কিশোর ফুটবলারদের মুখে লাখ টাকার হাসি

মুখে স্মিত হাসি। চোখেমুখে অন্যরকম উচ্ছ্বাস। বাফুফে ভবনের সামনে একসঙ্গে এত ক্যামেরা, সাংবাদিকদের ভিড় আর বারবার সাক্ষাৎকারের আবেদনে খানিকটা অচেনা অভিজ্ঞতাই হচ্ছিল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলারদের। কিছুদিন আগেও যারা ছিলেন ফুটবল মাঠের অ-পরিচিত মুখ, আজ তারা যেন হঠাৎ করেই পেয়ে গেছেন তারকার আলো।
আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফুটবল উৎসব থেকে ফেরার পর তাদের ঘিরে মঙ্গলবার এই আয়োজন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাওয়া সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে দলের ২০ সদস্যের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ ও মিডিয়া সদস্যরাও পেয়েছেন একই অঙ্কের অর্থ। সব মিলিয়ে পুরস্কারের পরিমাণ ২০ লাখ টাকা।
বাকুর এই আসরে ১৮৯ দেশের অংশগ্রহণ ছিল। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দেশগুলোকে ছয়টি স্তরে ভাগ করে খেলানো হয়। বাংলাদেশ নিজেদের গ্রুপে ছয় দলের মধ্যে পঞ্চম হয়ে ‘ই’ স্তরে খেলার সুযোগ পায়। সেখানে নকআউট পর্বে সেশেলস ও সিঙ্গাপুরকে টাইব্রেকারে হারায় দলটি। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ এবং সেমিফাইনালে গ্যাবনকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। তবে শিরোপার লড়াইয়ে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের কাছে ৪-১ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—বাংলাদেশ পুরো বিশ্বকাপের রানার্সআপ নয়, ‘ই’ স্তরের রানার্সআপ। ১৮৯ দেশের মধ্যে সামগ্রিক অবস্থান ১৩০তম। এই পার্থক্যটুকু মাথায় রেখেই কিশোরদের অর্জনকে মূল্যায়ন করতে হবে।
তারপরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয়, প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই এবং বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা তাদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় প্রাপ্তি। আর সেই অর্জনের আনন্দটাই যেন ফুটে উঠছিল তাদের মুখে।
এক লাখ টাকার পুরস্কার হয়তো আজ তাদের আনন্দ আরও বাড়িয়েছে। কিন্তু এই হাসিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে এখন প্রয়োজন আরও বড় কিছু—নিয়মিত উন্নত প্রশিক্ষণ, মানসম্মত সুযোগ-সুবিধা, আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা। কারণ আজকের এই কিশোরদের অনেকেই একদিন জাতীয় দলের জার্সি পরার স্বপ্ন দেখছে। তাদের সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব এখন সংশ্লিষ্টদের।




