নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
মালদ্বীপকে হারাতেই ঘাম ঝড়লো বাংলাদেশের

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ ৪-২ মালদ্বীপ
নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা অভিযানের শুরুটা হলো ভীষণ নড়বড়ে। জয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে ঠিক, তবে ভারত পরীক্ষার আগে পুঁচকে মালদ্বীপ রীতিমত ঘাম ঝড়িয়েছে ঋতুপর্ণা চাকমাদের। যাচ্ছেতাই ডিফেন্ডিং ও বাজে কিপিংয়ে সহজ ম্যাচটা কঠিন করে ৪-২ ব্যবধানে জিততে হয়েছে বাংলাদেশকে। ভারতের গোয়ায় দলের এমন ফুটবলে পিটার বাটলারদের কপালে চিন্তার ভাজ পড়াই স্বাভাবিক।
চোট ও অসুস্থতার কারণে এ ম্যাচে খেলতে পারেননি মাঝমাঠের অন্যতম কারিগর মনিকা চামকা ও অভিজ্ঞ রাইটব্যাক শিউলি আজিম। ভারতের কাছে ১১-০ গোলে হারা মালদ্বীপ মোকাবেলায় এই দুই অভিজ্ঞকে না পাওয়া বড় সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে পুরো ম্যাচেই দু'জনের অনুপস্থিতি বোঝা গেছে। বিশেষ করে মাঝমাঠে মারিয়া মান্ডাকে বড্ড ছন্নছাড়া মনে হয়েছে মনিকা না থাকায়। ঋতুপর্ণা চাকমাও নিজের স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে পারেননি।
আর শিউলি আজিম না থাকায় ডিফেন্সলাইন যে দুর্বল হয়েছে, তা দুটি গোল দেখলেই বোঝা যায়। দুই গোলে গোলকিপার মিলি আক্তারের দায় আছে ঠিক, তবে রক্ষণ অরক্ষিত রাখায় দায় এড়াতে পারবেন না দুই সেন্টারব্যাক আফঈদা খন্দকার ও কোহাতি কিসকু।
অথচ ম্যাচের শুরুর বাঁশির ১১তম সেকেন্ডে দলকে স্বপ্নের শুরু এনে দিয়েছিলেন আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। কিক-অফের পর প্রথম আক্রমণে ঋতু বাঁ দিক থেকে ক্রস দেন সুইডেন প্রবাসী রানিয়াকে। তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের শটে গোলের আনুষ্ঠানিকতা সাড়েন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে অভিষেকের পর চতুর্ত ম্যাচে এসে প্রথম গোলের দেখা পান রানিয়া।
তৃতীয় মিনিটে অলিম্পিক গোল পেতে পারতেন ঋতু। তবে তার বাঁকানো কর্নার দূরের পোস্টে লেগে ফিরে আসে। দ্বাদশ মিনিটে ঋতুর নিচু ক্রসে শামসুন্নাহার জুনিয়র ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি। ২৮ মিনিটে সেরা সুযোগ হাতছাড়া করেন এই ফরোয়ার্ড। এবার ঋতুর থ্রু ধরে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে মারিয়া দারুণ সেট-আপ দেন শামসুন্নাহারকে। তবে এই ফরোয়ার্ডের বাঁ পায়ের শট পোস্ট উচিয়ে বাইরে যায়।
৩৪ মিনিটে উমহেলা মারমা ব্যবধান বাড়ান। ডিফেন্সের ভুলে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে ডানপায়ের গড়ানো শট পোস্টে জমান এই মিডফিল্ডার। চার মিনিট পর আফঈদার দূরপাল্লার শট ফিস্ট করে বিপদমুক্ত করেন মালদ্বীপ কিপার ফাতিমা।
৪৩ মিনিটে মালদ্বীপ এক গোল শোধ করে বাংলাদেশের ডিফেন্ডের অবহেলায়। মালদ্বীপ ফরোয়ার্ড মরিয়ম নুরা বক্সের অনেক বাইরে থেকে ডানপায়ে হাওয়ায় ভাসানো শট নেন। বাংলাদেশের দুই সেন্টারব্যাক আফঈদা ও কোহাতি পারেননি বলের লড়াইয়ে জিততে। কিপার মিলি পজিশন ছেড়ে অনেক বাইরে ছিলেন বলেই নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করে সফল হন নুরা। বল মিলির মাথার উপর দিয়ে পোস্টে চুমু খেয়ে গোললাইন অতিক্রম করে।
বিরতি থেকে বাংলাদেশ ফেরে আক্রমণভাগে শক্তি বাড়িয়ে। তবে ৫৭ মিনিটে ধারার বিপরীতে গোল হজম করে তারা। অরক্ষিত ডিফেন্সের সুযোগে সমতায় ফেরে মালদ্বীপ। মাঝমাঠ থেকে এক সতীর্থ পাস দেন আমিনাত ফাজলাকে। মার্কার আফঈদাকে পরাস্ত করে বক্সের উপর থেকে শট নেন। মিলি বাঁ দিকে ঝাপিয়েও পারেননি, গ্লাভস ফসকে বল জালে জড়ালে স্তম্ভিত হয়ে পরে বাংলাদেশ শিবির। গোল হজমের পরপর আরও দুই পরিবর্তন করে আক্রমণভাগের শক্তি বাড়ান বাটলার। ৬১ মিনিটে বদলী শাহিদা আক্তার রিপার ক্রসে বদলী স্ট্রাইকার তহুরার হেড বাইরে যায়। তিন মিনিট পর অবশ্য বদলী ফরোয়ার্ড সুরভী আকন্দ প্রীতি দলের নরুদ্ধার করেন। ঋতুর ক্রস কিপারের গ্লাভস ফসকালে প্রীতির ভলি পোস্টে জড়ায়।
বাকী সময় আরও কিছু সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা। তবে যোগ করা সময়ে ঋতুর কর্নারে কোহাতি কিসকু হেডে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
রবিবার গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তার আগে মালদ্বীপের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ে একটা অস্বস্তি থেকেই যাবে। যদিও দু'বছর আগেও এরকম একটা সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। কাঠমান্ডুতে সেবার প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের সঙ্গে ড্র করেছিল বাংলাদেশ। তবে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে ঠিকই গ্রুপ সেরা হয় তারা।
ভারতের সঙ্গে ড্র হলে গ্রুপ সেরা হওয়ার লক্ষ্যপূরণ হবে না বাংলাদেশের। ভারতকে হারালেই তারা সেমিতে পাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ।






