গরুর চামড়া ৪০০, ছাগলেরটা ফ্রি!

ছবি: আগামীর সময়
বরিশালে কোরবানির পশুর চামড়ার অস্বাভাবিক দরপতনে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ ও চামড়া সংগ্রহকারী বিভিন্ন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। প্রত্যাশিত দামের তুলনায় চামড়ার দাম অনেক কম হওয়ায় ব্যবসায়ীদের কাছে চামড়া ফেলে রেখেই চলে গেছেন অনেকেই। একইসঙ্গে ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে আগের বছরের বড় অঙ্কের টাকা না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। তারা জানান, ট্যানারী মালিকদের কাছে গত বছরের ৮০ শতাংশ টাকা এখনও পাওনা।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরের পরপরই ভ্যান, রিকশা ও অটোতে বিভিন্ন জায়গা থেকে চামড়া নিয়ে আসা শুরু হয় নগরীর পোর্ট রোড এলাকায়। সেখানে চামড়া সংগ্রহকারী বিভিন্ন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে মেলে এমন অভিযোগ।
নবগ্রাম রোডের একটি মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা জুবায়ের আব্দুল্লাহ বললেন, ‘তাদের প্রতিষ্ঠান শুরুতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল চামড়া সংগ্রহ করবে না। পরে বাণিজ্য মন্ত্রীর আশ্বাসে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা প্রতি বর্গফুট দরে বিক্রির প্রত্যাশায় তারা চামড়া সংগ্রহে নামে। তবে বাস্তবে প্রতি গরুর চামড়া ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, এ অবস্থায় খরচই ওঠে না।’
তিনি আরও জানান, একজন ছাত্রের পেছনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ হয়। চামড়ার এই দরপতনে পরিবহন খরচও উঠছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বটতলা এলাকার খাজা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের কুদরত আলী বলেছেন, ‘সারাদিন কষ্ট করে কাজ করার পর একটি গরুর চামড়া ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে হলে কোনো লাভ থাকে না। অনেক সময় ছাগলের চামড়া প্রায় বিনামূল্যেই দিতে হচ্ছে।’
পোর্ট রোডের চামড়া ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নাসির মন্তব্য করেন, গত বছরের ২০-২৫ ভাগ টাকা আমরা পেয়েছি। এই কারণে আমাদের ব্যবসা বানিজ্য বন্ধের পথে। ৭টি চামড়া আসলে ১টি রাখি বাকি ৬টা চামড়া ছেড়ে দেই। গরুর চামড়া ৪শ থেকে ৪৫০ টাকা দরে কিনি, আর ছাগলের চামড়ার কোনো দাম নেই। এই চামড়া ২০-৩০দিন পর আমরা ঢাকায় পাঠাবো। টানাটানির মধ্যে ব্যবসা চালাতে হচ্ছে। আগে বরিশালে ব্যবসায়ী ছিল ১৫০-২০০। এখন ব্যবসায়ী আছে ১০-১৫ জন সর্বোচ্চ। ট্যানারী মালিকদের কাছ থেকে টাকা না পেয়ে ব্যবসা বন্ধ করে ফেলেছে অনেকে।
এদিকে ক্রয়কৃত চামড়া পোর্ট রোড থেকে বালুর ঘাটে এনে কীর্তণখোলা নদীতে রক্ত ধুয়ে সেগুলো ট্রলারে করে রসূলপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারপর সেই চামড়াগুলোতে লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।
চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা শ্রমিক আবু বক্কর জানিয়েছেন, গত ৪-৫ বছর ধরেই চামড়ার বাজারের এমন দশা। বছর বছর চামড়া ব্যবসায়ী কমছে, আর আমাদের কাজও কমেছে। চামড়া বিক্রি করতে আসে বহু মানুষ তবে ব্যবসায়ীরা কেনে না। কিনে কী করবে, ট্যানারি মালিকরা তো টাকা দেয় না। আগে যদি বরিশালে ৫০০ শ্রমিক কাজ করতো চামড়া প্রক্রিয়াজাতে, এখন করে সর্বোচ্চ ৩০ জন।






