ইউরোপীয় ফুটবলে অর্থের ঝনঝনানি
প্রিমিয়ার লিগের একক আধিপত্য

সংগৃহীত ছবি
ইংল্যান্ড, স্পেন, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালি; ৫ দেশের লিগকে বলা হয় ইউরোপীয় ফুটবলের ‘বিগ ফাইভ’। নতুন মৌসুমে মাঠে গড়াচ্ছে ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগ। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি বিপুল অর্থের ঝনঝনানি সমানভাবে নজর কাড়ছে ক্রীড়াবিশ্বের। শীর্ষ এই পাঁচ লিগ এখন আর্থিক দিক থেকে ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও ‘ডেলয়েট অ্যানুয়াল রিভিউ অব ফুটবল ফাইন্যান্স’ এর তথ্য মতে, শীর্ষ ৫ এই লিগে সম্মিলিত বাজারমূল্য বর্তমানে প্রায় ৩২০০ কোটি ইউরো। শুধু তাই নয়, ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর বার্ষিক মোট রাজস্ব আয় এই প্রথমবারের মতো ৪০০০ কোটি ইউরো ছাড়িয়ে গেছে।
এই বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে প্রিমিয়ার লিগ একাই। ১২৫৬ কোটি ইউরোর বাজারমূল্য এবং ৮০০ কোটি ইউরোর বেশি বার্ষিক রাজস্ব নিয়ে বাকি মহাদেশীয় লিগগুলোর চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ইংলিশ ক্লাবগুলো।
প্রিমিয়ার লিগের এই অবিশ্বাস্য উত্থান বাকি ইউরোপকে একপ্রকার কোণঠাসা করে ফেলেছে। স্পেনের লা লিগা (বাজারমূল্য ৫৪৫ কোটি ইউরো) এবং ইতালির সেরি আ (৫৩৬ কোটি ইউরো) নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করলেও, আর্থিক প্রবৃদ্ধির দৌড়ে তারা অনেকটাই পিছিয়ে।
বায়ার্ন মিউনিখের মতো পরাশক্তি কিংবা রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মতো বিশ্বসেরা ব্র্যান্ডগুলো ফুটবল প্রিমিয়ার লিগের একচ্ছত্র প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হিমশিম খাচ্ছে।
ইউরোপের লিগগুলোর আয়ের উৎসেও এসেছে কৌশলগত পরিবর্তন। সম্প্রচার স্বত্বের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ক্লাবগুলোর নজর এখন ‘ম্যাচডে’ রাজস্ব এবং বৈশ্বিক স্পন্সরশিপের ওপর।
এদিকে স্টেডিয়াম এখন কেবল টিকিট বিক্রির স্থান নয়; বরং ডাটা, পর্যটন ও আধুনিক আতিথেয়তার এক বড় বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম। বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদ তাদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আধুনিকীকরণ করে বার্ষিক ৫৯০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি বাণিজ্যিক আয় নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে ফ্রান্সের লিগ ওয়ান এবং ইতালির সিরি আ ঘরোয়া সম্প্রচার চুক্তিতে বড় দরপতনের মুখোমুখি হয়ে বিকল্প ডিজিটাল ও সরাসরি গ্রাহকনির্ভর স্ট্রিম মডেল বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
চলতি দলবদল বাজারেও ইংলিশ লিগের আধিপত্য দৃশ্যমান। মোট ৬৫০ কোটি ইউরোর দলবদলে একাই ২৩০ কোটি ইউরো খরচ করেছে ইংলিশ ক্লাবগুলো!
বিশ্বের সেরা ১০টি সর্বোচ্চ ব্যয়কারী ক্লাবের ৭টিই প্রিমিয়ার লিগের। তাদের মধ্যে চেলসি, টটেনহ্যাম ও ম্যানচেস্টার সিটি শীর্ষে। যদিও রিয়াল মাদ্রিদ ১২.৫ কোটি ইউরো দিয়ে ইয়ান দিওমান্দেকে দলভুক্ত করে মৌসুমের অন্যতম ব্যয়বহুল সাইনিং সম্পন্ন করেছে, তবুও সার্বিক খরচে ইংলিশ ক্লাবগুলোর ধারেকাছেও কেউ নেই।
বিশ্ব ফুটবলের এই বাজার সম্প্রসারণের যুগে একদিকে যেমন অর্থের ঝনঝনানি বাড়ছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে নতুন চ্যালেঞ্জ। ফুটপ্রো এক্সপোর তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের ক্লাবগুলো বিপুল অর্থের বিনিয়োগে গতি বাড়াচ্ছে। খেলাধুলা ও বাণিজ্যের এই মেলবন্ধনে মাঠের লড়াইয়ের মতোই সমান উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে ইউরোপীয় ফুটবলের অফ-ফিল্ড অর্থনীতি।






