পেলে-ম্যারাডোনা

সংগৃহীত ছবি
ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের আলোচনায় পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনার নাম সব সময়ই ওপরের দিকে থাকবে। দুজনই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার গড়েছেন, জিতেছেন বিশ্বকাপসহ বড় বড় শিরোপা। পেয়েছেন বিশ্বজোড়া স্বীকৃতিও। অথচ খেলার সময়ে তাদের কারও হাতেই ওঠেনি ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। এর পেছনে ছিল পুরস্কারটির তৎকালীন নিয়ম।
১৯৫৬ সালে ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল চালু করে ব্যালন ডি’অর। শুরুতে ইউরোপে খেলা সেরা ফুটবলারকে দেওয়া হতো এই পুরস্কার। তবে নিয়ম ছিল, শুধু ইউরোপীয় নাগরিকরাই এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন। ফলে ইউরোপের ক্লাবে খেললেও দক্ষিণ আমেরিকাসহ অন্য মহাদেশের ফুটবলারদের ব্যালন ডি’অর জয়ের সুযোগ ছিল না।
ব্রাজিলের হয়ে খেলা পেলে ক্যারিয়ারের বড় একটি সময় কাটিয়েছেন সান্তোসে। জাতীয় দলের হয়ে ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালে জিতেছেন তিনটি বিশ্বকাপ। ফুটবল ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি রয়েছে তার। ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই পর্যায়েই অসাধারণ সাফল্য থাকলেও ব্যালন ডি’অরের জন্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ পাননি তিনি।
একই কারণে বঞ্চিত হয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাও। বার্সেলোনা, নাপোলি ও সেভিয়ার মতো ইউরোপের ক্লাবে খেললেও ইউরোপীয় নাগরিক না হওয়ায় পুরস্কারটির জন্য মনোনীত হওয়ার সুযোগ ছিল না তার।
১৯৮৬ বিশ্বকাপ ছিল ম্যারাডোনার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায়। মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত আসরে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকাপ জেতান তিনি। টুর্নামেন্টে করেন পাঁচ গোল। কিন্তু সেই বছরও ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে থাকতে পারেননি। পুরস্কারটি জিতেছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের ফুটবলার ইগর বেলানোভ।
অবশেষে ১৯৯৫ সালে ব্যালন ডি’অরের নিয়মে পরিবর্তন আনে ফ্রান্স ফুটবল। ইউরোপের ক্লাবে খেললে যেকোনো দেশের ফুটবলারকে পুরস্কারটির জন্য বিবেচনার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই বছর প্রথম অ-ইউরোপীয় ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জেতেন লাইবেরিয়ার জর্জ উইয়াহ।
এরপর ২০০৭ সালে নিয়মে আরও পরিবর্তন আসে। তখন থেকে বিশ্বের যেকোনো দেশের ক্লাবে খেলা ফুটবলারদের জন্যও উন্মুক্ত করা হয় পুরস্কারটি।
খেলোয়াড়ি জীবনে ব্যালন ডি’অর না পেলেও পরবর্তী সময়ে সম্মানসূচক স্বীকৃতি পেয়েছেন পেলে ও ম্যারাডোনা। ১৯৯৫ সালে ম্যারাডোনাকে দেওয়া হয় ব্যালন ডি’অর দ্য অনার। আর ২০১৩ সালে পেলেকে দেওয়া হয় ফিফা ব্যালন ডি’অর প্রি দ্য অনার। ফলে প্রচলিত নিয়মে পুরস্কারটি না জিতলেও ফুটবলে তাদের অসামান্য অবদান স্বীকৃতি পেয়েছে।





