কোচ হওয়ার আগেই বিতর্কে ডুলি

ক্রিস কোলম্যান নন, বার্নড স্টর্কও নন। শেষ পর্যন্ত জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব পাচ্ছেন মার্কিন থমাস ডুলি। ৬৫ বছর বয়সী কোচ সদ্য গায়ানা দলের দায়িত্ব ছেড়েছেন। ফিলিপাইনে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে এশিয়ার ফুটবল সম্পর্কে ধারণা রাখেন ১৯৯২ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র দলে খেলা সাবেক এই ডিফেন্ডার। বাফুফে তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ঘোষণা করেনি। কিন্তু তার আগেই একদল ফুটবলপ্রেমী উসকে দিচ্ছেন বিতর্ক। তাদের প্রশ্ন— বাজেট থাকা সত্ত্বেও কোলম্যান, স্টর্কের মতো কোচদের কেন বাদ দেওয়া হলো? বৃহস্পতিবার বাফুফে ভবনের সামনে কোচ নিয়োগে টালবাহানা ও বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন একদল তরুণ।
ভক্তদের যুক্তি, সরকার যেখানে কোচ নিয়োগে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে, সেখানে ওয়েলসের সাবেক কোচ কোলম্যানকে বাদ দেওয়া মোটেই ঠিক হয়নি। বাংলাদেশ ফুটবল আলট্রাসের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান অভির যুক্তি, বাজেট এবং সরকারি আশ্বাস পাওয়ার পরও কেন এমন একজন কোচ নেওয়া হবে, যার সর্বশেষ কর্মস্থলে মাসিক বেতন ছিল ৮ হাজার মার্কিন ডলার? তিনি বলেন, ‘প্রথমে কোলম্যানের ব্যাপারে বাফুফে আগ্রহ দেখাল। সরকারের সহায়তায় তারা চাইল এই কোচকে ৩৫-৪০ হাজার ডলারে নিতে। এরপর এমন কী হলো যে তাকে হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হলো? কোলম্যান ছাড়া আরও উঁচু মানের কোচ ছিলেন তালিকায়। তাদের বিবেচনায় না এনে বাফুফে এমন একজনকে আনতে যাচ্ছে যে, গায়ানার কোচ থাকা অবস্থায় মাসে পেতেন ৮ হাজার ডলার। আমাদের কথা হলো, সরকারই যখন ১৫-২০ হাজার ডলার মাসে দিতে সম্মত হয়েছে, বাফুফেরও ১৫ হাজার ডলার দেওয়ার সামর্থ্য আছে, তাহলে কেন তারা নিম্নমানের কোচ আনবে দলের জন্য? আমরা কোনো অবস্থাতেই ডুলিকে কোচ হিসেবে মেনে নেব না। প্রয়োজনে সচিবালয়ের সামনে ভালো কোচের দাবিতে অবস্থান নেব।’
কোলম্যান ছাড়া আরও উঁচু মানের কোচ ছিলেন তালিকায়। তাদের বিবেচনায় না এনে বাফুফে এমন একজনকে আনতে যাচ্ছে যে, গায়ানার কোচ থাকা অবস্থায় মাসে পেতেন ৮ হাজার ডলার -মেহেদী হাসান
ভক্তদের মনে হচ্ছে, ডুলি জাতীয় দলকে অভীষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারবেন না। রাফি ইকবাল নামে ‘রেড অ্যান্ড গ্রিন আর্মি’ ফ্যান বেজের এক সদস্য আক্ষেপ করে বলেন, ‘হামজা চৌধুরী আসার পর দেশের মানুষের মনে যে আশার সঞ্চার হয়েছে, ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে, তাবিথ আউয়াল সেই আগ্রহকে হত্যা করছেন নিম্নমানের কোচ নিয়োগ দিয়ে। তিনি বলেছেন, এজেন্ট মাসিক কমিশন দাবি করায় কোলম্যানের সঙ্গে চুক্তি করেননি। যেখানে সরকার বড় সহায়তা দিতে প্রস্তুত, সেখানে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী এজেন্টের দাবি কেন মেটাবে না বাফুফে? যদি ২-৩ লাখ টাকা তারা দিতে না পারে, আমরা যারা ভক্তরা আছি, প্রয়োজনে ভিক্ষা করে সেই টাকা দিতে প্রস্তুত। অযোগ্যদের দিয়ে কোচ চূড়ান্ত করা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আমরা সবসময় সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি, এখনো করছি। কোচ নিয়ে টালবাহানা, দেশ নিয়ে বাণিজ্য আমরা মানব না।’
ফুটবল ক্যারিয়ারের মতো ডুলির কোচিং ক্যারিয়ারও একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো নয়। দুই দফায় পাঁচ বছর ফিলিপাইন জাতীয় দলের হেড কোচ ছিলেন তিনি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেন কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে। গত বছর সেপ্টেম্বরে প্রবাসী ফুটবলারপুষ্ট গায়ানা জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন। এ বছর মে মাসে নিজেই দায়িত্ব ছাড়েন। এর আগে গায়ানার স্থানীয় ফুটবলারদের সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় লিগ নিয়ে কটাক্ষ করায় দেশীয় ফুটবলাররা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।
গায়ানার ঘরোয়া ফুটবল নিয়ে প্রশ্ন তোলা ডুলি এ দেশের ঘরোয়া লিগের করুণ দশা দেখে কী বলবেন, সেটা সময়ই বলে দেবে। শোনা গেছে, শুক্রবার তিনি ঢাকায় পা রাখবেন দায়িত্ব নিতে। তবে আসার আগেই ডুলিকে নিয়ে শুরু হয়ে গেছে বিতর্ক।
জাতীয় দলের কোচ
যুক্তরাষ্ট্র: ২০১১-২০১৪ (সহকারী কোচ)
ফিলিপাইন: ২০১৪-১৮ ও ২০২২
গায়ানা: ২০২৫-২৬






